১২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশু জীবনে ধূমপানের থাবা

❖বিশ্বে শিশু ধূমপায়ী ৩ কোটি ৭০ লাখ
❖দেশে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বাড়ছে সংখ্যা
❖ই-ভ্যাপিংয়ের প্রধান টার্গেট শিশু শিক্ষার্থী
❖খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে তামাকজাত পণ্য
❖আইন আছে প্রয়োগ নেই

➤বাংলাদেশের ৪৮ শতাংশ তরুণ-তরুণীই কোম্পানির মূল টার্গেট : এবিএম জুবায়ের
➤শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্ব দিতে হবে : ডা. সামন্ত লাল সেন
➤শিশুরা যেন ধূমপান শুরু করার সুযোগ না পায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে : ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১৩-১৫ বছর বয়সি অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ কিশোর-কিশোরী নিয়মিতভাবে তামাক ব্যবহার করে। বাংলাদেশে মোট কত শিশু ধূমপায়ী তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ সালের ডেটা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের ওপরে ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। এখন ছেলেদের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েদের মধ্যে এ সংখ্যা ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ধূমপানে বিশ্বের মধ্যে আমাদের অবস্থান অষ্টম।

 

আইসিডিডিআর,বি’র ২০১৬ সালের চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৪ জন শিশুই জানিয়েছে তারা ১০ বছর বয়সের আগেই সিগারেটে টান দিয়েছে। এদের মধ্যে ১৫.৮ শতাংশ ছেলে শিশু এবং ৪/৮ শতাংশ মেয়ে শিশু। শিশু ধূমপায়ীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে ভয়ংকর ই-ভ্যাপিং। এর বিক্রেতাদের প্রধান টার্গেট প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিশু শিক্ষার্থী। অবাধে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে তামাকজাত পণ্য (সিগারেট, জর্দা, সাদাপাতা, গুল, ই-ভ্যাপিং পণ্য)। দেশে ধূমপান প্রতিরোধে আইন থাকলেও এর কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে, শিশু সন্তানের সামনেই সিগারেট টানেন বাবা। বিঘ্নিত হচ্ছে শিশুর সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার মানবাধিকার।

 

হু বলছে, শিশুদের ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডে আসক্ত করতে সিগারেট কোম্পানিগুলো নানা ধরনের কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। সুগন্ধিযুক্ত তামাকপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকপণ্য সহজলভ্য করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিব্রেটিদের ব্যবহার করা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং শক্তিশালী আইন ও কর পদক্ষেপের বিরোধিতা করা এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ২১ বছর বয়সের আগেই যারা তামাকে আসক্ত হয়ে পড়ে তাদের মধ্যে নিকোটিন নির্ভরতা এবং আমৃত্যু তামাক ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গ্লোবাল স্কুল-বেজড হেলথ সার্ভে, ২০১৪ (জিএসএইচএস) অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৩-১৫ বছর বয়সি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৯.২ শতাংশ।

 

গবেষকরা বলছেন, শিশুর মধ্যে ধূমপানে আসক্তি তৈরি হলে ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনায় অমনোযোগ, উদ্বেগ, দুঃখবোধ, বেপরোয়া আচরণ প্রকাশ পায়। শিশু ই-সিগারেটে আসক্ত হলে তার মুখ থেকে নিকোটিনের ধোঁয়া বের হয়। তাছাড়া তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-শাসকষ্ট হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি।

 

এদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন প্রতিটা ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ক্ষতি করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তা পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি ধূমপান অধূমপায়ীদের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে বলেন, ধূমপান ও তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ নানা অসংক্রামক রোগ দেখা দেয়। তামাকের কারণে পৃথিবীতে প্রতি বছর ৮৭ লাখ মানুষ অকালে মারা যায়। ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি প্রণয়ন, জাতীয় তামাক করনীতি প্রণয়ন ও বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হয়েছে। তা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

শিশু-কিশোরদের ধূমপান প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তামাকের আগ্রাসন হতে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা প্রদান করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

 

মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়ায় শিশু-নারীসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে রক্ষায় পাবলিক প্লেস ও পরিবহন থেকে ধূমপান এলাকা বাতিলের মাধ্যমে শতভাগ ধূমপান মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিশোর তরুণদের নেশার দিকে ধাবিত করতে তামাক কোম্পানিগুলো অযাচিতভাবে ওটিটি, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও নাটক সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য প্রচার করছে। এগুলো বন্ধ করার প্রস্তাব যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলাধুলার স্থান ইত্যাদি সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় বন্ধ করা এবং লাইসেন্স ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের বাংলাদেশে ছেলেমেয়েরা এডোলেসেন্টকালে ধূমপান শুরু করে। তাদের বয়স তখন ১৫-১৬ বছর থাকে। প্রথমে তারা শখের বসে শুরু করে পরে আসক্ত হয়ে যায়। এখন কথা হচ্ছে, এদের রক্ষা করতে চাইলে এরা যেন ধূমপান শুরু করার সুযোগ না পায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

 

গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান মোট জনগোষ্ঠীর ৪৮ শতাংশই তরুণ-তরুণী এবং এরাই কোম্পানির মূল টার্গেট। আইন শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে তামাক কোম্পানির ছোবল থেকে এই প্রজন্মকে সুরক্ষা প্রদান করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

