যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীর স্বজনের ওপর হামলার ঘটনায় ওয়ার্ডবয় ও বেসরকারি ক্লিনিকের এক দালালকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন। তারা হলেন হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আসাদুজ্জামান ও বহিরাগত দালাল জাহাঙ্গীর আলম। বুধবার (২১ আগস্ট) মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ওই দুইজন রোগীর স্বজন রিপন হোসেনসহ ৩ জনকে মারধর করেন বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
সদর উপজেলার দাইতলা গ্রামের রিপন হোসেন জানান, তার মেয়ে শান্তা খাতুন শ্বাসকষ্ট নিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। শয্যা না থাকায় মেঝেতে ছিলো। রোববার ওয়ার্ডে একটি বেড খালি হলে তিনি (রিপন) ও তার স্ত্রী আঞ্জুমানারা মিলে মেয়ে শান্তাকে সেখানে নিয়ে যায়। এসময় দায়িত্বরত ওয়ার্ডবয় বাধা দিয়ে বলেন খালি বেডে তার রোগী থাকবে। এই নিয়ে রিপনের সাথে ওয়ার্ডবয় আসাদুজ্জামানের তর্কবিতর্ক হয়।
ভুক্তভোগী রিপন জানান, তিনি বেড পেতে প্রতিবাদ করলে ওয়ার্ডবয় আসাদুজ্জামান ও বেসরকারি একটি ক্লিনিকের দালাল জাহাঙ্গীর মিলে হামলা চালিয়ে তাকে (রিপন) মারপিট করতে থাকে। তাকে রক্ষা করার জন্য গেলে রিপনের স্ত্রী পিতা শহিদুল ইসলাম ও স্ত্রী আঞ্জুমানারাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় অন্য রোগীর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে পিটুনি দিয়ে শিক্ষার্থীদের খবর দেয়। তারা ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করে।
এদিকে, শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে পৌঁছে ওয়ার্ডবয় আসাদুজ্জামান ও দালাল জাহাঙ্গীরকে ধরে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ আলোচনায় ঘটনাটির সমাধানে ব্যর্থ হয়ে তত্ত্বাবধায়ক দুইজনকে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, ওয়ার্ডবয় আসাদুজ্জামান ও দালাল জাহাঙ্গীর মিলে রোগীর স্বজনদের মারধর করেছে প্রমাণিত হলে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনরা আটককৃতদের বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ না করায় বিকেলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
























