১২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কোটা সংস্কার আন্দোলন

১৬ শিশু নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত-ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

 ➥ঝুলে গেল গুলি না চালানোর রিটের শুনানি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ১৬ শিশু নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়েছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টে এ রিট করা হয়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এফএম মাসুদ হোসেন দোলন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী তৈইমুর আলম খন্দকার। এদিকে বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় ঝুলে গেল আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর রিটের শুনানি। তবে এ শুনানি কবে নাগাদ শুনানি ও আদেশ হবে তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গতকাল আদালত সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়কের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি ও আদেশের জন্য গতকাল বুধবার দিন ধার্য ছিল। এ দিন বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এ শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই হাইকোর্টের এই বেঞ্চে আইনজীবী ও সাংবাদিকরা ভিড় করতে থাকেন। পরে জানানো হয়, বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে আছেন। এ কারণে ডিভিশন বেঞ্চ বসছেন না। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান পান্না, ব্যারিস্টার অনীক আর হক, অ্যাডভোকেট মানজুর আল মতিন প্রীতম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মেহেদী হাছান চৌধুরী। এর আগে গত ২৯ ও ৩০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়কের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি হয়। এরও আগে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়কের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন প্রীতম ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা লিপি এ রিট দায়ের করেছেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, সেনাবাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ১৬ শিশু নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়েছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টে এ রিট করা হয়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এফএম মাসুদ হোসেন দোলন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী তৈইমুর আলম খন্দকার। রিটে প্রত্যেক শিশুর মৃত্যু ঘটনায় বিচার-বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক শিশুর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ‘ফুল হয়ে ফোটার আগেই ঝরল ওরা’ শিরোনামে গত ২৯ শে জুলাই দৈনিক সমকালে প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদটি রিট আবেদনের যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সমকালকে জানিয়েছেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ গতকাল বসেনি। আজ বৃহস্পতিবার আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করব। আইনজীবী তৈমুর বলেন, কোটা আন্দোলনে অংশ না নিয়েও ঘরে থেকে কেন শিশুরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেল? একই সঙ্গে জাতিসংঘের শিশু আইনের বাস্তবায়ন না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিটকারী।

জনপ্রিয় সংবাদ

আপিল শুনানির অষ্টম দিনে ৪৫ আবেদন মঞ্জুর করল ইসি

কোটা সংস্কার আন্দোলন

১৬ শিশু নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত-ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

আপডেট সময় : ০৮:২৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪

 ➥ঝুলে গেল গুলি না চালানোর রিটের শুনানি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ১৬ শিশু নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়েছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টে এ রিট করা হয়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এফএম মাসুদ হোসেন দোলন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী তৈইমুর আলম খন্দকার। এদিকে বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় ঝুলে গেল আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর রিটের শুনানি। তবে এ শুনানি কবে নাগাদ শুনানি ও আদেশ হবে তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গতকাল আদালত সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়কের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি ও আদেশের জন্য গতকাল বুধবার দিন ধার্য ছিল। এ দিন বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এ শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই হাইকোর্টের এই বেঞ্চে আইনজীবী ও সাংবাদিকরা ভিড় করতে থাকেন। পরে জানানো হয়, বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে আছেন। এ কারণে ডিভিশন বেঞ্চ বসছেন না। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান পান্না, ব্যারিস্টার অনীক আর হক, অ্যাডভোকেট মানজুর আল মতিন প্রীতম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মেহেদী হাছান চৌধুরী। এর আগে গত ২৯ ও ৩০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়কের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি হয়। এরও আগে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়কের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন প্রীতম ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা লিপি এ রিট দায়ের করেছেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, সেনাবাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ১৬ শিশু নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়েছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টে এ রিট করা হয়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এফএম মাসুদ হোসেন দোলন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী তৈইমুর আলম খন্দকার। রিটে প্রত্যেক শিশুর মৃত্যু ঘটনায় বিচার-বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক শিশুর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ‘ফুল হয়ে ফোটার আগেই ঝরল ওরা’ শিরোনামে গত ২৯ শে জুলাই দৈনিক সমকালে প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদটি রিট আবেদনের যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সমকালকে জানিয়েছেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ গতকাল বসেনি। আজ বৃহস্পতিবার আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করব। আইনজীবী তৈমুর বলেন, কোটা আন্দোলনে অংশ না নিয়েও ঘরে থেকে কেন শিশুরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেল? একই সঙ্গে জাতিসংঘের শিশু আইনের বাস্তবায়ন না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিটকারী।