০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় গাছের ডালপালার জন্য চালু হচ্ছে না অত্যাধুনিক বিদ্যুৎ লাইন, ভোগান্তিতে গ্রাহক

ভোলায় মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের পাশের গাছের ডালপালার কারণে চালু করা যাচ্ছে না প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যুৎ লাইন। এদিকে এক বছর আগে এ লাইনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বর্তমানে অলস পড়ে আছে। অন্যদিকে ১৯৮৪ সালে নির্মিত ৪০ বছরের পুরাতন লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্রাহকদের। সামন্য বৃস্টি -বাদলেই পুরানত লাইনের বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে যায়। দুর্বল লাইনের কারণে প্রয়োজনীয় লোড নিতে না পারায় দিতে হচ্ছে লোডশেডিং। চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে গ্রাহকদের মুক্তির জন্য অলস পড়ে থাকা নতুন লাইনটি জরুরী ভিত্তিতে সচল করার দাবি গ্রাহকদের। ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টারমিনাল থেকে মাদরাসা বাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইনের তারগুলো গাছের ডালপালার সাথে সাপের মতো পেচিয়ে রয়েছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খাম্বাগুলো ঢেকে গেছে রাস্তার পাশের গাছ গুলো।

ভোলার বোরহানউদ্দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এক বছর আগে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ কেবির ধারণ ক্ষমতার ৪২ কিলোমিটার স ালণ লাইন প্রস্তু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। অত্যাধুনিক স্টান্ডার্ড এ লাইনে ৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোড নিতে পারবে। বর্তমানে এ লাইনের প্রায় ৩৯ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগি অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু জেলা সদরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসটারমিনাল থেকে মাদরাসা বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার স ালণ লাইনের তার গাছের ডালপালায় জড়িয়ে থাকায় লাইনটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে ৪০ বছরের পুরনো লাইনে বোরহানউদ্দিন থেকে বিদ্যুৎ আনতে হচ্ছে।
আলীনগর মাদরাসা বাজার এলাকার গ্রাহক শামসুদ্দিন বলেন,সামান্য একটু বাতাস হলে গাছের ঠালা ভেঙ্গে পরে তারে। এই সুযোগে তখন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘরে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। আমরা দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বি ত হচ্ছি। আমরা আশাকরি দ্রুত গাছগুলো অপসারন করে বিদ্যুৎ এর সমস্যার নিরসন করবে বন বিভাগ।
গ্রহক মাইনুল এহসান বলেন, আমাদের দ্বীপ আমাদের গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সেই বিদ্যুৎ প্রথম দিকে ভালো সেবা পেয়েছি। আজকে এক বছর ধরে আমারা বিদ্যুৎ এর নানা সমস্যায় রয়েছি। সামান্য বাতাস হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। বিদ্যুৎ এর লাইন গুলো গাছের ভিতর দিয়ে যাওয়ার কারনে সামান্য বাতাস হলে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাইনা। তাই বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যার জন্য গাছগুলো দ্রুত অপসারনের দাবি জানাই।
এদিকে অত্যাধুনিক এ লাইনটি চালু না হওয়ায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। আকাশে মেঘ জমলে বা সামান্য বিজলি চমাকালেই পুরনো লাইনটি অচল হয়ে জেলা সদর বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে যায়। পুরনো লাইনে নেয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় লোডও। এতে বেড়েছে লোডশেডিং ও আর বিদ্যুতের যাওয়া আসা অতিষ্ট জেলা সদরের অর্ধলক্ষাধিক গ্রাহক।

চলমান তাপদাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বয়স্ক রোগী ও শিশুদের। বিদ্যুতের এমন দুরবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক। লোকসান গুনতে হচ্ছে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাই দুর্ভোগ লাগবে জরুরী পদক্ষে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এসব গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ওজোপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃইউসুফ জানিয়েছেন, আমাদের রেন্টাল ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্যান্ট বন্ধ হওয়ার কারনে বোরহানউদ্দিন থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছি। তবে লাইন পুরনো হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই নতুন একটি লাইন টানা হয়েছে। সেই লাইনটি বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল থেকে মাদ্রাসা বাজার পর্যন্ত ৩ কি.মি. বন বিভাগের গাছের কারনে চালু করতে পারছিনা। এই গাছ গুলো দ্রুত অপসারন করা গেলে ভোলা শহরে বিদ্যুৎ এর সমস্যা কিছুটা হলেও লাগব করা যাবে।

আর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা,উপকূলীয় বনবিভাগ ভোলা এর কর্মকর্তা ডাঃমো: জহিরুল হক বলেন, বন বিভাগ ওইগাছগুলো অপসারণের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রীর সকল প্রকৃয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান। দ্রুত গাছ গুলো অপসারনের জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে বলে জানান। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলা সদরের সাড়ে ৩৪ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্টটি বিকল হওয়ার পর ৪২ কিলোমিটার দুরের বোরহানউদ্দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না: আখতার হোসেন

