০৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নৌকায় বসবাস করছে মানুষ

বন্যায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

গত চারদিন ধরি নৌকায় খুব কষ্ট করে আছি।ঘরের ভিতর এক গলা পানি।বউ, ছেলে নাতিসহ নৌকায় রান্না করি, নৌকায়  খাই, নৌকায় ঘুমাই।খুব কষ্টে আছি বাহে।এমন দূর্ভোগ আর কষ্টে কথা গুলো বলেছিলেন কুড়িগ্রামের  উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চরগুজিমারী গ্রামের বৃদ্ধ মোঃ শামসুল আলম-আন্জুয়ারা বেগম নামের এক দম্পতি।
দেখা গেছে, উলিপুর উপজেলার চরগুজিমারী গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘর বাড়ি দ ঘর বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।যে যার মত আশ্রয় নিয়েছে উচু বাঁধ কিংবা আশ্রয় কেন্দ্রে। অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঠাই নিয়েছেন স্বজনদের বাড়ি।যাদের যাওয়ার উপায় নেই তারা ঘরের সাথে নৌকা বেঁধে নৌকায় বসবাস করতেছে।তবে বেশি সমস্যা রয়েছে পশু পাখি ও ছোট  বাচ্চাদের নিয়ে।
কথা হয় আঞ্জুয়ারার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বড় ছেলে ও ছেলের বউকে গুচ্ছ গ্রামে রেখে আসছি।গত চারদিন আমার স্বামী,বড় ছেলে ও নাতিরে নিয়ে নৌকায় থাকি।একদিকে বন্যার কষ্ট অন্যদিকে বাড়িতে কেউ না থাকলে ঘরে জিনিস পত্র হারানো বা স্রোতে ভেসে যায়।আশে পাশে কোন উচু জায়গা নেই সেখানে থাকবো। গুজিমারী গ্রামের আসলাম হোসেন বলেন আমার চরের প্রতিটি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ নৌকা, কেউ বা মাচান করে উঁচু স্থানে রয়েছেন। এখানকার প্রতিটা পরিবার খুব কষ্টে আছে।
সাহেবের আলগা চরে আমেনা বেগম বলেন তিন থাকি বাড়িত পানি  কি খামো কি করমো ভেবে পাচ্ছি না হামার ইতি কাউয়ো ত্রাণ দেয় নাই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি আরও ৪৮ ঘন্টা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যন্য নদ নদীর পানি বিপদসীমা নিচে রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, এখন পর্যন্ত বানভাসীদের জন্য ৯ উপজেলায় ১৭৩ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লক্ষ টাকা বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মজুত আছে ৬০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা । যা পর্যায়ক্রমে বিতরন করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না: আখতার হোসেন

নৌকায় বসবাস করছে মানুষ

বন্যায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪
গত চারদিন ধরি নৌকায় খুব কষ্ট করে আছি।ঘরের ভিতর এক গলা পানি।বউ, ছেলে নাতিসহ নৌকায় রান্না করি, নৌকায়  খাই, নৌকায় ঘুমাই।খুব কষ্টে আছি বাহে।এমন দূর্ভোগ আর কষ্টে কথা গুলো বলেছিলেন কুড়িগ্রামের  উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চরগুজিমারী গ্রামের বৃদ্ধ মোঃ শামসুল আলম-আন্জুয়ারা বেগম নামের এক দম্পতি।
দেখা গেছে, উলিপুর উপজেলার চরগুজিমারী গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘর বাড়ি দ ঘর বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।যে যার মত আশ্রয় নিয়েছে উচু বাঁধ কিংবা আশ্রয় কেন্দ্রে। অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঠাই নিয়েছেন স্বজনদের বাড়ি।যাদের যাওয়ার উপায় নেই তারা ঘরের সাথে নৌকা বেঁধে নৌকায় বসবাস করতেছে।তবে বেশি সমস্যা রয়েছে পশু পাখি ও ছোট  বাচ্চাদের নিয়ে।
কথা হয় আঞ্জুয়ারার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বড় ছেলে ও ছেলের বউকে গুচ্ছ গ্রামে রেখে আসছি।গত চারদিন আমার স্বামী,বড় ছেলে ও নাতিরে নিয়ে নৌকায় থাকি।একদিকে বন্যার কষ্ট অন্যদিকে বাড়িতে কেউ না থাকলে ঘরে জিনিস পত্র হারানো বা স্রোতে ভেসে যায়।আশে পাশে কোন উচু জায়গা নেই সেখানে থাকবো। গুজিমারী গ্রামের আসলাম হোসেন বলেন আমার চরের প্রতিটি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ নৌকা, কেউ বা মাচান করে উঁচু স্থানে রয়েছেন। এখানকার প্রতিটা পরিবার খুব কষ্টে আছে।
সাহেবের আলগা চরে আমেনা বেগম বলেন তিন থাকি বাড়িত পানি  কি খামো কি করমো ভেবে পাচ্ছি না হামার ইতি কাউয়ো ত্রাণ দেয় নাই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি আরও ৪৮ ঘন্টা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যন্য নদ নদীর পানি বিপদসীমা নিচে রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, এখন পর্যন্ত বানভাসীদের জন্য ৯ উপজেলায় ১৭৩ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লক্ষ টাকা বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মজুত আছে ৬০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা । যা পর্যায়ক্রমে বিতরন করা হবে।