তিস্তা নদীর তীর রক্ষার কাজে ব্যবহৃত জিও ব্যাগ প্রকল্পের আড়ালে বালু বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ডাংরারহাট বাজারের পাশে নদীর তীরে বালু ভর্তি সারি সারি জিও ব্যাগ দেখতে পাওয়া যায়। এখানে নদী ভাঙনের নমুনা না পাওয়া গেলেও এসব বালু ভর্তি জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে। এলাকাবাসী জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়মিত সাব ঠিকাদার ও লেবার সর্দার আব্দুস সালাম গতবছর বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় দুই লাখ সিএফটি বালু উত্তোলন করেন। সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বালু বিক্রি করতে ব্যর্থ হন তিনি। চলমান বন্যায় ৬নং ক্রোসবাধ সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ভাঙ্গন দেখা না দিলেও তার বালু বাণিজ্য হাসিল করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে জিও ব্যাগের বরাদ্দ নেন। পাড়ামৌলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান এখানে প্রয়োজন না হওয়া সত্বেও সালাম সর্দার বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে জিও ব্যাগের বরাদ্দ নিয়ে আসেন। একই ইউনিয়নের কালিরহাটের বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন,“ চতুরা মৌলভীপাড়ায় ব্যপক ভাঙন থাকা সত্বেও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সালাম সর্দার তার মন মতো কাজ করায় এলাকায় ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে।
রবিবার ৬ নং ক্রোসবাধ এলাকায় গিয়ে দেখা গেল বালু ভর্তি জিও ব্যাগ নদীর তীরে ফেলানো হয়। বাঁধের পাশে বালুর স্তুপ দেখতে না পেয়ে সালাম সর্দারের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয় বালু কি করা হয়েছে। তিনি বলেন বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভর্তি করেছি। কতগুলো বস্তা প্রস্তুত করা হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন বস্তার হিসেব আছে ছেলের কাছে। সালাম সর্দারের কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়, জিও ব্যাগ ফেলানোর পূর্বে এখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে কিনা- জবাবে তিনি বলেন এখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়নি। চতুরা মৌলভীপাড়ায় ব্যপক ভাঙন থাকলেও সেখানে প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিয়ে এখানে কাজ করলেন কেন, এর জবাবে তিনি বলেন এখানে আগে থেকে কাজের বরাদ্দ ছিল।
কালিরহাট মৌলভীপাড়ায় ব্যপক ভাঙন দেখা দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেই উপরন্তু ভাঙন প্রবন এলাকা না হওয়া সত্বেও ৬ নং ক্রোসবাধ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানোর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন মৌলভীপাড়ায় ৫০০ বস্তার কাজ করা হয়েছে। সেখানে কাজ করার মতো আর বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পাড়ামৌলা ৬নং ক্রোসবাঁধে যে কাজ করা হয়েছে সেটা জরুরি কাজের বরাদ্দ নয়। ওটা বাৎসরিক সংস্কারের বরাদ্দ থেকে করা হয়েছে। কতগুলো বস্তার কাজ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি উপ সহকারী প্রকৌশলী মার্জান হোসেনের কাছে জানতে পরামর্শ দেন। তার কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।























