০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্যার্ত বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও সড়কে এখনো পানি

◉ চরম দুর্ভোগে কাটছে মানুষের জীবন
◉ সবার ভাগ্যে জুটছে ত্রাণ সামগ্রী
◉ সেপ্টেম্বরেও হতে পারে বন্যা
◉ স্বল্পমূল্যে ওএমএসের চাল আটা পাবেন বন্যাদুর্গতরা

ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে দেশের ১৪ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বন্যার পানি। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন পরিবার ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। আর ঘরে ফিরেই তারা পড়ছে এক অভাবনীয় অমানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে। বেশিরভাগ মানুষের ঘর ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। অনেকের ঘর থেকে এখনো পানি নামেনি। ঘরের প্রতিটি আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বিপদে আছেন পরিবারের প্রধান সদস্য নারীরা। চুলা জ¦ালিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। বন্যার পানি নামার পর নতুন এক পরিস্থিতি পার করছে বন্যার্তরা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও টানা বৃষ্টিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। এরই মধ্যে সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেছে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠিয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বন্যায় কমলগঞ্জের ১৯৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ১৭০ টন চাল দেওয়া হয়েছে। এখন ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বরাদ্দ এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করে দেওয়া হবে।

বন্যায় কুমিল্লার ১৪টি উপজেলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব উপজেলায় প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলায় এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩০৮ কোটি টাকা। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার জানিয়েছেন, বন্যায় প্রাণিসম্পদে ৪ হাজার ২১৩টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার ২ লাখ ৯ হাজার ৯১৪টি বিভিন্ন শ্রেণির গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বাজার মূল্যে পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ কোটি টাকার বেশি। হাঁস-মুরগীর মধ্যে ২ হাজার ২১৮টি খামারে ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৯টি হাঁস-মুরগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বাজার মূল্যে ৩৯ কোটি টাকা।

লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলা বন্যার কারণে অবকাঠামো ও খাদ্য বিনষ্টসহ খামারি-গৃহস্থদের পশুপাখির মৃত্যু হয়েছে। এতে খামারিসহ গৃহস্থরা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছেন। এতে ৮ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো ৫ লাখ ১১ হাজার ১১০টি পশু-পাখি বন্যা কবলিত রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, বন্যার পানির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে খামার ও গৃহস্থের ১ লাখ ৬০ হাজার ২১৩টি পশুপাখি মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৩৫টি গরু, ১৭৫টি ছাগল, ১৭ টি ভেড়া ও ১টি মহিষ এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ১০টি মুরগী ও ৯৭৫টি হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। এতে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার পশুপাখির খাদ্য বিনষ্ট হয়েছে বন্যায়।

গত শুক্রবার থেকে ফেনী-নোয়াখালীর বন্যার পানি লক্ষ্মীপুরের দিক দিয়ে নামতে থাকে। ফলে ঐ দুই জেলার পানি কমলেও লক্ষ্মীপুরের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। জেলার ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এ সময় প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। ১ লাখ ৬০ হাজার ২১৩টি পশু-পাখি মারা যায়।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩০৩টি গবাদিপশুর ও ৪২৩টি মুরগীর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার গোখাদ্যর জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এদিকে, সরকারিভাগে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ভয়াবহ বন্যায় ১৪ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহের লক্ষ্যে তিন মাস স্পেশাল ওএমএস কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং প্যাকেট আটা (২ কেজির প্রতি প্যাকেট) ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ স্পেশাল ওএমএস বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর ২৩০টি কেন্দ্রে দেওয়া হবে। প্রতিকেন্দ্রে ১ মেট্রিক টন চাল ও ১ মেট্রিক টন আটা হিসেবে প্রতিদিন ২৩০ মেট্রিক টন চাল ও ২৩০ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হবে। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এ কার্যক্রমে সর্বমোট ১৪ হাজার ৪৯০ টন চাল ও ১৪ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা আটা ২৪ টাকা এবং প্যাকেট আটা (২ কেজির প্রতি প্যাকেট) ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।

খাদ্যসচিব আরও বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় যে কেউ এ সেবা নিতে পারবেন। এই ৩ মাসে চাল বাবদ ৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা ও আটা বাবদ ৪৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মোট ৯০ কোটি ৬৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৮২ টাকা খাদ্য ভর্তুকি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি বন্যা পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ছাদেকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে এক-দুটি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এ ছাড়া দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দুই-তিন দিন মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় এবং সারা দেশে তিন-পাঁচ দিন হালকা বজ্রঝড়ের শঙ্কা রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে কতিপয় স্থানে স্বল্প মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

