০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয়োল্লাস করেছে।
নারী পুরুষ, ছাত্র ছাত্রী, সাধারণ জনতা দলে দলে সমবেত হয়ে মিছিল নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে পুরো শহর। শহরের কালুর দোকান, বাজার ঘাটা, ফজল মার্কেট, লাল দিঘির পাড়, গুনগাছ তলা, শহীদ মিনার, কলাতলী, বাস টার্মিনাল ছিল উৎসব মুখর। মোটর শোভাযাত্রা, মিষ্টি বিতরণ, শুকরিয়া নামাজ পড়তেও দেখা যায়।
কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় মিছিল থেকে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের খবর পাওয়া যায়।
কক্সবাজার শহরে মিছিলের কিছু খন্ড খন্ড অংশে বিভক্ত হয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করতে দেখা যায়।
 তারা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করেন। জেলা ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে আগুন দেয়। এছাড়া ভাংচুর করা হয় কক্সবাজার সদর থানা, ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয় , জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের ব্যক্তিগত কার্যালয় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধুর মরালে ভাঙচুর করে, কলাতলীর কয়োটি আবাসিক হোটেলে ও ভাংচুর করেছেন বলে জানা যায়।
এসময় থানা প্রাঙ্গন থেকে বেশকিছু মোটরসাইকেল লুট হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। রাত আটটা পযন্ত কক্সবাজার সদর মডেল থানার ঘেরাও করে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনতা।   পরে সেনাবাহিনী এসে লোকজনকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করছেন।
অপর দিকে চকরিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশিদ দুলালের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, ও জলুটপটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বেধড়ক পিটিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চকরিয়া থানার অদুরে চকরিয়া পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী এলাকায় এ ঘটনা এ ঘটেছে। আহতরা হলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য – আমিনুর রশিদ দুলাল (৫৫), তার স্ত্রী রিফাত উম্মে সালমা (৪০) ও দুই ছেলে। এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহাল (১৮) ও নাফিজ (১৪)। আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশিদ দুলাল অভিযোগ করে বলেন, সোমবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় ভরামুহুরি এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন দুবৃর্ত্ত পূর্ব শত্রুতার কারণে আমার বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরেই ঢুকে অতর্কিত হামলা করে। এসময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে হাতে থাকা লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাকে আঘাত করে।
এছাড়া টেকনাফ উপজেলায়ও আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমানের ব্যক্তিগত অফিসেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এদিকে মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লাঠি মিছিল করে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়, হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়, হোয়ানক যুবলীগ কার্যালয় ও কালারমার ছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভার কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভাঙচুরে খবর পাওয়া যায়।
কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাহ উপজেলায় শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে হাজার হাজার লোক লাঠি মিছিল করে নবগরিতে ঈদগা থানা ঘেরা করে আগুন দেয়। অবরুদ্ধ পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুটলে প্রায় ৫০ জন হতাহতের খবর পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

আপডেট সময় : ০৫:২৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয়োল্লাস করেছে।
নারী পুরুষ, ছাত্র ছাত্রী, সাধারণ জনতা দলে দলে সমবেত হয়ে মিছিল নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে পুরো শহর। শহরের কালুর দোকান, বাজার ঘাটা, ফজল মার্কেট, লাল দিঘির পাড়, গুনগাছ তলা, শহীদ মিনার, কলাতলী, বাস টার্মিনাল ছিল উৎসব মুখর। মোটর শোভাযাত্রা, মিষ্টি বিতরণ, শুকরিয়া নামাজ পড়তেও দেখা যায়।
কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় মিছিল থেকে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের খবর পাওয়া যায়।
কক্সবাজার শহরে মিছিলের কিছু খন্ড খন্ড অংশে বিভক্ত হয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করতে দেখা যায়।
 তারা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করেন। জেলা ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে আগুন দেয়। এছাড়া ভাংচুর করা হয় কক্সবাজার সদর থানা, ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয় , জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের ব্যক্তিগত কার্যালয় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধুর মরালে ভাঙচুর করে, কলাতলীর কয়োটি আবাসিক হোটেলে ও ভাংচুর করেছেন বলে জানা যায়।
এসময় থানা প্রাঙ্গন থেকে বেশকিছু মোটরসাইকেল লুট হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। রাত আটটা পযন্ত কক্সবাজার সদর মডেল থানার ঘেরাও করে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনতা।   পরে সেনাবাহিনী এসে লোকজনকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করছেন।
অপর দিকে চকরিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশিদ দুলালের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, ও জলুটপটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বেধড়ক পিটিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চকরিয়া থানার অদুরে চকরিয়া পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী এলাকায় এ ঘটনা এ ঘটেছে। আহতরা হলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য – আমিনুর রশিদ দুলাল (৫৫), তার স্ত্রী রিফাত উম্মে সালমা (৪০) ও দুই ছেলে। এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহাল (১৮) ও নাফিজ (১৪)। আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশিদ দুলাল অভিযোগ করে বলেন, সোমবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় ভরামুহুরি এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন দুবৃর্ত্ত পূর্ব শত্রুতার কারণে আমার বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরেই ঢুকে অতর্কিত হামলা করে। এসময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে হাতে থাকা লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাকে আঘাত করে।
এছাড়া টেকনাফ উপজেলায়ও আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমানের ব্যক্তিগত অফিসেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এদিকে মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লাঠি মিছিল করে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়, হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়, হোয়ানক যুবলীগ কার্যালয় ও কালারমার ছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভার কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভাঙচুরে খবর পাওয়া যায়।
কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাহ উপজেলায় শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে হাজার হাজার লোক লাঠি মিছিল করে নবগরিতে ঈদগা থানা ঘেরা করে আগুন দেয়। অবরুদ্ধ পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুটলে প্রায় ৫০ জন হতাহতের খবর পাওয়া যায়।