ঢাকা জেলার সাভার ও আশুলিয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষদের লক্ষ্য করে পুলিশের উপর্যুপুরি গুলিতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নারী সহ ১০ জন মারা গেছেন । আহতদের মধ্যে জাতীয় দৈনিক দেশরুপান্তর পত্রিকার আশুলিয়া প্রতিনিধি লোকমান হোসেন খোকা চৌধুরী, সাংবাদিক এনামুল হকসহ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দুই শতাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে । আহতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে ধামরাই থানায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও জনতা।
প্রতক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায় ৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকালে সাভার থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় থানার সামনে থাকা বিভিন্ন যানবাহন ও ভবনে আগুন দেওয়া হয়। সাভার থানার দিকে অগ্রসরমান হাজারও বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে পুলিশ উপর্যুপরি গুলি ছুড়তে থাকলে পুলিশের গুলিকে উপেক্ষা করে ধাওয়া দিলে নিহতদের সংখ্যা বেড়ে যায় আহতদের সংখ্যাও।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশুলিয়া থানার বাইপাইল থেকে সাভার থানা রোড পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে । পড়ে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আশুলিয়া থানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে তাদের উপর উপুর্যপুরি গুলি ছোড়ে এতে ঘটনাস্হলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরন করেন মাছ ব্যবসায়ী রমজান (৪০)সহ দুইজন।
সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ ও ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপুরে আন্দোলনকারীরা ঢাকার দিকে অগ্রসর হলে সাভার বাজারের বাসস্ট্যান্ডে সূচনা হয় সংঘর্ষের।
এতে গুলিবিদ্ধ হন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক সৈয়দ হাসিবুন্নবীসহ তিন শতাধিক। এদের মধ্যে এক তরুণীসহ তিনজন মারা যান এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটলে ক্ষুব্ধ জনতাও তাদের ধাওয়া করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে থানা রোডের পুলিশ হাউজিংয়ের বহুতল ভবনে আশ্রয় নিলে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় জনতাকে লক্ষ্য করে ভবনের ওপর থেকে গুলি ছোড়া হলে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে গুলির মুখেই ওই ভবনে উঠে পড়ে। এ সময় উপর্যুপরি গুলিতে মারা যান আরও ৫ জন। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ জনতার আরেকটি অংশ থানা অভিমুখে অগ্রসর হলে সেখান থেকে গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্রোতের মতো গুলিবিদ্ধরা আসতে থাকেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ আশেপাশের হাসপাতাল গুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে । এর মধ্যে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেড় শতাধিক গুলিবিদ্ধ মানুষকে একযোগে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে।
ধামরাই থানা পুড়িয়ে দেওয়া ও সাভার থানায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
সাভার থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সেটা না পেয়ে এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি ট্রাকে করে পালিয়ে যান সাভার মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তারা।
সবুজ বাংলা’র স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী মানু’কে একাধিক সুত্র জানায়, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল আলম সমর, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ টিপুর বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ আন্দোলন কারীরা।
৫ই আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভার মডেল থানার ৪০-৫০ জন পুলিশ ১২টি গাড়িতে করে সাভার থেকে শিমুলতলা হয়ে উত্তর দিকে চলে যায়। এ সময় তারা আন্দোলন কারীদের লক্ষ করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করেও গুলিবর্ষন করতে থাকে, এতে কতজন হতাহত হয়েছেন তার সঠিক সংখ্যা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। তবে তিন থানা ভাঙচুরের পর ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই জুড়ে। বিভিন্ন মাধ্যমে ২৫ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়।























