যশোর শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার হাসানুর গাজীকে পুলিশ হেফাজতে গুলি করে অঙ্গহানির অভিযোগে সাবেক পুলিশ সুপার, কোতয়ালি থানার তৎকালীন ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার হাসানুর গাজী এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া অভিযোগটি আদেশের জন্য রেখে দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ।
আসামিরা হলো, যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিছুর রহমান আনিস, কোতয়ালি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিকদার আক্কাস আলী, এসআই জামাল উদ্দিন, এসআই এইচএম মাহমুদ, কনস্টেবল অভিজিৎ, হাসনাত, হাফিজ ও সাঈদ।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, হাসানুর গাজী বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ওসি শিকদার আক্কাস আলীর নেতৃত্বে কনস্টেবল অভিজিৎ, হাসনাত, হাফিজ ও সাঈদ গভীর রাতে হাসানুর গাজীর বাড়িতে যেয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর তাকে গাড়িতে উঠিয়ে হাসানুরের মা মিনা বেগমকে থানায় গিয়ে দেখা করতে বলেন। থানায় গেলে এসআই জামাল উদ্দিন মিনা বেগমের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
মিনা বেগম বাড়ি ফিরে ১ লাখ টাকা জোগাড় করে নিয়ে এসআই জামাল উদ্দিনকে দেন। বাকি ৪ লাখ টাকা রাত ১টার মধ্যে না দিলে হাসানুর গাজীর পা গুলি করে উড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেন ওকি শিকদার আক্কাস আলী। এরপর মিনা বেগমকে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন তিনি। রাত পোনে ২ টার দিকে আসামিরা হাসানুরকে থানা হাজতখানা থেকে বের করে পুলিশ সুপারের পুরাতন ভবনের সামনের রাস্তায় নিয়ে যায়। এরপর এসআই জামাল ও ওসি আক্কাস আলী ধরে রাখেন ও হাসানুরের পায়ে গুলি করেন অভিজিৎ।
গুরুতর আহত হাসানুরকে রাত সোয়া দুইটার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতানে নিয়ে ভর্তি করে। পরদিন আহত হাসানুরকে একটি মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার সময় মামলা করা যায়নি। বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ মামলা করা হয়েছে।























