মালয়েশিয়া প্রবাসীকে প্রেম ও বিয়ের নাটক সাজিয়ে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া তরুণী সুমাইয়া আক্তার রিয়াসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (২৭ মে) যশোরের বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে মামলাটি করেন প্রতারণার শিকার জিয়াউর রহমানের নিকটাত্মীয় আজিজুর রহমান।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন রিয়ার মা যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের আব্দুল কাদের মোল্যার স্ত্রী ফরিদা বেগম ও ঢাকা তুরাগ উত্তরের হরিরামপুর ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিস্টার খালেদুর রহমান।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়া গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে আজিজুর মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালে মণিরামপুরের খালিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে জিয়াউর রহমান জিয়া কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া যান। ওই বছর তার এক বন্ধুর মাধ্যমে যশোর সদরের ভেকুটিয়া গ্রামের কাদের মোল্যার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার রিয়ার সাথে মোবাইলে পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় রিয়া। অপর আসামিদের সহযোগিতায় রিয়া একটি ভুয়া বিয়ের সনদপত্র তৈরি করে জিয়ার কাছে পাঠায়।
এরমধ্যে রিয়া নানা অজুহাতে জিয়ার কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংক বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। রিয়া ফোনে জিয়ার সাথে কথাবার্তা কমিয়ে দেয়। একপর্যায়ে রিয়া অপর আসামিদের সহযোগিতায় অন্যত্র বিয়ে করেছে বলে জানতে পারে জিয়া। এরপর জিয়া বিষয়টি তার আত্মীয়-স্বজনদের জানায়।
জিয়ার স্বজনরা রিয়ার সন্ধান পেয়ে তাকে দেয়া ১৫ লাখ টাকা ফেরত চাইলে না দিয়ে ঘোরাতে থাকে। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে এ মামলাটি করেন।
এদিকে, প্রতারণার শিকার জিয়াউর রহমান মুঠোফোনে জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে রিয়া
আমাকে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে। এভাবে প্রেম ও বিয়ের নাটক সাজিয়ে ৫ বছরে আমার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার যথেষ্ট প্রমাণ আমার কাছে আছে।
বিয়ে ও প্রতারণায় অর্থ হাতানোর কাজে রিয়াকে সহযোগিতা করেছেন মা ফরিদা বেগম, বোন রুবিনা ও ভগ্নিপতি শাওন। তারাও আমার সাথে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন।
রিয়ার খপ্পরে পড়ে এখন সর্বশান্ত বলে জানান জিয়াউর রহমান। তিনি প্রতারক তরুণীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





















