জামালপুরের মাদারগঞ্জে উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুর মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল চলছে। হরতালের সমর্থনে পৌরসভার কাউন্সিলর ও রিমুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হাসানুজ্জামান সাগরের নেতৃত্বে মিছিল করেছে কয়েকশতাধিক কর্মী-সমর্থক। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার বালিজুড়ী বাজার থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বালিজুড়ী বাজার আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
গত সোমবার একটি হত্যা মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুকে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত। কারাগারে প্রেরণের সংবাদ পেয়ে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুর মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ হরতালের আহব্বান করা হয়। সরজমিনে দেখা যায়, হরতালের প্রথমদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এবং মোড়ে ট্রায়ারে আগুন ও গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে উপজেলা চেয়ারম্যান রিমুর কর্মী-সমর্থকরা। বিভিন্ন স্থানে চলছে বিক্ষোভ মিছিল। হরতালের সমর্থনে সকাল থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানপাট, ব্যবসাকেন্দ্র বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যানবাহন চলাচল না করায় পথচারীদের চলাচলে চরম দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।
এবিষয়ে মাদারগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর ও রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হাসানুজ্জামান সাগর বলেন, জনতার চেয়ারম্যান রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুর মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হচ্ছে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এ হরতাল কর্মসূচি চলবে। সাধারণ মানুষ রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুর মুক্তির জন্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশি¬ষ্ট গাড়ি এবং ওষুধের দোকান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।
রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুর কর্মী ও সমর্থকরা অভিযোগ করে বলেন, এজাহারে রিমুর নাম না থাকলেও উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিযোগপত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে আসামি করা হয়। অবিলম্বে রিমুকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, কোথাও অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ এপ্রিল উপজেলার বালিজুড়ী বাজারের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী নওশের আলীর সাথে সংঘর্ষ হয় রায়হান রহমতুল্যাহ রিমুর ছোট ভাই রায়হান কিবরিয়া রিমনের। ওই সংঘর্ষে নওশের আলী গুরুত্বর আহত হয় এবং ৩ মে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ হত্যা মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান রিমুর নাম প্রথমদিকে না থাকলেও ২০২৪ সালে সহকারি পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) সজল কুমার সরকার আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে রায়হান রহমতুল্যাহ রিমু উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নিলেও গত রবিবার এর মেয়াদ শেষ হয় এবং সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন নামঞ্জুর করে রিমুকে কারাগারে প্রেরণ করে।






















