০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সভাপতির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতির অভিযোগ 

 নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সভাপতি ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মো. আব্দুল মোত্তালেব নামের এক সহকারী মৌলভীকে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।
অভিযোগে সুত্রে জানা যায়, গত ১৯৮০ সালের  ১ সেপ্টেম্বর ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্‌রাসায় যোগদান করে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি। তার জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬০। ইনডেক্স নং- ০৮১৯৮৭, ব্যাংক হিসাব নং- ৩৮৯২/৪। সেই হিসাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চাকুরীর মেয়াদকাল ৬০ বছর পূর্ণ হতো। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমান অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে তাকেসহ অধীনস্থ শিক্ষক-কর্মচারীগণকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করে থাকেন। তার অন্যায়ের বিরোধিতা করায় সে তার চাকুরীর দূর্বলতা খুঁজতে থাকে।
এমতাবস্থায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের এনটিআরসিএ অধীনে যাচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হলে নিয়োগ বাণিজ্য করার লক্ষে বিভিন্নভাবে আমাকে চাকুরী থেকে ইস্তফা দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। আমি সম্মত না হলে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর অধ্যক্ষ তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে আমাকে জোর পূর্বক ইস্তফা পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। আমি নিরুপাই হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে অভিযোগ দাখিল করি যাহার স্মারক নং- ১১৯১৩। মহামান্য হাইকোর্টে জোরপূর্বক ইস্তফা গ্রহণ করেছে কিনা এই মর্মে বিষয়টি সতত্যা যাচাইয়ের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকগণকে অধ্যক্ষ ও সভাপতির জামাই শিক্ষক প্রতিনিধি ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা উজাউল ইসলাম বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানোর ফলে শিক্ষকগণ মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে বাধ্য হয়। সঠিক বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অবসর ও কল্যানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। অধ্যক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের জন্য সবিনয় অনুরোধ করলে তিনি আমার কাছে থেকে তিন লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা গ্রহণ করে আমার কাজে পত্র অগ্রায়ন করেন। আমার মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমান এগারো লক্ষ টাকা ও বোনাস ৫০ হাজার টাকা, আমি আমার ওই ক্ষতির প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আবেদন করছি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মোতালেব হোসেন বলেন, সভাপতি আব্দুল বারেক মন্টু, তার জামাই উজাউল ও অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন মিলে জোর করে ইস্তফা পত্রে সই করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়। আমি হাইকোর্টে মামলা করলে হুমকি-ধামকি দিয়ে মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য করে। এরপর অবসর কল্যাণের টাকা উত্তোলনের জন্য সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে কাগজপত্র নিতে গেলে শিক্ষক প্রতিনিধি উজাউলের নেতৃত্বে সভাপতি ও অধ্যক্ষ আমার কাছে থেকে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নেয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এবিষয়ে জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, এই অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সভাপতির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুতির অভিযোগ 

আপডেট সময় : ১০:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪
 নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সভাপতি ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মো. আব্দুল মোত্তালেব নামের এক সহকারী মৌলভীকে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।
অভিযোগে সুত্রে জানা যায়, গত ১৯৮০ সালের  ১ সেপ্টেম্বর ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্‌রাসায় যোগদান করে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি। তার জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬০। ইনডেক্স নং- ০৮১৯৮৭, ব্যাংক হিসাব নং- ৩৮৯২/৪। সেই হিসাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চাকুরীর মেয়াদকাল ৬০ বছর পূর্ণ হতো। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমান অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে তাকেসহ অধীনস্থ শিক্ষক-কর্মচারীগণকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করে থাকেন। তার অন্যায়ের বিরোধিতা করায় সে তার চাকুরীর দূর্বলতা খুঁজতে থাকে।
এমতাবস্থায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের এনটিআরসিএ অধীনে যাচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হলে নিয়োগ বাণিজ্য করার লক্ষে বিভিন্নভাবে আমাকে চাকুরী থেকে ইস্তফা দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। আমি সম্মত না হলে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর অধ্যক্ষ তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে আমাকে জোর পূর্বক ইস্তফা পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। আমি নিরুপাই হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে অভিযোগ দাখিল করি যাহার স্মারক নং- ১১৯১৩। মহামান্য হাইকোর্টে জোরপূর্বক ইস্তফা গ্রহণ করেছে কিনা এই মর্মে বিষয়টি সতত্যা যাচাইয়ের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকগণকে অধ্যক্ষ ও সভাপতির জামাই শিক্ষক প্রতিনিধি ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা উজাউল ইসলাম বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানোর ফলে শিক্ষকগণ মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে বাধ্য হয়। সঠিক বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অবসর ও কল্যানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। অধ্যক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের জন্য সবিনয় অনুরোধ করলে তিনি আমার কাছে থেকে তিন লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা গ্রহণ করে আমার কাজে পত্র অগ্রায়ন করেন। আমার মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমান এগারো লক্ষ টাকা ও বোনাস ৫০ হাজার টাকা, আমি আমার ওই ক্ষতির প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আবেদন করছি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মোতালেব হোসেন বলেন, সভাপতি আব্দুল বারেক মন্টু, তার জামাই উজাউল ও অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন মিলে জোর করে ইস্তফা পত্রে সই করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়। আমি হাইকোর্টে মামলা করলে হুমকি-ধামকি দিয়ে মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য করে। এরপর অবসর কল্যাণের টাকা উত্তোলনের জন্য সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে কাগজপত্র নিতে গেলে শিক্ষক প্রতিনিধি উজাউলের নেতৃত্বে সভাপতি ও অধ্যক্ষ আমার কাছে থেকে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নেয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এবিষয়ে জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, এই অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।