০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একাডেমিক কাউন্সিলের পূর্ব নির্ধারিত সভা হয়নি, শিক্ষকদের মানববন্ধন

গাজীপুরের শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষা সনদ, যোগদান, নিয়োগপত্র জালের অভিযোগ নিয়ে যাচাই করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ধারী কমপক্ষে ১৫ জন। বৃহষ্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমাণিক সোয়া ১২টার দিকে ওই কলেজের অধ্যক্ষ পিয়ারা নার্গিসের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সারা, শ্রাবন, আবু রায়হান মিসবাহ, মিশকাত রাসেলসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে কমপক্ষে ১৫ জন ওই দলে ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমত, শিক্ষক, প্রত্যক্ষদর্শী ও সরেজমিন জানা গেছে, তারা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে একেক করে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কয়েকজন কর্মচারী অধ্যক্ষের মাধ্যমে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে পাঠায়। সেখানে অধ্যক্ষের সামনেই ওইসব শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষকদের শিক্ষা সনদ, নিয়োগ, যোগদানপত্রসমূহ জাল। জাল কাগজপত্রে তাদেরকে নিয়োগদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কোনো শিক্ষককে ১ ঘন্টা আবার কোনো শিক্ষককে ২ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়ে বৈধ কাগজপত্র তাদেরকে দেখাতে বলে। এসময় কয়েকজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে কাগজপত্র দেখানোর জন্য ফাইল খুললে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে এসব কাগজ দেখানোর বৈধতার চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে দেয়। কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল, সদস্য নাঈম, ছাহাদসহ অন্যান্যরাও একই চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে দিলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এসময় কমপক্ষে ১’শ শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু প্রতিবাদ শুরু করে। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ধারীদের কেউ হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী, কেউ কেউ ছাত্রলীগের কর্মী বলে আঙুল উঁচিয়ে চিহ্নিত করলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ কৌশলে দ্রæত অধ্যক্ষের কক্ষ ত্যাগ করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাকিদের অধ্যক্ষের কক্ষে দরজা আটকিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় শিক্ষকদের সাথে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষকেরা হাতে হাত ধরে মানববন্ধন করে। ছাত্রদলের কর্মীরা শিক্ষকদের অপমান করার জন্য ক্যাম্পাসে এসব ভুয়া পরিচয় নিয়ে কাউকে প্রবেশ না করার আল্টিমেটাম জানিয়ে সতর্ক করে দেয়। বিকেল আনুমাণিক পৌণে তিনটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ পিয়ারা নার্গিস বলেন, ভাইস প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা এসেছিল। এছাড়া তিনি বাড়তি কোনো কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ে সারা সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কাছে কতিপয় শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রযেছে। এসব বিষয়ে আমরা অভিযুক্তদের কাগজপত্র দেখতে এসেছিলাম।

প্রসঙ্গত, এদিন দুপুর ২টায় কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের পূর্ব নির্ধারিত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

একাডেমিক কাউন্সিলের পূর্ব নির্ধারিত সভা হয়নি, শিক্ষকদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

গাজীপুরের শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষা সনদ, যোগদান, নিয়োগপত্র জালের অভিযোগ নিয়ে যাচাই করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ধারী কমপক্ষে ১৫ জন। বৃহষ্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমাণিক সোয়া ১২টার দিকে ওই কলেজের অধ্যক্ষ পিয়ারা নার্গিসের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সারা, শ্রাবন, আবু রায়হান মিসবাহ, মিশকাত রাসেলসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে কমপক্ষে ১৫ জন ওই দলে ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমত, শিক্ষক, প্রত্যক্ষদর্শী ও সরেজমিন জানা গেছে, তারা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে একেক করে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কয়েকজন কর্মচারী অধ্যক্ষের মাধ্যমে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে পাঠায়। সেখানে অধ্যক্ষের সামনেই ওইসব শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষকদের শিক্ষা সনদ, নিয়োগ, যোগদানপত্রসমূহ জাল। জাল কাগজপত্রে তাদেরকে নিয়োগদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কোনো শিক্ষককে ১ ঘন্টা আবার কোনো শিক্ষককে ২ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়ে বৈধ কাগজপত্র তাদেরকে দেখাতে বলে। এসময় কয়েকজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে কাগজপত্র দেখানোর জন্য ফাইল খুললে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে এসব কাগজ দেখানোর বৈধতার চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে দেয়। কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল, সদস্য নাঈম, ছাহাদসহ অন্যান্যরাও একই চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে দিলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এসময় কমপক্ষে ১’শ শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু প্রতিবাদ শুরু করে। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ধারীদের কেউ হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী, কেউ কেউ ছাত্রলীগের কর্মী বলে আঙুল উঁচিয়ে চিহ্নিত করলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ কৌশলে দ্রæত অধ্যক্ষের কক্ষ ত্যাগ করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাকিদের অধ্যক্ষের কক্ষে দরজা আটকিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় শিক্ষকদের সাথে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষকেরা হাতে হাত ধরে মানববন্ধন করে। ছাত্রদলের কর্মীরা শিক্ষকদের অপমান করার জন্য ক্যাম্পাসে এসব ভুয়া পরিচয় নিয়ে কাউকে প্রবেশ না করার আল্টিমেটাম জানিয়ে সতর্ক করে দেয়। বিকেল আনুমাণিক পৌণে তিনটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ পিয়ারা নার্গিস বলেন, ভাইস প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা এসেছিল। এছাড়া তিনি বাড়তি কোনো কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ে সারা সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কাছে কতিপয় শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রযেছে। এসব বিষয়ে আমরা অভিযুক্তদের কাগজপত্র দেখতে এসেছিলাম।

প্রসঙ্গত, এদিন দুপুর ২টায় কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের পূর্ব নির্ধারিত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়নি।