০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুরোদমে কাজ করছেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ 

ট্রাফিক যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ করছেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ। তারা এখন পুরো দমে দায়িত্ব পালন করছেন কক্সবাজারে এমন কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, তিনি আরো বলেন, তরুণ্যের মাঝে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কক্সবাজার জেলা ট্রাফিক পুলিশ সড়কে কার্যক্রম শুরু করেছে। পর্যটন শহরের সমস্ত সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
বুধবার, ১৪ আগস্ট, সরজমিনে দেখা যায় কক্সবাজারের সড়কগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। অনেক দিন পর নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত তারা। শহরের বাস টার্মিনাল, কলাতলী ডলফিন মোড়, সুগন্ধা বিচ পয়েন্ট মোড়, পুরাতন শহীদ মিনার মোড়, লালদীঘির পাড়, পেট্রোল পাম পয়েন্ট, বাজার ঘাটা এলাকায় উচ্ছ্বাসিত ভাবে কাজ করতে দেখা যায়।
কোথাও কোথাও ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি এখনো কাজ করছেন ছাত্ররা। হাসপাতাল রোড, বাজার ঘাটাতে গিয়ে দেখা যায়, তাদেরও সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে।
ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত কনস্টেবল মো. মনিরুল ইসলাম সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ আগের মত নিয়মিত দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এখন আরো কোনো ভয় নেই তাদের। সবাই তাদের সহযোগিতা করছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা কাজ করছেন।
ট্রাফিক সার্জেন্ট মো.জাহাঙ্গীর বলেন, সবাই খুবই ভালো রেসপন্স করছে। আমরা উচ্ছ্বসিত, যে ভয় ছিল সেটা কেটে গেছে। এখন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। যদি স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন হয় তাহলে নীতি নির্ধারকরা সেটার নির্দেশ দেবেন।
প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পর পুলিশে সংস্কারের দাবিতে গত ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ পুলিশ অধস্তন কর্মচারী সংগঠন। এরপর থেকে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সড়কে দায়িত্ব পালন না করে বিরতিতে ছিলেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় থানা ও ট্রাফিক পুলিশের স্থাপনাগুলোয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহত ও নিহত হন পুলিশের অনেক সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থলে ফিরতে অনীহা ছিল ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্যদের। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারে পতনের পর পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়ে বলে মনে করেন সুশীল সমাজ।
গত ১১ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল শোয়াইব হাসান সোমবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তারা গণমাধ্যমে বলেন, আমরা সরকারের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছিলাম তার বেশিরভাগই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি সবাই সুন্দরভাবে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরবেন।
এরেই আলোকে সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারে সড়কের যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুরো দমে কাজ করছেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ।
জনপ্রিয় সংবাদ

পুরোদমে কাজ করছেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ 

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪
ট্রাফিক যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ করছেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ। তারা এখন পুরো দমে দায়িত্ব পালন করছেন কক্সবাজারে এমন কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, তিনি আরো বলেন, তরুণ্যের মাঝে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কক্সবাজার জেলা ট্রাফিক পুলিশ সড়কে কার্যক্রম শুরু করেছে। পর্যটন শহরের সমস্ত সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
বুধবার, ১৪ আগস্ট, সরজমিনে দেখা যায় কক্সবাজারের সড়কগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। অনেক দিন পর নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত তারা। শহরের বাস টার্মিনাল, কলাতলী ডলফিন মোড়, সুগন্ধা বিচ পয়েন্ট মোড়, পুরাতন শহীদ মিনার মোড়, লালদীঘির পাড়, পেট্রোল পাম পয়েন্ট, বাজার ঘাটা এলাকায় উচ্ছ্বাসিত ভাবে কাজ করতে দেখা যায়।
কোথাও কোথাও ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি এখনো কাজ করছেন ছাত্ররা। হাসপাতাল রোড, বাজার ঘাটাতে গিয়ে দেখা যায়, তাদেরও সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে।
ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত কনস্টেবল মো. মনিরুল ইসলাম সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ আগের মত নিয়মিত দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এখন আরো কোনো ভয় নেই তাদের। সবাই তাদের সহযোগিতা করছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা কাজ করছেন।
ট্রাফিক সার্জেন্ট মো.জাহাঙ্গীর বলেন, সবাই খুবই ভালো রেসপন্স করছে। আমরা উচ্ছ্বসিত, যে ভয় ছিল সেটা কেটে গেছে। এখন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। যদি স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন হয় তাহলে নীতি নির্ধারকরা সেটার নির্দেশ দেবেন।
প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পর পুলিশে সংস্কারের দাবিতে গত ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ পুলিশ অধস্তন কর্মচারী সংগঠন। এরপর থেকে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সড়কে দায়িত্ব পালন না করে বিরতিতে ছিলেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় থানা ও ট্রাফিক পুলিশের স্থাপনাগুলোয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহত ও নিহত হন পুলিশের অনেক সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থলে ফিরতে অনীহা ছিল ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্যদের। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারে পতনের পর পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়ে বলে মনে করেন সুশীল সমাজ।
গত ১১ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল শোয়াইব হাসান সোমবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তারা গণমাধ্যমে বলেন, আমরা সরকারের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছিলাম তার বেশিরভাগই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি সবাই সুন্দরভাবে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরবেন।
এরেই আলোকে সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারে সড়কের যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুরো দমে কাজ করছেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ।