টাঙ্গাইল জেলার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, মেয়র, চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধি এবং দলের যেসব নেতা দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সোমবার(৫ আগস্ট) রাতেই তারা আত্মগোপণে চলে গেছেন। মঙ্গলবার(৬ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত তারদের কাউকে শহরে দেখা যায়নি। এরআগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাতের মধ্যে তাদেরকে পরিবারসহ টাঙ্গাইল ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে হুশিয়ারী দেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ইমরান কবির, কামরুল ইসলাম, আল আমিন, আকরাম হোসেন, নবাব আলী প্রমুখ।
এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরে আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্বাচিত মেয়র, চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধি এবং দলের দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নেতাদের দেখা যায়নি। আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্যদের জেলা শহর বা তাদের নিজ এলাকায় দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ওইসব নেতাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়করা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সদর থানার সামনে দিয়ে বিজয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ধনবাড়ীতে একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে তাদের নাম পরিচয় সমন্বয়করা জানাতে পারেননি। তারা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিজয় মিছিল করার ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার সকালে তা প্রত্যাহার করে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন- সোমবার সন্ধ্যায় তাদের শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। তারা দোষী পুলিশদের বিচারের দাবি জানান। সেই সঙ্গে দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিচারের দাবিও জানানো হয়।
পুলিশের গুলিতে তিনজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা গেছে বলে তিনি জানেন না। আ’লীগের নেতারা আত্মগোপণে গিয়েছেন কি-না তাও তিনি জানেন না।























