আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আমজাদ হোসেন, জিবিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জিয়াউল আমিন, ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, জিবিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহেদুর রহমান, গনিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুম বিল্লাহ , পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. ফরহাদ বুলবুল প্রমুখ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈষম্য বিরোধী এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন একটি পক্ষকে ম্যানেজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে একক আধিপত্য বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। অস্তিত্বহীন কর্মচারীর নামে বেতন উত্তোলন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে গবেষণা ভাতা নেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি দেওয়া ও এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে স্থানান্তর, শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতা প্রদানে স্বেচ্ছাচারিতা, রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদিত ২৩/২৯ তম সিদ্ধান্ত অমান্য করে শিক্ষকদের বঞ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিভিন্ন ধারা অমান্য করে বিভিন্ন বিভাগের প্লানিং কমিটি গঠন, বিভিন্ন ভবনের মনগড়া ব্যবহার করেছেন ড. আনোয়ার হোসেন। তার পদত্যাগের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ড. আনোয়ার হোসেন ভাইস চ্যান্সেলর পদে থাকার সকল যোগ্যতা হারিয়েছেন। দায়িত্বশীল এই পদে তার থাকার কোন অধিকার নেই।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম জানান, যবিপ্রবি বর্তমানে অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছেন। ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা কর্মস্থলে আসছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের আসা প্রয়োজন। ভাইস চ্যান্সেলরের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন আল্টিমেটাম দেয়া হয়নি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মকর্তা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। অথচ তার পছন্দের লোকজন নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। তার শেল্টারে থেকে একটি মহল শিক্ষার্থীদের হয়রানী ও নির্যাতন করেছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। শিক্ষার্থী ,শিক্ষক ও কর্মকর্তা –কর্মচারীদের দাবি পূরণেও ব্যর্থ। ফলে ভাইস চ্যান্সেলরের পদ থেকে প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগ করা উচিৎ। তিনি নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন বৈষম্য বিরোধীরা।
এই বিষয়ে যবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষকরা বুধবার তার সাথে আলোচনায় বসেছিলেন। এসময় তারা ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সরাসরি কথা না তুললেও বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করেন। বৈষম্য বিরোধীরা দাবি করে বলেন, ভাইস চ্যান্সেলরের পছন্দের লোকজন নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। অথচ যোগ্যতা থাকার পরও তারা বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান জানান, গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভাইস ভ্যান্সেলর ছুটিতে ছিলেন। ৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।























