এর আগে (২৪ জুন)সোমবার সদর উপজেলার রুপদিয়ার গ্রামীণ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের পর মারা যান নরেন্দ্রপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রিমা। এ ঘটনায় প্রসূতির স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকটি ভাংচুর করেছে। পালিয়ে রক্ষা পান এমবিবিএস ডা. নুরছালী ও তার স্বামী ক্লিনিক মালিক জামাল হোসেন। পরে সিভিল সার্জনের নির্দেশে ক্লিনিকটিকে সিলগালা ও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সূত্র জানায়, কাজল ও রিমা ছাড়াও গত কয়েক মাসে নামমাত্র ক্লিনিক ও হসপিটালে ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা অবহেলায় একাধিক রোগী মারা গেছেন। তারা হলেন যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে রুনা বেগম (২৬), মুড়লি মোড়ের জোড়া মন্দির এলাকার বিপ্লব হোসেনের ছেলে ইরহাম (৪১ দিন), চাঁচড়া মধ্যপাড়ার রবিউল ইসলামের মেয়ে মীম খাতুন (১২), চাঁচড়া মধ্যপাড়ার রবিউল ইসলামের মেয়ে মীম খাতুন (১২), ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের বামন আলী চাপাতলা গ্রামের ড্রাইভার গোলাম রসুলের স্ত্রী আসমা বেগম (৩২) ও মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর আব্দুস সাত্তার মিস্ত্রির ছেলে আব্দুল মান্নান (৪০)। এছাড়া অপচিকিৎসা ও প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, যশোর শহরে সরকারের নির্দেশনা না মেনে নিজেদের ইচ্ছামতো হসপিটাল ও ক্লিনিক গড়ে বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে একটি মহল। না বুঝে মানুষ সেখানে চিকিৎসার জন্য গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। একাধিক নামমাত্র বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবায় ঝুঁকির আশংকা রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য এসে মাশুল গুনতে হচ্ছে রোগী স্বজনদের। চিকিৎসাসেবা নামে প্রতারণা করা যেনো মালিক পক্ষের লক্ষ্য। দালাল নির্ভর অধিকাংশ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মালিকদের উদ্দেশ্য যেনতেন চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা কামানো। অথচ মানসম্মত অপারেশন থিয়েটার (ওটি) রোগ নির্ণয়ের জন্য উন্নতমানের কোন যন্ত্রপাতি নেই। আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হলেও মুহুর্তে ফের কার্যক্রম চালু হয়ে যায়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে অসাধুরা অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান চালু করার সাহস দেখাচ্ছেন।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, দুই প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কোন হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না।




