ভোলায় গাছের ডালপালার জন্য চালু হচ্ছে না অত্যাধুনিক বিদ্যুৎ লাইন, ভোগান্তিতে গ্রাহক

আপডেট সময় : ০৫:১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

ভোলায় মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের পাশের গাছের ডালপালার কারণে চালু করা যাচ্ছে না প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যুৎ লাইন। এদিকে এক বছর আগে এ লাইনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বর্তমানে অলস পড়ে আছে। অন্যদিকে ১৯৮৪ সালে নির্মিত ৪০ বছরের পুরাতন লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্রাহকদের। সামন্য বৃস্টি -বাদলেই পুরানত লাইনের বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে যায়। দুর্বল লাইনের কারণে প্রয়োজনীয় লোড নিতে না পারায় দিতে হচ্ছে লোডশেডিং। চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে গ্রাহকদের মুক্তির জন্য অলস পড়ে থাকা নতুন লাইনটি জরুরী ভিত্তিতে সচল করার দাবি গ্রাহকদের। ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টারমিনাল থেকে মাদরাসা বাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইনের তারগুলো গাছের ডালপালার সাথে সাপের মতো পেচিয়ে রয়েছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খাম্বাগুলো ঢেকে গেছে রাস্তার পাশের গাছ গুলো।

ভোলার বোরহানউদ্দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এক বছর আগে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ কেবির ধারণ ক্ষমতার ৪২ কিলোমিটার স ালণ লাইন প্রস্তু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। অত্যাধুনিক স্টান্ডার্ড এ লাইনে ৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোড নিতে পারবে। বর্তমানে এ লাইনের প্রায় ৩৯ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগি অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু জেলা সদরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসটারমিনাল থেকে মাদরাসা বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার স ালণ লাইনের তার গাছের ডালপালায় জড়িয়ে থাকায় লাইনটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে ৪০ বছরের পুরনো লাইনে বোরহানউদ্দিন থেকে বিদ্যুৎ আনতে হচ্ছে।
আলীনগর মাদরাসা বাজার এলাকার গ্রাহক শামসুদ্দিন বলেন,সামান্য একটু বাতাস হলে গাছের ঠালা ভেঙ্গে পরে তারে। এই সুযোগে তখন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘরে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। আমরা দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বি ত হচ্ছি। আমরা আশাকরি দ্রুত গাছগুলো অপসারন করে বিদ্যুৎ এর সমস্যার নিরসন করবে বন বিভাগ।
গ্রহক মাইনুল এহসান বলেন, আমাদের দ্বীপ আমাদের গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সেই বিদ্যুৎ প্রথম দিকে ভালো সেবা পেয়েছি। আজকে এক বছর ধরে আমারা বিদ্যুৎ এর নানা সমস্যায় রয়েছি। সামান্য বাতাস হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। বিদ্যুৎ এর লাইন গুলো গাছের ভিতর দিয়ে যাওয়ার কারনে সামান্য বাতাস হলে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাইনা। তাই বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যার জন্য গাছগুলো দ্রুত অপসারনের দাবি জানাই।
এদিকে অত্যাধুনিক এ লাইনটি চালু না হওয়ায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। আকাশে মেঘ জমলে বা সামান্য বিজলি চমাকালেই পুরনো লাইনটি অচল হয়ে জেলা সদর বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে যায়। পুরনো লাইনে নেয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় লোডও। এতে বেড়েছে লোডশেডিং ও আর বিদ্যুতের যাওয়া আসা অতিষ্ট জেলা সদরের অর্ধলক্ষাধিক গ্রাহক।

চলমান তাপদাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বয়স্ক রোগী ও শিশুদের। বিদ্যুতের এমন দুরবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক। লোকসান গুনতে হচ্ছে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাই দুর্ভোগ লাগবে জরুরী পদক্ষে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এসব গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ওজোপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃইউসুফ জানিয়েছেন, আমাদের রেন্টাল ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্যান্ট বন্ধ হওয়ার কারনে বোরহানউদ্দিন থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছি। তবে লাইন পুরনো হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই নতুন একটি লাইন টানা হয়েছে। সেই লাইনটি বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল থেকে মাদ্রাসা বাজার পর্যন্ত ৩ কি.মি. বন বিভাগের গাছের কারনে চালু করতে পারছিনা। এই গাছ গুলো দ্রুত অপসারন করা গেলে ভোলা শহরে বিদ্যুৎ এর সমস্যা কিছুটা হলেও লাগব করা যাবে।

আর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা,উপকূলীয় বনবিভাগ ভোলা এর কর্মকর্তা ডাঃমো: জহিরুল হক বলেন, বন বিভাগ ওইগাছগুলো অপসারণের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রীর সকল প্রকৃয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান। দ্রুত গাছ গুলো অপসারনের জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে বলে জানান। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলা সদরের সাড়ে ৩৪ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্টটি বিকল হওয়ার পর ৪২ কিলোমিটার দুরের বোরহানউদ্দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।