পুলিশ শুন্য যশোর। কোথাও নেই পুুলিশের দেখা। থানা, ফাঁড়ি, ক্যাম্পে পুলিশ নেই। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশও নেই। র্যাব বা বিজিবিরও কোন টহল নেই। আছে শুধু সাধারণ মানুষ। তারাই আপাতত ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় আছে। যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কার হাতে তা যোগাযোগ করে কোথাও পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকাল থেকে কারফিউ উঠিয়ে নেয়া হলেও যশোর শহরের মানুষজনের চলাচল ছিলো সীমিত। দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো বন্ধ। সরকারি অফিস খোলা থাকলেও কর্মকর্তা কর্মচারিদের উপস্থিতি ছিলো না। স্কুল কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিলো না। আদালত বন্ধ থাকায় কোন কার্যক্রম হয়নি। যানবাহন চলাচলও সীমিত ছিলো। বাস চলেছে খুব কম সংখ্যক। ট্রেন চলাচল করেনি। তবে উৎসুক জনতার ভিড় ছিলো শহরে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল পুড়িয়ে দেয়ার পরে তা দেখার জন্য লোকজন সেখানে ভিড় করে। সাধারণ মানুষ ওই পুড়ে যাওয়া ভবনে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল প্রকাশ্যে নিয়ে যায়। লুট হয় নানা সম্পদ। এটা দেখারও কেউ ছিলো না। পরে সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে রাস্তা ঘিরে রেখে হোটেল জাবিরের সামনের রাস্তা পরিষ্কার করে। সাধারণ মানুষ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানবাহল চলাচলের জন্য ট্রাফিক পুলিশের কাজ করে।
তবে শহরে শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় এক শ্রেণির টোকাই ও উচ্ছৃঙ্খল যুবক বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে লুটপাট করছে নানা সম্পদ। শহরের নানা প্রান্ত থেকে এই সকল সংবাদ সাংবাদিকদের কাছে আসছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা না থাকায় পাড়া মহল্লা কেন্দ্রীক দুর্বৃত্ত্বরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
বেজপাড়া এলাকার আবু সাঈদ মিন্টু জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত বিভিন্ন এলাকার চুরি, ছিনতাই ডাকাতি শুরু করছে। বাধ্য হয়ে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে পাহারা দিচ্ছে। এরা কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী না। সারা বছর চুরি ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াই। সুযোগ বুঝে আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে মিশে গিয়ে এই অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।
ওলি আহমেদ নামে আরো একজন জানালেন,পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় রাতজেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। বেজপাড়ার পূজা মন্দির, রামকৃষ্ণ আশ্রম, কোতয়ালি থানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতে সন্ত্রাসী হামলা না হয় সেই জন্য এই পাহারার ব্যবস্থা।
সরেজমিন যাওয়া হয় কোতয়ালি থানায়। প্রধান গেট বন্ধ ছিলো। ছোট পকেট গেট খুলে থানার মধ্যে ঢুকে কাউকে দেখা যায়নি। শুধু একজন কম্পিউটার অপারেটরকে বসে থাকতে দেখা গেছে। কেউ নেই ? জিজ্ঞাসা করতেই জানালেন পুলিশের কর্মবিরতি চলছে। কি কারণে কর্মবিরতি তা তিনি সঠিক ভাবে বলতে পারেননি। শুধু জানালেন ডিউটির পরিবেশ নেই।
যশোরের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে যাওয়া হয়। সেখানে কেউ ছিলো না। একজন পুলিশ সদস্য সারা পোশাকে ছিলেন। কর্মবিরতি চলছে কেন এই প্রশ্ন করতেই আইজিপির নাম উল্লেখ করে খিস্তিখেউড় করলেন অনেকক্ষণ।
বিষয়টি জানার জন্য ফোন করা হয় যশোরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাকের সরকারি মুঠো ফোনে। একাধিকবার কল দিলেও তিন কর্মকর্তার কেউ ফোন রিসিভ করেননি।























