১২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তীব্র গ্যাস সংকট

তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

► যে পরিমাণ গ্যাস আবাসিকের জন্য বরাদ্দ তা তিতাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করছে না➺ ড. এম শামসুল আলম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
► আমরা গ্যাস আনি না, গ্যাস আনে পেট্রোবাংলা। আমাদের কাজ ডিস্ট্রিবিউশন করা➺ প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ

রাজধানীজুড়ে গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের। তবে এবার তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। পাইপলাইনের গ্যাস রাত ১২টার পর এসে ভোর ৫টায় চলে যায়। সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিনা নোটিসে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ফলে নগরজুড়ে তীব্র কষ্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রাহকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ। খবর নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, নদ্দা ও কুড়িল বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার এসব এলাকার বাসিন্দারা। গ্রাহকদের অভিযোগ, লাইনে গ্যাস থাকুক আর না থাকুক তাদের প্রতিমাসে গ্যাসের বিল গুনতে হয়। তিতাসের এই অন্যায্য খামখেয়ালির পর্যায়ে বললেন যাত্রাবাড়ীর এক গ্রাহক।

যাত্রাবাড়ীর নবীনগর এলাকার বাসিন্দা সজিব হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, কয়েক মাস ধরে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। রান্নাবান্নায় দারুণ বেগ পেতে হচ্ছে। তাই এখন বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হয়েছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হবে প্রতিমাসে অন্তত দুইহাজার টাকা। সেই সঙ্গে তিতাসকে দিতে হবে এক হাজার আশি টাকা।

মুগদা এলাকার এক বাসিন্দা বলছেন, লাইনের গ্যাস বেশিরভাগ সময় থাকে না। গ্যাসের চাপও কম। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। উপায়ান্তর না পেয়ে অনেক সময় হোটেল থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে কামরাঙ্গীরচরে। বিকল্প হিসেবে অনেকে সিলিন্ডারে ঝুঁকছেন। গ্যাস সংকট নিয়ে কথা হলে কামরাঙ্গীরচর এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চুলা জ্বলে না। মাঝে মধ্যে রাইস কুকারে সময় নিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। প্রায়ই হোটেল থেকে ভাত-তরকারি কিনে আনতে হয়। এভাবে তো সব সময় চলা সম্ভব নয়।

কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, অনেক দিন ধরে এ এলাকায় গ্যাসের সমস্যা বিদ্যমান। রাত ১২টায় এসে ভোর ৫টায় চলে যায়। দিনের বেলা গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের চলমান সংকটের জন্য সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবকে দায়ী করছেন তিতাস কর্তৃপক্ষ। রেমালের কারণে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন তথ্য দিয়েছে তারা। প্রায় দুই মাস হয়ে গেলেও সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাদের যথেষ্ট লোকবল নাই। ফলে সংস্কার কাজ প্রলম্বিত হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া বলেন, সব এলাকায় সমস্যা নেই। কিছু কিছু এলাকায় আছে। সাপ্লাই কম থাকায় এমনটা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রেগাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ এখন কম। আশা করছি, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সমস্যার সমাধান হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় একটি টার্মিনাল দিয়ে মাত্র ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ কূপ থেকে আরও ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে কমপক্ষে ৩ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের। ফলে বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

নীরবে অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিচ্ছে গ্যাস সংকট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে দুই হাজার ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। রান্নার চুলা জ্বালাতে না পেরে আবাসিক গ্রাহকরা পড়েছেন বেশি ভোগান্তিতে। পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ও লাকড়ির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

আবার অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। দেশে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার সংখ্যা আট শতাধিক। ডাইং প্রতিষ্ঠান তিন শতাধিক। সবখানেই গ্যাসের সংকট আছে। পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত রপ্তানিমুখী ফেয়ার অ্যাপারেলস লিমিটেডের প্রতিদিন কাপড় উৎপাদনের ক্ষমতা ৩০ টন। এখন উৎপাদন হচ্ছে ১০-১২ টন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ্ গণমাধ্যমে বলেন, গ্যাস সংকট দেশের বিষয়। আমরা তো গ্যাস আনি না, গ্যাস আনে পেট্রোবাংলা। আমাদের কাজ হলো ডিস্ট্রিবিউশন করা।

এ বিষয়ে ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, তিতাস ৬০ ইউনিট গ্যাস বাসাবাড়িতে সরবরাহ করবে এজন্য একটি বিল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিতাস কখনোই এই পরিমাণে গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করেছে বলে দুই দশক ধরে সেই প্রমাণ নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

