১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোবাইল আসক্তিতে মেধা হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

➤ লেখাপড়ায় বাড়ছে গুগল-ইউটিউব নির্ভরতা
➤ কমছে মুখস্থ ও মেধাচর্চার আগ্রহ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
➤ শিক্ষাবহির্ভূত কাজে ইন্টারনেটের বেশি ব্যবহার স্কুল শিক্ষার্থীদের
➤ অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

যুক্তির উৎকর্ষতার যুগে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। আর সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহারের অন্যতম মাধ্যম স্মার্টফোন। সবার হাতে হাতে এখন পৌঁছে যাচ্ছে স্মার্টফোন। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি, অবসর সময় কাটানো বা বিনোদনের জন্য বাড়ছে স্মার্টফোনের ব্যবহার। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই ইন্টারনেট ব্যবহারে। পড়ালেখার অজুহাতে বাড়তি খরচ করে অভিভাবকরাই সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ইত্যাদি ডিভাইস। শিক্ষার নামে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে করোনাকালে অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনাসহ বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল স্মার্টফোন। তাই শিক্ষার্থীদের হাতে এ সময় স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী সময়ে এই স্মার্টফোন ব্যবহার একপ্রকার নেশার মতো হয়ে গেছে। স্কুল শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবহির্ভূত কাজেই ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি করছে।

জানা গেছে, বর্তমান নতুন কারিকুলামের পড়ালেখা করতে গিয়েও শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও বেড়েছে। এখন ক্লাস ও পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে গুগল-ইউটিউব নির্ভরতা বেড়েছে শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে যেমন মুখস্থ ও মেধাচর্চার আগ্রহ কমছে, তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেক সময় ভুল তথ্য শিখছে শিক্ষার্থীরা। তারা সমাজ ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাছাড়া মোবাইল-ইন্টারনেটের অপব্যহারের মাধ্যমে নানাভাবে নৈতিক অবক্ষয়ের মুখে পড়ছে সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে শিক্ষার্থীদের যথাসম্ভব মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, প্রয়োজনীয় ব্যবহার নিশ্চিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া এবং ক্লাস ও বইমুখী করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি গণসাক্ষরতা অভিযান প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা মহামারি-উত্তর টেকসই পুনরুত্থান’ শীর্ষক ‘এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন-২০২৩’ এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের ৪১ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এদের বেশিরভাগই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে এই সংখ্যাটি ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রকৃত অবস্থা নির্দেশ করে না। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ১৭ শতাংশ স্কুলের কাজ বা লেখাপড়া সংক্রান্ত কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে পাঁচ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ও নারী ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৪১ দশমিক শূন্য শতাংশ। এরমধ্যে পুরুষ ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও নারী ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া পল্লী অঞ্চলের ৪২ দশমিক এক শতাংশ আর শহরের ৫৭ দশমিক এক শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের অপব্যহারের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শিশুরা হাতে মোবাইল পেলে পড়ালেখার কাজে ব্যবহারের চেয়ে যেদিকে আনন্দ সেদিকেই বেশি যায়। এটা নিয়ে গোটা বিশ^ই চিন্তিত। অনেক বাবা-মা সন্তানদের বায়না এড়াতে হাতে মোবাইল তুলে দেন। এতে তারা কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলে না। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ভালো, কিন্তু ইন্টারনেটসহ স্মার্টফোনের এই প্রযুক্তি শিশুদের জন্য অনেকটা মারণাস্ত্র। এটা তাদের খোঁড়া করে দিচ্ছে। এতে তাদের চরিত্রও নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল দেয়া মোটেও ঠিক না। এতে শিক্ষার্থীরা নৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে হবে এবং তাদেরকে ক্লাসমুখী করতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের চক্ষুবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। কানে কম শুনবে, আর এ বিষয়টি নির্ভর করবে মোবাইল ব্যবহারকারীর ওপর। কারণ সে কানের কতটুকু কাছাকাছি এটি ব্যবহার করে, উচ্চ শব্দে গান শুনে কি না। এ ছাড়াও শারীরিক বিভিন্ন অসংগতি দেখা দেবে। যেমন শরীরের অস্থিসন্ধিগুলোর ক্ষতি হতে পারে। কমে যেতে পারে শুক্রাণু। গবেষকরা জানান, মোবাইল ফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যান্সারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষকলা এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার এড়িয়ে চলবার উপায়ও নেই। তাই এর ব্যবহার অনিবার্য। তবে অপব্যবহার যেন না হয়, দিনকে দিন যাতে ছেলেমেয়েরা এর প্রতি আসক্তি বা ঝুঁকে না পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া খুবই জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