বন্যার্ত বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও সড়কে এখনো পানি

আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

◉ চরম দুর্ভোগে কাটছে মানুষের জীবন
◉ সবার ভাগ্যে জুটছে ত্রাণ সামগ্রী
◉ সেপ্টেম্বরেও হতে পারে বন্যা
◉ স্বল্পমূল্যে ওএমএসের চাল আটা পাবেন বন্যাদুর্গতরা

ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে দেশের ১৪ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বন্যার পানি। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন পরিবার ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। আর ঘরে ফিরেই তারা পড়ছে এক অভাবনীয় অমানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে। বেশিরভাগ মানুষের ঘর ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। অনেকের ঘর থেকে এখনো পানি নামেনি। ঘরের প্রতিটি আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বিপদে আছেন পরিবারের প্রধান সদস্য নারীরা। চুলা জ¦ালিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। বন্যার পানি নামার পর নতুন এক পরিস্থিতি পার করছে বন্যার্তরা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও টানা বৃষ্টিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। এরই মধ্যে সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেছে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠিয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বন্যায় কমলগঞ্জের ১৯৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ১৭০ টন চাল দেওয়া হয়েছে। এখন ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বরাদ্দ এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করে দেওয়া হবে।

বন্যায় কুমিল্লার ১৪টি উপজেলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব উপজেলায় প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলায় এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩০৮ কোটি টাকা। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার জানিয়েছেন, বন্যায় প্রাণিসম্পদে ৪ হাজার ২১৩টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার ২ লাখ ৯ হাজার ৯১৪টি বিভিন্ন শ্রেণির গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বাজার মূল্যে পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ কোটি টাকার বেশি। হাঁস-মুরগীর মধ্যে ২ হাজার ২১৮টি খামারে ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৯টি হাঁস-মুরগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বাজার মূল্যে ৩৯ কোটি টাকা।

লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলা বন্যার কারণে অবকাঠামো ও খাদ্য বিনষ্টসহ খামারি-গৃহস্থদের পশুপাখির মৃত্যু হয়েছে। এতে খামারিসহ গৃহস্থরা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছেন। এতে ৮ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো ৫ লাখ ১১ হাজার ১১০টি পশু-পাখি বন্যা কবলিত রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, বন্যার পানির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে খামার ও গৃহস্থের ১ লাখ ৬০ হাজার ২১৩টি পশুপাখি মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৩৫টি গরু, ১৭৫টি ছাগল, ১৭ টি ভেড়া ও ১টি মহিষ এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ১০টি মুরগী ও ৯৭৫টি হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। এতে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার পশুপাখির খাদ্য বিনষ্ট হয়েছে বন্যায়।

গত শুক্রবার থেকে ফেনী-নোয়াখালীর বন্যার পানি লক্ষ্মীপুরের দিক দিয়ে নামতে থাকে। ফলে ঐ দুই জেলার পানি কমলেও লক্ষ্মীপুরের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। জেলার ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এ সময় প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। ১ লাখ ৬০ হাজার ২১৩টি পশু-পাখি মারা যায়।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩০৩টি গবাদিপশুর ও ৪২৩টি মুরগীর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার গোখাদ্যর জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এদিকে, সরকারিভাগে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ভয়াবহ বন্যায় ১৪ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহের লক্ষ্যে তিন মাস স্পেশাল ওএমএস কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং প্যাকেট আটা (২ কেজির প্রতি প্যাকেট) ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। খাদ্যসচিব ইসমাইল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ স্পেশাল ওএমএস বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর ২৩০টি কেন্দ্রে দেওয়া হবে। প্রতিকেন্দ্রে ১ মেট্রিক টন চাল ও ১ মেট্রিক টন আটা হিসেবে প্রতিদিন ২৩০ মেট্রিক টন চাল ও ২৩০ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হবে। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এ কার্যক্রমে সর্বমোট ১৪ হাজার ৪৯০ টন চাল ও ১৪ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা আটা ২৪ টাকা এবং প্যাকেট আটা (২ কেজির প্রতি প্যাকেট) ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।

খাদ্যসচিব আরও বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় যে কেউ এ সেবা নিতে পারবেন। এই ৩ মাসে চাল বাবদ ৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা ও আটা বাবদ ৪৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মোট ৯০ কোটি ৬৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৮২ টাকা খাদ্য ভর্তুকি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি বন্যা পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ছাদেকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে এক-দুটি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এ ছাড়া দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দুই-তিন দিন মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় এবং সারা দেশে তিন-পাঁচ দিন হালকা বজ্রঝড়ের শঙ্কা রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে কতিপয় স্থানে স্বল্প মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।