০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৪৬ হাজার কোম্পানি বন্ধ, পতনের মুখে ইসরায়েল!

✦ নেতানিয়াহুর সমালোচনার কড়া জবাব ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের
✦ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১৫ নারী-শিশু নিহত

ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে একটি পতনশীল সরকার হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম মা’রিভ। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, গাজায় আগ্রাসন চালাতে গিয়ে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়েছে এবং অধিকৃত অঞ্চল গাজায় ৪৬ হাজার ইসরায়েলি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। আল মায়াদিনসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইসরায়েলের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি কোফেস বিডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ইওয়েল আমির গত বুধবার মা’রিভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, গাজা যুদ্ধ শুরু থেকে অধিকৃত অঞ্চলে ৭৭ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৫ হাজার ছিল ছোট আকারের; যেগুলো সর্বোচ্চ পাঁচজন কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত হত। এমনকি চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬০ হাজার ইসরায়েলি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কোফেস বিডিআইর সিইও।
ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে মেহের নিউজ জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধের ফলে দখলকৃত অঞ্চলের বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাত বিশেষ করে শিল্প, পর্যটন, কৃষি ও সেবা খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অঞ্চলগুলোতে এখন বিদেশি পর্যটক নেই বললেই চলে। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো খুব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ শ্রমের ঘাটতি, বিক্রয় হ্রাস, সুদের উচ্চ হার, পরিবহন ও কারিগরি সমস্যা, কাঁচামালের ঘাটতি এবং যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে কৃষি জমিতে প্রবেশাধিকারের ঝুঁকি এবং সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অধিগ্রহণ খরচ।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দখল করা ভূখণ্ডে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা স্থানীয় ব্যবসাকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ এসব হামলার কারণে হাজার হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনকারীকে তাদের বসতি সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে লেবাননের সঙ্গে যে কোনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ইসরায়েলের অর্থনীতিকে পতনের অতল গহ্বরে নিয়ে যাবে বলেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মারিভের প্রতিবেদন অনুসারে, হিজবুল্লাহ সম্প্রতি তাদের হুদহুদ ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামো, যেমন- তেল শোধনাগার এবং গ্যাস ট্যাঙ্কগুলোতে যে কোনো সময় আক্রমণ করতে পারে। অন্যদিকে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী ও হুথিদের নৌ-অভিযানও ইসরায়েলের অর্থনীতি ধ্বংসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসরায়েলি সূত্র মতে, হুথিদের হামলার ফলে দেশটির প্রধান বন্দর ইলাতের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নেতানিয়াহুর সমালোচনার জবাব দিলেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হ্যালেভি বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানে কীভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে কার্যকর করতে হয় এবং যুদ্ধবিরতির পর কীভাবে যুদ্ধের ময়দানে ফিরে আসতে হয়। ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের হামলা অব্যাহত রাখবে। এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলতেই থাকবে। ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির চুক্তি হলো তাদের জীবন রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ।
গত রোববার ইসরায়েলের পালমাচিম বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহুর গত শনিবার রাতে সেনাবাহিনীর সমালোচনার জবাবে এই বক্তব্য দেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার সঙ্গে জিম্মি মুক্তির চুক্তি কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সেনাপ্রধান হ্যালেভি জানান, সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তি কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবরের ঘটনার জন্য দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করবেন যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণের পর। আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে কাজ করছি। আমার লক্ষ্য একটাই, দায়িত্ব পালন করা। ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের ওপর সর্বাত্মক চাপ প্রয়োগ করছে যেন তারা পণবন্দি মুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। একটি চুক্তির জন্য ইসরায়েলি বাহিনী সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আলোচিত হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১৫ নারী-শিশু নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে একটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ওই স্কুলটিতে ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। গতকাল গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, নুসেইরাত ক্যাম্পে জাতিসংঘ পরিচালিত আবু আরবান সাইটে এই হামলা ঘটে। এটি গত আট দিনে স্কুল-আশ্রয় কেন্দ্রে ইসরায়েলের পঞ্চম হামলা। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, আবু আরবান স্কুলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত লোক আশ্রয় নিয়েছিল। হামলায় নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী নুসেইরাতের ইউএনআরডব্লিউএ এর আবু আরবান স্কুল ভবনের এলাকায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, ভবনটি ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর আক্রমণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এএফপি টিভির ছবিতে দেখা গেছে, তিন তলা কমপ্লেক্সটির রেলিংয়ের ওপরে কাপড় ও বিছানা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং জাতিসংঘের লোগো সম্বলিত একটি দেয়ালও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেতরের ঘরগুলোও গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে লাগবে ১৫ বছর, ব্যয় ৭ হাজার কোটি টাকা
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে গেলে সময় লাগবে ১৫ বছর। প্রতিদিন যদি ১০০ টিরও বেশি লরি এই ধ্বংসস্তূপ-আবর্জনা সরানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, তার পরও এই সময় লাগবে। এ কাজে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম গত জুন মাসে এবিষয়ক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদন মূলত গাজাকে নতুন করে গড়ে তুলতে গেলে কতটা সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হবে তারই ওপর আলোকপাত করেছে। ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমি প্রয়োজন পড়বে। এর আগে, গত মে মাসে জাতিসংঘের আরেক সংস্থা ইউএন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম জানিয়েছিল, সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলেও গাজা পুনর্গঠনে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। এবং এই পুনর্গঠনে ব্যয় হবে ৪০ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন গাজার এতটাই ক্ষতি করেছে যে, অঞ্চলটির স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সম্পদ খাতে ৪০ বছরের অর্জন স্রেফ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

৪৬ হাজার কোম্পানি বন্ধ, পতনের মুখে ইসরায়েল!

