বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অসংখ্য শহিদ ও পঙ্গু মানুষের করুণ আর্তনাদ ভুলে গেলে চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড.মো: এনায়েত উল্ল্যা পাটওয়ারী।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর বারোটায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র সংস্কারের পরিচালক এবং রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ড.মো: এনায়েত উল্ল্যা পাটওয়ারী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: শহিদুল হক, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোর্শেদুল হক।
ড. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অসংখ্য শহীদদের এবং হাজার হাজার আহত ও পঙ্গু মানুষের করুণ আর্তনাদ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। ইতিমধ্যে কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়েছে বা হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা মনে করি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এহেন তৎপরতা আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিরাট বাধা সৃষ্টি করবে। মানুষ আবারও হতাশায় নিমর্জিত হবে। পরিনামে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠবে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিভাজন চাই না, ঐক্য চাই। একক কোন দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে বর্তমান বাংলাদেশের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এজন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে সুন্দর ভবিষ্যৎ। আমাদের বিশ্বাস একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের ছাত্রসমাজ অতন্দ্র প্রহরির ভূমিকা পালন করে যাবে। এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাত্র জনতার প্রত্যাশার আলোকে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে, বিন্যস্ত করে দেশ পরিচালনার জন্য উপযোগী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জন প্রত্যাশার ছয়টি বিষয় তুলে ধরেন সেগুলো হলো :
গণঅভ্যুত্থানে নৃশংসতার শিকার গুলিবিদ্ধ (চোখে, মুখে পায়ে) মানুষদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। জীবন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের উন্নততর চিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণ করা উচিত। শহীদ, আহত এবং নির্যাতিত ব্যক্তিদের পরিবারদের সর্বাগ্রে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের বাকি কর্মকর্তাদের অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা জরুরী। তাদের দুর্নীতি তদন্ত করে আইনানুগব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অনতিবিলম্বে পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে এ বাহিনীকে জনবান্ধব করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। পুলিশের হারানো গৌরব বিশেষ করে তাদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস নিরসনের ব্যবস্থা করা। দুর্নীতিবাজ সকল পুলিশ কর্মকর্তা এবং সিপাহিদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা অত্যাবশ্যক। অনতিবিলম্বে পুলিশ বাহিনীতে সিপাহী ও কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়েরদাবী।
পতিত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে প্রায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকারের দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের বিরুদ্ধে ইউজিসি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল, কিন্তু সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত হলেও তদন্ত রিপোর্ট অনুসারে কোন শাস্তি কার্যকর হয়নি। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্নীতি তদন্ত করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য ‘উচ্চশিক্ষা দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করা হোক।
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট চিরতরে মূলোৎপাঠনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
একটি সু-সমন্বিত ও যুগোপযোগী জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য অতি শীঘ্রই ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন করে দাযিত্ব প্রধানপূর্বক সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হোক।


























