০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০০ বছরের ঐতিহ্য ঘিরে এবার হচ্ছেনা নৌকা বাইচ।

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলাটির উপর দিয়ে বয়ে গেছে আঁড়িয়াল খাঁ ও ভুবনেশ্বর এ দুটি নদী। পাশাপাশি অসংখ্য খাল বয়ে গেছে এ উপজেলাটির বুুক চিড়ে।খালগুলি পদ্মা ও আঁড়িয়াল খাঁর মোহনা থেকে উৎপত্তি বিধায় গভীরতা অনেক এবং তীব্র স্রোত প্রবাহিত হতে থাকে।

খেজুর তলার খালটি তম্মন্ধে উল্লেখযোগ্য একটি।এই খালেই বিগত প্রায় ২০০ বছর যাবত নৌকা বাইচের প্রচলন রয়েছে।ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচের ইতিহাস ও লোকমুখে জানা জায়, আগে এ নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের   খেজুর তলা নামক স্হানে ৭ দিন ব্যাপী বিশাল গ্রাম্য মেলা বসতো।এলাকায় ও আশে পাশে এমনকি বাড়ীঘরেও তিল পরিমান জায়গা দাঁড়াবার অবশিষ্ট থাকতনা, লোকে লোকারণ্য হয়ে যেত।

বিভিন্ন বাড়ীতে দুর দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন আগেই বেড়াতে আসতো নৌকা বাইচ দেখার জন্য।
নৌকা বাইচ ঐ এলাকার একটা উৎসবে পরিনত হয়েছিলো।ঐ দিন হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদাভেদ থাকতো না। সবাই এ আনন্দ উপভোগ করতো।
পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে নদীর নাব্যতা হারালে এই খাল তার বৈশিষ্ট্য হারায়। ফলে আগের মতো নৌকা চলাচল করতে পারেনা।
বেশ কিছু বছর যাবত নাম মাত্র নৌকা বাইচের প্রচলন থাকলেও এবার তাও হচ্ছেনা।

সদরপুর উপজেলা প্রশাসন দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জনগনের জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে এবারের মতো নৌকা বাইচ স্হগিত করেছেন।
এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পান্নু মৃধা “দৈনিক সবুজ বাংলাকে” জানান, ঐতিহ্যবাহি এ নৌকা বাইচটি আমাদের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়।প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে প্রতিবছর যাকজমকপুর্ন ভাবে আমরা এ অনুষ্ঠানটি উৎযাপন করলেও জনগনের স্বার্থে এবারের জন্য স্হগিত করা হয়েছে।
চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আমাদের শান্তিময় জনপদের সকল জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবারের মতো নৌকা বাইচটি স্হগিত রাখা হয়েছে।

ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাওসার জানান,এটা আমাদের ঐতিহ্য কিন্ত প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তা বাস্তবায়ন করে জনগনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বিক সহযোগীতা করবো।
ঐ এলাকার সুনামধন্য ব্যক্তি মোঃ রফিকুল ইসলাম গুঞ্জুর মৃধা জানান, এটি আমাদের সংস্কৃতি। এখান থেকে সম্পৃতি ও ভাতৃত্ববোধ জন্ম নেয়।বহুদিনের পুরানো ইতিহাস আমাদের এই নৌকা বাইচ। তবুও শুধু মাত্র এই বছরের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কষ্ট লাগলেও জনগনের নিরাপত্তা আগে।
তবে,এবারে নৌকা বাইচ না হলেও স্বপ্ল পরিসরে মেলা বসবে।
নিরাপত্তার জন্য ভলেনটিয়ার সহ সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতা করবে বলেও জানা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

২০০ বছরের ঐতিহ্য ঘিরে এবার হচ্ছেনা নৌকা বাইচ।

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৪

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলাটির উপর দিয়ে বয়ে গেছে আঁড়িয়াল খাঁ ও ভুবনেশ্বর এ দুটি নদী। পাশাপাশি অসংখ্য খাল বয়ে গেছে এ উপজেলাটির বুুক চিড়ে।খালগুলি পদ্মা ও আঁড়িয়াল খাঁর মোহনা থেকে উৎপত্তি বিধায় গভীরতা অনেক এবং তীব্র স্রোত প্রবাহিত হতে থাকে।

খেজুর তলার খালটি তম্মন্ধে উল্লেখযোগ্য একটি।এই খালেই বিগত প্রায় ২০০ বছর যাবত নৌকা বাইচের প্রচলন রয়েছে।ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচের ইতিহাস ও লোকমুখে জানা জায়, আগে এ নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের   খেজুর তলা নামক স্হানে ৭ দিন ব্যাপী বিশাল গ্রাম্য মেলা বসতো।এলাকায় ও আশে পাশে এমনকি বাড়ীঘরেও তিল পরিমান জায়গা দাঁড়াবার অবশিষ্ট থাকতনা, লোকে লোকারণ্য হয়ে যেত।

বিভিন্ন বাড়ীতে দুর দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন আগেই বেড়াতে আসতো নৌকা বাইচ দেখার জন্য।
নৌকা বাইচ ঐ এলাকার একটা উৎসবে পরিনত হয়েছিলো।ঐ দিন হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদাভেদ থাকতো না। সবাই এ আনন্দ উপভোগ করতো।
পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে নদীর নাব্যতা হারালে এই খাল তার বৈশিষ্ট্য হারায়। ফলে আগের মতো নৌকা চলাচল করতে পারেনা।
বেশ কিছু বছর যাবত নাম মাত্র নৌকা বাইচের প্রচলন থাকলেও এবার তাও হচ্ছেনা।

সদরপুর উপজেলা প্রশাসন দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জনগনের জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে এবারের মতো নৌকা বাইচ স্হগিত করেছেন।
এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পান্নু মৃধা “দৈনিক সবুজ বাংলাকে” জানান, ঐতিহ্যবাহি এ নৌকা বাইচটি আমাদের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়।প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে প্রতিবছর যাকজমকপুর্ন ভাবে আমরা এ অনুষ্ঠানটি উৎযাপন করলেও জনগনের স্বার্থে এবারের জন্য স্হগিত করা হয়েছে।
চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আমাদের শান্তিময় জনপদের সকল জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবারের মতো নৌকা বাইচটি স্হগিত রাখা হয়েছে।

ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাওসার জানান,এটা আমাদের ঐতিহ্য কিন্ত প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তা বাস্তবায়ন করে জনগনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বিক সহযোগীতা করবো।
ঐ এলাকার সুনামধন্য ব্যক্তি মোঃ রফিকুল ইসলাম গুঞ্জুর মৃধা জানান, এটি আমাদের সংস্কৃতি। এখান থেকে সম্পৃতি ও ভাতৃত্ববোধ জন্ম নেয়।বহুদিনের পুরানো ইতিহাস আমাদের এই নৌকা বাইচ। তবুও শুধু মাত্র এই বছরের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কষ্ট লাগলেও জনগনের নিরাপত্তা আগে।
তবে,এবারে নৌকা বাইচ না হলেও স্বপ্ল পরিসরে মেলা বসবে।
নিরাপত্তার জন্য ভলেনটিয়ার সহ সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতা করবে বলেও জানা যায়।