আপডেট সময় : ০৯:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪

✦ নেতানিয়াহুর সমালোচনার কড়া জবাব ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের
✦ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১৫ নারী-শিশু নিহত

ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে একটি পতনশীল সরকার হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম মা’রিভ। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, গাজায় আগ্রাসন চালাতে গিয়ে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়েছে এবং অধিকৃত অঞ্চল গাজায় ৪৬ হাজার ইসরায়েলি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। আল মায়াদিনসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইসরায়েলের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি কোফেস বিডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ইওয়েল আমির গত বুধবার মা’রিভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, গাজা যুদ্ধ শুরু থেকে অধিকৃত অঞ্চলে ৭৭ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৫ হাজার ছিল ছোট আকারের; যেগুলো সর্বোচ্চ পাঁচজন কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত হত। এমনকি চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬০ হাজার ইসরায়েলি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কোফেস বিডিআইর সিইও।
ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে মেহের নিউজ জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধের ফলে দখলকৃত অঞ্চলের বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাত বিশেষ করে শিল্প, পর্যটন, কৃষি ও সেবা খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অঞ্চলগুলোতে এখন বিদেশি পর্যটক নেই বললেই চলে। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো খুব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ শ্রমের ঘাটতি, বিক্রয় হ্রাস, সুদের উচ্চ হার, পরিবহন ও কারিগরি সমস্যা, কাঁচামালের ঘাটতি এবং যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে কৃষি জমিতে প্রবেশাধিকারের ঝুঁকি এবং সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অধিগ্রহণ খরচ।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দখল করা ভূখণ্ডে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা স্থানীয় ব্যবসাকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ এসব হামলার কারণে হাজার হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনকারীকে তাদের বসতি সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে লেবাননের সঙ্গে যে কোনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ইসরায়েলের অর্থনীতিকে পতনের অতল গহ্বরে নিয়ে যাবে বলেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মারিভের প্রতিবেদন অনুসারে, হিজবুল্লাহ সম্প্রতি তাদের হুদহুদ ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামো, যেমন- তেল শোধনাগার এবং গ্যাস ট্যাঙ্কগুলোতে যে কোনো সময় আক্রমণ করতে পারে। অন্যদিকে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী ও হুথিদের নৌ-অভিযানও ইসরায়েলের অর্থনীতি ধ্বংসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসরায়েলি সূত্র মতে, হুথিদের হামলার ফলে দেশটির প্রধান বন্দর ইলাতের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নেতানিয়াহুর সমালোচনার জবাব দিলেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হ্যালেভি বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানে কীভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে কার্যকর করতে হয় এবং যুদ্ধবিরতির পর কীভাবে যুদ্ধের ময়দানে ফিরে আসতে হয়। ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের হামলা অব্যাহত রাখবে। এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলতেই থাকবে। ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির চুক্তি হলো তাদের জীবন রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ।
গত রোববার ইসরায়েলের পালমাচিম বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহুর গত শনিবার রাতে সেনাবাহিনীর সমালোচনার জবাবে এই বক্তব্য দেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার সঙ্গে জিম্মি মুক্তির চুক্তি কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সেনাপ্রধান হ্যালেভি জানান, সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তি কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবরের ঘটনার জন্য দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করবেন যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণের পর। আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে কাজ করছি। আমার লক্ষ্য একটাই, দায়িত্ব পালন করা। ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের ওপর সর্বাত্মক চাপ প্রয়োগ করছে যেন তারা পণবন্দি মুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। একটি চুক্তির জন্য ইসরায়েলি বাহিনী সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আলোচিত হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১৫ নারী-শিশু নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে একটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ওই স্কুলটিতে ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। গতকাল গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, নুসেইরাত ক্যাম্পে জাতিসংঘ পরিচালিত আবু আরবান সাইটে এই হামলা ঘটে। এটি গত আট দিনে স্কুল-আশ্রয় কেন্দ্রে ইসরায়েলের পঞ্চম হামলা। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, আবু আরবান স্কুলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত লোক আশ্রয় নিয়েছিল। হামলায় নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী নুসেইরাতের ইউএনআরডব্লিউএ এর আবু আরবান স্কুল ভবনের এলাকায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, ভবনটি ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর আক্রমণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এএফপি টিভির ছবিতে দেখা গেছে, তিন তলা কমপ্লেক্সটির রেলিংয়ের ওপরে কাপড় ও বিছানা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং জাতিসংঘের লোগো সম্বলিত একটি দেয়ালও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেতরের ঘরগুলোও গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে লাগবে ১৫ বছর, ব্যয় ৭ হাজার কোটি টাকা
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে গেলে সময় লাগবে ১৫ বছর। প্রতিদিন যদি ১০০ টিরও বেশি লরি এই ধ্বংসস্তূপ-আবর্জনা সরানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, তার পরও এই সময় লাগবে। এ কাজে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম গত জুন মাসে এবিষয়ক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদন মূলত গাজাকে নতুন করে গড়ে তুলতে গেলে কতটা সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হবে তারই ওপর আলোকপাত করেছে। ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমি প্রয়োজন পড়বে। এর আগে, গত মে মাসে জাতিসংঘের আরেক সংস্থা ইউএন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম জানিয়েছিল, সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলেও গাজা পুনর্গঠনে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। এবং এই পুনর্গঠনে ব্যয় হবে ৪০ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন গাজার এতটাই ক্ষতি করেছে যে, অঞ্চলটির স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সম্পদ খাতে ৪০ বছরের অর্জন স্রেফ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।