নরায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগে গত ১১ আগস্ট রোববার দুপুরে অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা সোনারগাঁ থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
একই ঘটনায় গত ২১ আগস্ট বুধবার আরও একটি অভিযোগ দেন আলতাফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
অভিযুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণি সোনারগাঁ পৌরসভার ইছাপাড়া গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। সোনারগাঁ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন তিনি। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলায় ভারতের ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ২৯৪ জন। কিন্তু গত ৫৩ বছরে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ শতাধিক হয়ে যায়। এদের মধ্যে বিতর্কিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে টাকার পাহাড় করেছেন ওসমান গণি। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার স্বাক্ষরিত চেক বই নিজের কাছে রেখে নিজেই ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করেন তিনি। চলাচল করেন প্রাইভেট কারে চড়ে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের টিভি ও কম্পিউটার নিজ বাসায় ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সকে নিজের পারিবারিক কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি। বাবা উপজেলা কমান্ডারের দায়িত্বে ও ছেলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাক্তন মেম্বার ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার আলতাফ হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে আত্মসাৎকৃত কিছু মালামাল ফেরত দিয়েছেন ওসমান গনি। বাকি মালামাল ফেরতসহ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মে শাস্তির দাবি করেন তিনি।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনি মুঠোফোনে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা, আমি কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত নই। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ক্ষমতার লোভে তারা এমন অভিযোগ তুলেছেন।
সোনারগাঁয়ে মুক্তিযুদ্ধের পর ২৯৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিল তা কীভাবে ৫৩ বছরে ৫ শতাধিকের বেশি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গণস্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে।























