০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাসিক উদ্যোগ নিলেও জেলা পরিষদই করছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সোনাদীঘি এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত জায়গায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করতে চায় জেলা পরিষদ। শনিবার দুপুরে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। এ উপলক্ষে একটি সুধি সমাবেশও হয়। এর আগে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভাষাসৈনিক গোলাম আরিফ টিপু।

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনও (রাসিক) এই স্থানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চেয়েছিল। এ জন্য প্রায় ১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে জেলা পরিষদ এখন তাদের এ জায়গায় সিটি করপোরেশনকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে দিতে নারাজ। যদিও জেলা পরিষদের আগের পরিষদ সিটি করপোরেশনকে এটি নির্মাণে সম্মতি দিয়েছিল। জেলা পরিষদ এখন ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায় নিজেরাই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায়।

এরই মধ্যে রাজশাহী জেলা পরিষদ এ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াও শেষ করেছে। শনিবার এ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে সেখানে একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

যদিও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় আগেই। এর আগে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রয়াত প্রধান কৌঁসুলি ও ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু।
ওই সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদর আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। পরে মীর ইকবাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু। হয়েছে। এতে কেউ কেউ বলছেন, দ্বিতীয়বারের মতো রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর বা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন প্রয়াত ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপুর প্রতি অবজ্ঞা বা অশ্রদ্ধা জানানো ছাড়া আর কিছু নয়। একই সঙ্গে এটি বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব মানুষকে অশ্রদ্ধা জানানোর সামিল।

যদিও আজকের সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল বলেন, ভাষাসৈনিক গোলাম আরিফ টিপু ভাই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা এ কাজটি এগিয়ে নিতে চাই। এর আগে জেলা পরিষদের জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল করেছে সিটি করপোরেশন। এবার আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সভাতেই জেলা পরিষদের এ জায়গায় জেলা পরিষদের উদ্যোগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করার সিদ্ধান্ত নেই। শিগগিরই কাজটা শেষ করব। সুধী সমাবেশে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান খায়ের, আইনজীবী সুশান্ত সরকার, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা হাসানসহ আরও অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মা নিজেই নদীতে ফেলার ঘটনা স্বীকার, শিশু জীবিত উদ্ধার

রাসিক উদ্যোগ নিলেও জেলা পরিষদই করছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সোনাদীঘি এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত জায়গায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করতে চায় জেলা পরিষদ। শনিবার দুপুরে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। এ উপলক্ষে একটি সুধি সমাবেশও হয়। এর আগে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভাষাসৈনিক গোলাম আরিফ টিপু।

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনও (রাসিক) এই স্থানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চেয়েছিল। এ জন্য প্রায় ১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে জেলা পরিষদ এখন তাদের এ জায়গায় সিটি করপোরেশনকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে দিতে নারাজ। যদিও জেলা পরিষদের আগের পরিষদ সিটি করপোরেশনকে এটি নির্মাণে সম্মতি দিয়েছিল। জেলা পরিষদ এখন ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায় নিজেরাই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায়।

এরই মধ্যে রাজশাহী জেলা পরিষদ এ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াও শেষ করেছে। শনিবার এ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে সেখানে একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

যদিও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় আগেই। এর আগে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রয়াত প্রধান কৌঁসুলি ও ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু।
ওই সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদর আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। পরে মীর ইকবাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু। হয়েছে। এতে কেউ কেউ বলছেন, দ্বিতীয়বারের মতো রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর বা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন প্রয়াত ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপুর প্রতি অবজ্ঞা বা অশ্রদ্ধা জানানো ছাড়া আর কিছু নয়। একই সঙ্গে এটি বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব মানুষকে অশ্রদ্ধা জানানোর সামিল।

যদিও আজকের সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল বলেন, ভাষাসৈনিক গোলাম আরিফ টিপু ভাই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা এ কাজটি এগিয়ে নিতে চাই। এর আগে জেলা পরিষদের জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল করেছে সিটি করপোরেশন। এবার আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সভাতেই জেলা পরিষদের এ জায়গায় জেলা পরিষদের উদ্যোগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করার সিদ্ধান্ত নেই। শিগগিরই কাজটা শেষ করব। সুধী সমাবেশে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান খায়ের, আইনজীবী সুশান্ত সরকার, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা হাসানসহ আরও অনেকেই বক্তব্য রাখেন।