◉ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও ৫ অভিযোগ
◉ মুদি দোকানি হত্যায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৫ অক্টোবর
◉ সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ-এমপি শাহে আলম ও যুবলীগ নেতা শুটার রুবেল রিমান্ডে
◉ সাবেক গভর্নর রউফ ও সালমান এফ রহমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
◉ সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ৫৮৯ জনের পাসপোর্ট বাতিল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা হয়েছে। এদিকে গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২২৭ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঁচটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মুদি দোকানি আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ৫ দিন, বরিশাল-২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলম তালুকদারের ৩ দিন ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দুই হাতে অস্ত্র তুলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবলীগ নেতা শুটার রুবেলের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে বল প্রয়োগে চাকরি থেকে পদত্যাগ করানো, প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এর সাবেক ও বর্তমান ১০ কর্মকর্তা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ১২ জনকে আসামি করে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ডে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিন ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। একইদিন ফকিরাপুল এলাকা থেকে কিশোরগঞ্জের দানাপাটুলি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল ইসলাম মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩ এর একটি দল। এদিকে শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও তাদের পরিবারের সদস্য সহ ৫৮৯ জনের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল রোববার পুলিশ ও আদালত সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার সাবেক ছাত্রদল নেতা সৌরভ প্রিয় পাল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম বলেন, ২০২২ সালের ১৮ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী একটি সংবাদ সম্মেলনে তার দেওয়া বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পদ্মা সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার অভিপ্রায় জানান। এর দ্বারা তাদের হত্যার সুপ্ত ইচ্ছা ব্যক্ত ও মানহানি হয়। তখন পরিস্থিতি বিবেচনায় বাদী মামলা না করলেও বর্তমানে যেহেতু বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে তাই নগর ছাত্রদলের একজন সাবেক নেতা বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তটি যেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার নিচের কাউকে দিয়ে না করানো হয় সে বিষয়েও আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা, গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২২৭ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঁচটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামিও করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পাঁচটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
প্রথম অভিযোগ : গত ২০ জুলাই সকালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর গুলিতে কলেজছাত্র শহীদ নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব ও শহীদ জুবায়েরকে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৬৫ জনকে আসামিকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাকিবের পিতা আব্দুল হালিম ও জুবায়েরের পিতা আনোয়ার উদ্দিন অভিযোগটি দায়ের করেন।
দ্বিতীয় অভিযোগ : গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় বাড্ডা ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মো. মারুফ হোসেনকে (১৯) পুলিশ গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন তার বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস।
তৃতীয় অভিযোগ : গত ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা আব্দুল্লাপুর এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী শহীদ ফয়সাল সরকারকে (গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়) গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ অজ্ঞাত আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন ভিকটিমের পিতা শফিকুল ইসলাম সরকার।
চতুর্থ অভিযোগ : গত ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় দশম শ্রেণির ছাত্র শহীদ মাহফুজুর রহমানকে (১৫) গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনকে আসামি করে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন ভিকটিমের পিতা আব্দুল মান্নান।
পঞ্চম অভিযোগ : গত ৫ আগস্ট বিকেলে উত্তরা (আজমপুর ফুটওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে) সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শহীদ সামিউ আমান নুরকে (১৩) গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৫৮ জনকে আসামি করে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন তার পিতা মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
এদিকে মুদি দোকানি আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকী আল ফারাবী মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এদিন ধার্য করেন।
এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে গত ১৯ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলায় ৪০ ফিট চৌরাস্তায় আবু সায়েদ নিহত হন। এ ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এস এম আমীর হামজা নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর শেখ হাসিনাসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন। মোহাম্মদপুর থানা পরদিন মামলার মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার মো. হারুন অর রশীদ ও যুগ্ম কমিশনার বিপ্লার সরকার।
এদিকে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট আদাবর থানায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৫৬ জনের নাম উল্লেখ্যপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম। ওই মামলায় সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদাবর থানার পরিদর্শক আব্দুল মালেক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরবর্তীতে তাকে আদাবর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই বিকালে গুলশানের শাহজাদপুর মেইন রোডে সুবাস্তু ভ্যালি শপিংমলের সামনে দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রাণ হারান শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান। এ ঘটনায় খলিলুর রহমান গুলশান থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদারের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রাজু আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারকে আটক করে পুলিশে দেন জনতা।
এদিকে রাজশাহীতে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর দুই হাতে দুই পিস্তল নিয়ে গুলি চালানো যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রুবেলের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক ফয়সল তারেক এ রায় দেন। এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ। পরে আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অপরদিকে বল প্রয়োগ করে চাকরি থেকে পদত্যাগ করানো, প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এর সাবেক ও বর্তমান ১০ কর্মকর্তা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ১২ জনকে আসামি করে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে গতকাল বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. ফরমানুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইকে) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী ফরমানুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এছাড়া গতকাল সকাল সাড়ে টায় থাইল্যান্ড যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিনকে আটক করেছে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ। আটক কাজী আলিম উদ্দিন শহরের উত্তর ছায়াবীথি নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত কাজী সিরাজ উদ্দিন ছেলে এবং গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য। কাজী আলিম উদ্দিনকে জিএমপির বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর অভিযোগে কিশোরগঞ্জ সদরের দানাপাটুলি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল ইসলাম মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩ এর একটি দল।
শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ৫৮৯ জনের পাসপোর্ট বাতিল : শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে ইস্যু করা বিশেষ প্রাধিকারভুক্ত লাল পাসপোর্ট বাতিল এবং সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য (ডাটা) জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাতিল পাসপোর্ট ব্যবহার করে তারা যাতে বাংলাদেশ ত্যাগ বা তৃতীয় কোনো দেশ ভ্রমণ করতে না পারেন সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫৮৯ জনের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পদক্ষেপের ফলে শেখ হাসিনাসহ ইতোমধ্যে যারা সীমান্ত অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন তাদের পক্ষে বিদেশের মাটিতে নির্বিঘ্নে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া হাতে বৈধ পাসপোর্ট বা স্বীকৃত ভ্রমণ দলিল না থাকায় বন্ধ হবে রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথ।
সূত্র জানায়, সরকার পতনের পরপরই হাসিনার মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও ১৪ দলীয় জোট নেতাদের পাসপোর্টও বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের আশীর্বাদপুষ্ট সাবেক সচিব, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থা প্রধান ও পদত্যাগকারী ভিসিদের পাসপোর্ট নবায়নে এখন ব্যাপকভাবে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে যারা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে অন্তত দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ছাড়পত্র প্রয়োজন হবে।
