শিশু জীবনে ধূমপানের থাবা

আপডেট সময় : ০৮:২০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪

❖বিশ্বে শিশু ধূমপায়ী ৩ কোটি ৭০ লাখ
❖দেশে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বাড়ছে সংখ্যা
❖ই-ভ্যাপিংয়ের প্রধান টার্গেট শিশু শিক্ষার্থী
❖খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে তামাকজাত পণ্য
❖আইন আছে প্রয়োগ নেই

➤বাংলাদেশের ৪৮ শতাংশ তরুণ-তরুণীই কোম্পানির মূল টার্গেট : এবিএম জুবায়ের
➤শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্ব দিতে হবে : ডা. সামন্ত লাল সেন
➤শিশুরা যেন ধূমপান শুরু করার সুযোগ না পায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে : ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১৩-১৫ বছর বয়সি অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ কিশোর-কিশোরী নিয়মিতভাবে তামাক ব্যবহার করে। বাংলাদেশে মোট কত শিশু ধূমপায়ী তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ সালের ডেটা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের ওপরে ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। এখন ছেলেদের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েদের মধ্যে এ সংখ্যা ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ধূমপানে বিশ্বের মধ্যে আমাদের অবস্থান অষ্টম।

 

আইসিডিডিআর,বি’র ২০১৬ সালের চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৪ জন শিশুই জানিয়েছে তারা ১০ বছর বয়সের আগেই সিগারেটে টান দিয়েছে। এদের মধ্যে ১৫.৮ শতাংশ ছেলে শিশু এবং ৪/৮ শতাংশ মেয়ে শিশু। শিশু ধূমপায়ীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে ভয়ংকর ই-ভ্যাপিং। এর বিক্রেতাদের প্রধান টার্গেট প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিশু শিক্ষার্থী। অবাধে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে তামাকজাত পণ্য (সিগারেট, জর্দা, সাদাপাতা, গুল, ই-ভ্যাপিং পণ্য)। দেশে ধূমপান প্রতিরোধে আইন থাকলেও এর কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে, শিশু সন্তানের সামনেই সিগারেট টানেন বাবা। বিঘ্নিত হচ্ছে শিশুর সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার মানবাধিকার।

 

হু বলছে, শিশুদের ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডে আসক্ত করতে সিগারেট কোম্পানিগুলো নানা ধরনের কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। সুগন্ধিযুক্ত তামাকপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকপণ্য সহজলভ্য করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিব্রেটিদের ব্যবহার করা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং শক্তিশালী আইন ও কর পদক্ষেপের বিরোধিতা করা এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ২১ বছর বয়সের আগেই যারা তামাকে আসক্ত হয়ে পড়ে তাদের মধ্যে নিকোটিন নির্ভরতা এবং আমৃত্যু তামাক ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গ্লোবাল স্কুল-বেজড হেলথ সার্ভে, ২০১৪ (জিএসএইচএস) অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৩-১৫ বছর বয়সি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৯.২ শতাংশ।

 

গবেষকরা বলছেন, শিশুর মধ্যে ধূমপানে আসক্তি তৈরি হলে ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনায় অমনোযোগ, উদ্বেগ, দুঃখবোধ, বেপরোয়া আচরণ প্রকাশ পায়। শিশু ই-সিগারেটে আসক্ত হলে তার মুখ থেকে নিকোটিনের ধোঁয়া বের হয়। তাছাড়া তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-শাসকষ্ট হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি।

 

এদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন প্রতিটা ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ক্ষতি করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তা পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি ধূমপান অধূমপায়ীদের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে বলেন, ধূমপান ও তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ নানা অসংক্রামক রোগ দেখা দেয়। তামাকের কারণে পৃথিবীতে প্রতি বছর ৮৭ লাখ মানুষ অকালে মারা যায়। ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি প্রণয়ন, জাতীয় তামাক করনীতি প্রণয়ন ও বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হয়েছে। তা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

শিশু-কিশোরদের ধূমপান প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তামাকের আগ্রাসন হতে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা প্রদান করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

 

মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়ায় শিশু-নারীসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে রক্ষায় পাবলিক প্লেস ও পরিবহন থেকে ধূমপান এলাকা বাতিলের মাধ্যমে শতভাগ ধূমপান মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিশোর তরুণদের নেশার দিকে ধাবিত করতে তামাক কোম্পানিগুলো অযাচিতভাবে ওটিটি, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও নাটক সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য প্রচার করছে। এগুলো বন্ধ করার প্রস্তাব যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলাধুলার স্থান ইত্যাদি সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় বন্ধ করা এবং লাইসেন্স ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের বাংলাদেশে ছেলেমেয়েরা এডোলেসেন্টকালে ধূমপান শুরু করে। তাদের বয়স তখন ১৫-১৬ বছর থাকে। প্রথমে তারা শখের বসে শুরু করে পরে আসক্ত হয়ে যায়। এখন কথা হচ্ছে, এদের রক্ষা করতে চাইলে এরা যেন ধূমপান শুরু করার সুযোগ না পায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

 

গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান মোট জনগোষ্ঠীর ৪৮ শতাংশই তরুণ-তরুণী এবং এরাই কোম্পানির মূল টার্গেট। আইন শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে তামাক কোম্পানির ছোবল থেকে এই প্রজন্মকে সুরক্ষা প্রদান করতে হবে।