১১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত মোহাম্মদ নাজিম আহমেদ

নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলার ২০ বছরের তরুণ মোহাম্মদ নাজিম আহমেদ। এই বছর সে বারহাট্টা সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। কিছুদিন আগে পরিবারের হাল ধরার জন্য টঙ্গীতে গিয়েছিল মায়ের কাছে।
গত ৫ আগস্ট সোমবার খাবার খেয়ে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে যোগ দিতে বের হয় নাজিম।তখন আনুমানিক বিকাল ২ টায় টঙ্গী এলাকায় পুলিশের গুলিতে মারা যায় সে।
আজ ৬ আগস্ট সকাল ৯ টায় নাজিমের  জানাজার নামাজ নেত্রকোনার বারহাট্টায় চিরাম তাহেরা মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভাটগাও গ্রামে নিজ বসত ঘরের উঠানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নাজিমের ছোট চাচা জসিমউদদীন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন পুলিশ আমার ভাতিজা কে গুলি করে মেরে ফেললো। কি দোষ করেছিল আমার ভাতিজা।
নাজিমের বোন জামাই কাউচার আহমেদ বলেন সে খাওয়া ধাওয়া করে তার বন্ধু দের সাথে লংমার্চ এ যোগ দিতে টঙ্গী এলাকায় অবস্থান করছিল। হটাৎ পুলিশের একটি গুলি তার বাম চোখে আঘাত এনে পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালাটেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পর ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর সন্ধায় ৭ ঘটিকায় সেখান থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নাজিমের বাবা রুস্তম হাওলাদার খুবই দরিদ্র। টিন বাঁশের  ছোট একটা  ভাঙ্গাচোরা ঘর আর বাড়ির জায়গা ছাড়া কোন সম্পদ নেই ।সে দিনমজুরি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি এক মেয়ে ও এক ছেলেকে বড় করেছে।বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে আশায় ছিলেন একমাত্র ছেলে  নাজিম সংসারের হাল ধরবে।কিন্তুু সরকার পতনের পরও পুলিশের গুলিতে একমাত্র  ছেলের মৃত্যুতে পরিবারটি ভেঙ্গে পরেছে।
নাজিমের বাবা রুস্তম আলী জানান,আশায় ছিলাম বুড়া বয়সে নজিমের আয় দিয়েই আমাদের পরিবার চলবে।কিন্তুু তার মৃত্যুতে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। এই মৃত্যুর বিচার চাই। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। বাবার ঘাড়ে সন্তানের লাশ কতটা ভারী, কতটা বেদনার, সেটা শুধু একজন সন্তান হারা বাবাই জানে।
জনপ্রিয় সংবাদ

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত মোহাম্মদ নাজিম আহমেদ

আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪
নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলার ২০ বছরের তরুণ মোহাম্মদ নাজিম আহমেদ। এই বছর সে বারহাট্টা সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। কিছুদিন আগে পরিবারের হাল ধরার জন্য টঙ্গীতে গিয়েছিল মায়ের কাছে।
গত ৫ আগস্ট সোমবার খাবার খেয়ে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে যোগ দিতে বের হয় নাজিম।তখন আনুমানিক বিকাল ২ টায় টঙ্গী এলাকায় পুলিশের গুলিতে মারা যায় সে।
আজ ৬ আগস্ট সকাল ৯ টায় নাজিমের  জানাজার নামাজ নেত্রকোনার বারহাট্টায় চিরাম তাহেরা মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভাটগাও গ্রামে নিজ বসত ঘরের উঠানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নাজিমের ছোট চাচা জসিমউদদীন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন পুলিশ আমার ভাতিজা কে গুলি করে মেরে ফেললো। কি দোষ করেছিল আমার ভাতিজা।
নাজিমের বোন জামাই কাউচার আহমেদ বলেন সে খাওয়া ধাওয়া করে তার বন্ধু দের সাথে লংমার্চ এ যোগ দিতে টঙ্গী এলাকায় অবস্থান করছিল। হটাৎ পুলিশের একটি গুলি তার বাম চোখে আঘাত এনে পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালাটেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পর ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর সন্ধায় ৭ ঘটিকায় সেখান থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নাজিমের বাবা রুস্তম হাওলাদার খুবই দরিদ্র। টিন বাঁশের  ছোট একটা  ভাঙ্গাচোরা ঘর আর বাড়ির জায়গা ছাড়া কোন সম্পদ নেই ।সে দিনমজুরি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি এক মেয়ে ও এক ছেলেকে বড় করেছে।বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে আশায় ছিলেন একমাত্র ছেলে  নাজিম সংসারের হাল ধরবে।কিন্তুু সরকার পতনের পরও পুলিশের গুলিতে একমাত্র  ছেলের মৃত্যুতে পরিবারটি ভেঙ্গে পরেছে।
নাজিমের বাবা রুস্তম আলী জানান,আশায় ছিলাম বুড়া বয়সে নজিমের আয় দিয়েই আমাদের পরিবার চলবে।কিন্তুু তার মৃত্যুতে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। এই মৃত্যুর বিচার চাই। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। বাবার ঘাড়ে সন্তানের লাশ কতটা ভারী, কতটা বেদনার, সেটা শুধু একজন সন্তান হারা বাবাই জানে।