মোবাইল আসক্তিতে মেধা হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

➤ লেখাপড়ায় বাড়ছে গুগল-ইউটিউব নির্ভরতা
➤ কমছে মুখস্থ ও মেধাচর্চার আগ্রহ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
➤ শিক্ষাবহির্ভূত কাজে ইন্টারনেটের বেশি ব্যবহার স্কুল শিক্ষার্থীদের
➤ অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

যুক্তির উৎকর্ষতার যুগে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। আর সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহারের অন্যতম মাধ্যম স্মার্টফোন। সবার হাতে হাতে এখন পৌঁছে যাচ্ছে স্মার্টফোন। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি, অবসর সময় কাটানো বা বিনোদনের জন্য বাড়ছে স্মার্টফোনের ব্যবহার। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই ইন্টারনেট ব্যবহারে। পড়ালেখার অজুহাতে বাড়তি খরচ করে অভিভাবকরাই সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ইত্যাদি ডিভাইস। শিক্ষার নামে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে করোনাকালে অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনাসহ বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল স্মার্টফোন। তাই শিক্ষার্থীদের হাতে এ সময় স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী সময়ে এই স্মার্টফোন ব্যবহার একপ্রকার নেশার মতো হয়ে গেছে। স্কুল শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবহির্ভূত কাজেই ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি করছে।

জানা গেছে, বর্তমান নতুন কারিকুলামের পড়ালেখা করতে গিয়েও শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও বেড়েছে। এখন ক্লাস ও পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে গুগল-ইউটিউব নির্ভরতা বেড়েছে শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে যেমন মুখস্থ ও মেধাচর্চার আগ্রহ কমছে, তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেক সময় ভুল তথ্য শিখছে শিক্ষার্থীরা। তারা সমাজ ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাছাড়া মোবাইল-ইন্টারনেটের অপব্যহারের মাধ্যমে নানাভাবে নৈতিক অবক্ষয়ের মুখে পড়ছে সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে শিক্ষার্থীদের যথাসম্ভব মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, প্রয়োজনীয় ব্যবহার নিশ্চিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া এবং ক্লাস ও বইমুখী করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি গণসাক্ষরতা অভিযান প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা মহামারি-উত্তর টেকসই পুনরুত্থান’ শীর্ষক ‘এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন-২০২৩’ এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের ৪১ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এদের বেশিরভাগই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে এই সংখ্যাটি ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রকৃত অবস্থা নির্দেশ করে না। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ১৭ শতাংশ স্কুলের কাজ বা লেখাপড়া সংক্রান্ত কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে পাঁচ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ও নারী ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৪১ দশমিক শূন্য শতাংশ। এরমধ্যে পুরুষ ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও নারী ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া পল্লী অঞ্চলের ৪২ দশমিক এক শতাংশ আর শহরের ৫৭ দশমিক এক শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের অপব্যহারের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শিশুরা হাতে মোবাইল পেলে পড়ালেখার কাজে ব্যবহারের চেয়ে যেদিকে আনন্দ সেদিকেই বেশি যায়। এটা নিয়ে গোটা বিশ^ই চিন্তিত। অনেক বাবা-মা সন্তানদের বায়না এড়াতে হাতে মোবাইল তুলে দেন। এতে তারা কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলে না। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ভালো, কিন্তু ইন্টারনেটসহ স্মার্টফোনের এই প্রযুক্তি শিশুদের জন্য অনেকটা মারণাস্ত্র। এটা তাদের খোঁড়া করে দিচ্ছে। এতে তাদের চরিত্রও নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল দেয়া মোটেও ঠিক না। এতে শিক্ষার্থীরা নৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে হবে এবং তাদেরকে ক্লাসমুখী করতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের চক্ষুবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। কানে কম শুনবে, আর এ বিষয়টি নির্ভর করবে মোবাইল ব্যবহারকারীর ওপর। কারণ সে কানের কতটুকু কাছাকাছি এটি ব্যবহার করে, উচ্চ শব্দে গান শুনে কি না। এ ছাড়াও শারীরিক বিভিন্ন অসংগতি দেখা দেবে। যেমন শরীরের অস্থিসন্ধিগুলোর ক্ষতি হতে পারে। কমে যেতে পারে শুক্রাণু। গবেষকরা জানান, মোবাইল ফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যান্সারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষকলা এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার এড়িয়ে চলবার উপায়ও নেই। তাই এর ব্যবহার অনিবার্য। তবে অপব্যবহার যেন না হয়, দিনকে দিন যাতে ছেলেমেয়েরা এর প্রতি আসক্তি বা ঝুঁকে না পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া খুবই জরুরি।