০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বস্তায় আদা চাষে কৃষক ইব্রাহিমের সাফল্য

আদা খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেটফাঁপা সমস্যা দূর হয়। বমি এবং বমিভাব দূর হয়। আদা খেলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়। মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে এই আদা। এছাড়া রান্নায় সুস্বাদু এক অনন্য মশলা হিসেবে সমাদৃত এই আদা। আদা ছাড়া রান্নার সঠিক স্বাদ বা ঘ্রাণ কোনোটায় আসে না। আর সেই আদা এখন বাণিজ্যিকভাবে বস্তা পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। এই চাষ পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন অতি বৃষ্টি, খরাসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই আদার ক্ষতি করতে পারে না। দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায় এবং পরিচর্যা করা যায়।
কৃষি খাতে আধুনিকতার প্রসার ঘটায় বর্তমান সময়ে বাড়ির উঠান কিংবা পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষে ঝুঁকছে চাষিরা। অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় সাথী ফসল হিসেবে বস্তায় আদা চাষ করছেন অনেক চাষিরা। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১৫ হাজার ২২০টি বস্তায় ৩০ হেক্টর জমিতে আদার চাষ করা হয়েছে।
বস্তায় আদা চাষে প্রথমে মাটি, বালু, গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করতে হয়। আদার কন্দ লাগানোর আগে পানিতে ছত্রাকনাশক মিশিয়ে আদার কন্দ শোধন করে নিতে হবে। শোধনের পর কন্দগুলো আধা ঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হয়। পরে প্রস্তুতকৃত টবে বা বস্তায় তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। বাড়ির উঠান বা আশপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যে কোনো জায়গায় এসব বস্তা রাখা যায়। ২২ থেকে ২৫ দিন পর গাছ বের হবে। প্রতি বস্তায় আদা রোপণ থেকে পরিপক্ব হতে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মতো খরচ হয়। শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের চন্নাপাড়া এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা হাজী ইব্রাহিম খান এ বছর ১ হাজার ৮০০ বস্তায় আদার চাষ করেছেন।
ইব্রাহিম খান বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, আমার ধারণা প্রতি বস্তায় ২ থেকে ৩ কেজি আদা পাবো। অল্প খরচে অধিক লাভ হবে। আগামী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে আদার চাষ করবো।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, শ্রীপুরে বস্তা পদ্ধতি অবলম্বন করে বেশ কিছু কৃষক আদার চাষ করছেন। এই পদ্ধতিতে আদার মাটিবাহী রোগের আক্রমণ কম হয় এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়, এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষে আলাদা জমির পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

বস্তায় আদা চাষে কৃষক ইব্রাহিমের সাফল্য

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অগাস্ট ২০২৪

আদা খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেটফাঁপা সমস্যা দূর হয়। বমি এবং বমিভাব দূর হয়। আদা খেলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়। মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে এই আদা। এছাড়া রান্নায় সুস্বাদু এক অনন্য মশলা হিসেবে সমাদৃত এই আদা। আদা ছাড়া রান্নার সঠিক স্বাদ বা ঘ্রাণ কোনোটায় আসে না। আর সেই আদা এখন বাণিজ্যিকভাবে বস্তা পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। এই চাষ পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন অতি বৃষ্টি, খরাসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই আদার ক্ষতি করতে পারে না। দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায় এবং পরিচর্যা করা যায়।
কৃষি খাতে আধুনিকতার প্রসার ঘটায় বর্তমান সময়ে বাড়ির উঠান কিংবা পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষে ঝুঁকছে চাষিরা। অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় সাথী ফসল হিসেবে বস্তায় আদা চাষ করছেন অনেক চাষিরা। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১৫ হাজার ২২০টি বস্তায় ৩০ হেক্টর জমিতে আদার চাষ করা হয়েছে।
বস্তায় আদা চাষে প্রথমে মাটি, বালু, গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করতে হয়। আদার কন্দ লাগানোর আগে পানিতে ছত্রাকনাশক মিশিয়ে আদার কন্দ শোধন করে নিতে হবে। শোধনের পর কন্দগুলো আধা ঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হয়। পরে প্রস্তুতকৃত টবে বা বস্তায় তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। বাড়ির উঠান বা আশপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যে কোনো জায়গায় এসব বস্তা রাখা যায়। ২২ থেকে ২৫ দিন পর গাছ বের হবে। প্রতি বস্তায় আদা রোপণ থেকে পরিপক্ব হতে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মতো খরচ হয়। শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের চন্নাপাড়া এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা হাজী ইব্রাহিম খান এ বছর ১ হাজার ৮০০ বস্তায় আদার চাষ করেছেন।
ইব্রাহিম খান বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, আমার ধারণা প্রতি বস্তায় ২ থেকে ৩ কেজি আদা পাবো। অল্প খরচে অধিক লাভ হবে। আগামী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে আদার চাষ করবো।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, শ্রীপুরে বস্তা পদ্ধতি অবলম্বন করে বেশ কিছু কৃষক আদার চাষ করছেন। এই পদ্ধতিতে আদার মাটিবাহী রোগের আক্রমণ কম হয় এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়, এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষে আলাদা জমির পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।