তীব্র গ্যাস সংকট

তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

► যে পরিমাণ গ্যাস আবাসিকের জন্য বরাদ্দ তা তিতাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করছে না➺ ড. এম শামসুল আলম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
► আমরা গ্যাস আনি না, গ্যাস আনে পেট্রোবাংলা। আমাদের কাজ ডিস্ট্রিবিউশন করা➺ প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ

রাজধানীজুড়ে গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের। তবে এবার তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। পাইপলাইনের গ্যাস রাত ১২টার পর এসে ভোর ৫টায় চলে যায়। সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিনা নোটিসে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ফলে নগরজুড়ে তীব্র কষ্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রাহকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ। খবর নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, নদ্দা ও কুড়িল বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার এসব এলাকার বাসিন্দারা। গ্রাহকদের অভিযোগ, লাইনে গ্যাস থাকুক আর না থাকুক তাদের প্রতিমাসে গ্যাসের বিল গুনতে হয়। তিতাসের এই অন্যায্য খামখেয়ালির পর্যায়ে বললেন যাত্রাবাড়ীর এক গ্রাহক।

যাত্রাবাড়ীর নবীনগর এলাকার বাসিন্দা সজিব হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, কয়েক মাস ধরে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। রান্নাবান্নায় দারুণ বেগ পেতে হচ্ছে। তাই এখন বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হয়েছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হবে প্রতিমাসে অন্তত দুইহাজার টাকা। সেই সঙ্গে তিতাসকে দিতে হবে এক হাজার আশি টাকা।

মুগদা এলাকার এক বাসিন্দা বলছেন, লাইনের গ্যাস বেশিরভাগ সময় থাকে না। গ্যাসের চাপও কম। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। উপায়ান্তর না পেয়ে অনেক সময় হোটেল থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে কামরাঙ্গীরচরে। বিকল্প হিসেবে অনেকে সিলিন্ডারে ঝুঁকছেন। গ্যাস সংকট নিয়ে কথা হলে কামরাঙ্গীরচর এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চুলা জ্বলে না। মাঝে মধ্যে রাইস কুকারে সময় নিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। প্রায়ই হোটেল থেকে ভাত-তরকারি কিনে আনতে হয়। এভাবে তো সব সময় চলা সম্ভব নয়।

কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, অনেক দিন ধরে এ এলাকায় গ্যাসের সমস্যা বিদ্যমান। রাত ১২টায় এসে ভোর ৫টায় চলে যায়। দিনের বেলা গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের চলমান সংকটের জন্য সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবকে দায়ী করছেন তিতাস কর্তৃপক্ষ। রেমালের কারণে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন তথ্য দিয়েছে তারা। প্রায় দুই মাস হয়ে গেলেও সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাদের যথেষ্ট লোকবল নাই। ফলে সংস্কার কাজ প্রলম্বিত হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া বলেন, সব এলাকায় সমস্যা নেই। কিছু কিছু এলাকায় আছে। সাপ্লাই কম থাকায় এমনটা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রেগাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ এখন কম। আশা করছি, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সমস্যার সমাধান হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় একটি টার্মিনাল দিয়ে মাত্র ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ কূপ থেকে আরও ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে কমপক্ষে ৩ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের। ফলে বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

নীরবে অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিচ্ছে গ্যাস সংকট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে দুই হাজার ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। রান্নার চুলা জ্বালাতে না পেরে আবাসিক গ্রাহকরা পড়েছেন বেশি ভোগান্তিতে। পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ও লাকড়ির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

আবার অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। দেশে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার সংখ্যা আট শতাধিক। ডাইং প্রতিষ্ঠান তিন শতাধিক। সবখানেই গ্যাসের সংকট আছে। পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত রপ্তানিমুখী ফেয়ার অ্যাপারেলস লিমিটেডের প্রতিদিন কাপড় উৎপাদনের ক্ষমতা ৩০ টন। এখন উৎপাদন হচ্ছে ১০-১২ টন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ্ গণমাধ্যমে বলেন, গ্যাস সংকট দেশের বিষয়। আমরা তো গ্যাস আনি না, গ্যাস আনে পেট্রোবাংলা। আমাদের কাজ হলো ডিস্ট্রিবিউশন করা।

এ বিষয়ে ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, তিতাস ৬০ ইউনিট গ্যাস বাসাবাড়িতে সরবরাহ করবে এজন্য একটি বিল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিতাস কখনোই এই পরিমাণে গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করেছে বলে দুই দশক ধরে সেই প্রমাণ নেই।