০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তুলির শেষ টানে জেগে উঠছে প্রতিমার ত্রি-নয়ন

শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এবং সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় উৎসব । শরৎ ঋতুতে আবাহন হয় বলেই, দেবীর আরেক নাম শারদীয়। শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনের সাথে সাথে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন প্রতিমা শিল্পীরা। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তে দেবীকে সাজিয়ে তুলতে দিন রাত এক করে কাজ করছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তুলির টানে জেগে উঠছে প্রতিমার ত্রি-নয়ন। তুলির শেষ টানের অপেক্ষায় শিল্পীরা।
আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীকে বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গোৎসব। ১৩ অক্টোবর দশমীতে বিসর্জন ও সোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গপূজা।
সরজমিনে পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা। জোরেসরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। শৈল্পিক দক্ষতায় জীবন্ত হয়ে ওঠছে প্রতিমাগুলো। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। সাজসজ্জায় প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে অপরূপ।
জানা গেছে, রাজধানীর মধ্যে পুরান ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পূজা উদযাপিত হয়। এবার লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর,শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার, কলতাবাজার, বাংলাবাজার, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন,গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে শেষ সময়ের কাজ। জোরেশোরে চলছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ।

প্রতিমা শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারাবছর তারা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। শুধু জীবিকার প্রশ্নেই নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব দেবীর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা।

শাঁখারিবাজারের প্রতিমা শিল্পী সুজন পাল।  যিনি ৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছেন। বছরের পুরোটা সময় এই বিভিন্ন দেব দেবীর মূর্তি তৈরি করে থাকলেও শারদীয় উৎসবের এই সময়টাতে রাত দিন এক করে কাজ করতে হয়। আর যত সময় ঘনিয়ে আসে ব্যস্ততা বাড়ে সুজন পালের।

এ বিষয়ে সুজন পাল সবুজ বাংলাকে বলেন, সারাবছর প্রতিমার কাজ করে থাকি। তবে দুর্গ উৎসব এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু মায়ের প্রতিমা বানাতে পেরে সে কষ্ট আর কষ্ট মনে হয় না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে একজন কারিগরকে বাশঁ বা কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করতে হয়। এরপর কাঠামোয় এটেঁল মাটি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট আকারে নিয়ে আসা হয়। মাটি শোকানোর পর প্রতিমাতে রং, সাজসজ্জা করতে হয়। শেষে গিয়ে ত্রি নয়নের কাজের মাধ্যমে প্রতিমা জীবন্ত আকার ধারণ করে।
শাঁখারিবাজারের আরেক প্রতিমা শিল্পী অনামিকা নন্দী। বাবা সুশীল নন্দীর মৃত্যুর পর এবার প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন।
তিনি সবুজ বাংলাকে বলেন, বাবার কাছ থেকে প্রতিমা তৈরির হাতেখড়ি। বাবা আর ইহজগতে নেই। আমি আমার কাজের মধ্য দিয়ে বাবাকে ধারণ করছি। এবার দুটি বড় প্রতিমা অর্ডার আছে। এগুলো যথাক্রমে ৮০ হাজার ও ৬০ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হবে। তবে প্রতিমাগুলোতে লাভ খুব সীমিত হয়ে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

তুলির শেষ টানে জেগে উঠছে প্রতিমার ত্রি-নয়ন

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪
শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এবং সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় উৎসব । শরৎ ঋতুতে আবাহন হয় বলেই, দেবীর আরেক নাম শারদীয়। শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনের সাথে সাথে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন প্রতিমা শিল্পীরা। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তে দেবীকে সাজিয়ে তুলতে দিন রাত এক করে কাজ করছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তুলির টানে জেগে উঠছে প্রতিমার ত্রি-নয়ন। তুলির শেষ টানের অপেক্ষায় শিল্পীরা।
আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীকে বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গোৎসব। ১৩ অক্টোবর দশমীতে বিসর্জন ও সোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গপূজা।
সরজমিনে পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা। জোরেসরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। শৈল্পিক দক্ষতায় জীবন্ত হয়ে ওঠছে প্রতিমাগুলো। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। সাজসজ্জায় প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে অপরূপ।
জানা গেছে, রাজধানীর মধ্যে পুরান ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পূজা উদযাপিত হয়। এবার লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর,শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার, কলতাবাজার, বাংলাবাজার, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন,গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে শেষ সময়ের কাজ। জোরেশোরে চলছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ।

প্রতিমা শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারাবছর তারা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। শুধু জীবিকার প্রশ্নেই নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব দেবীর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা।

শাঁখারিবাজারের প্রতিমা শিল্পী সুজন পাল।  যিনি ৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছেন। বছরের পুরোটা সময় এই বিভিন্ন দেব দেবীর মূর্তি তৈরি করে থাকলেও শারদীয় উৎসবের এই সময়টাতে রাত দিন এক করে কাজ করতে হয়। আর যত সময় ঘনিয়ে আসে ব্যস্ততা বাড়ে সুজন পালের।

এ বিষয়ে সুজন পাল সবুজ বাংলাকে বলেন, সারাবছর প্রতিমার কাজ করে থাকি। তবে দুর্গ উৎসব এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু মায়ের প্রতিমা বানাতে পেরে সে কষ্ট আর কষ্ট মনে হয় না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে একজন কারিগরকে বাশঁ বা কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করতে হয়। এরপর কাঠামোয় এটেঁল মাটি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট আকারে নিয়ে আসা হয়। মাটি শোকানোর পর প্রতিমাতে রং, সাজসজ্জা করতে হয়। শেষে গিয়ে ত্রি নয়নের কাজের মাধ্যমে প্রতিমা জীবন্ত আকার ধারণ করে।
শাঁখারিবাজারের আরেক প্রতিমা শিল্পী অনামিকা নন্দী। বাবা সুশীল নন্দীর মৃত্যুর পর এবার প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন।
তিনি সবুজ বাংলাকে বলেন, বাবার কাছ থেকে প্রতিমা তৈরির হাতেখড়ি। বাবা আর ইহজগতে নেই। আমি আমার কাজের মধ্য দিয়ে বাবাকে ধারণ করছি। এবার দুটি বড় প্রতিমা অর্ডার আছে। এগুলো যথাক্রমে ৮০ হাজার ও ৬০ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হবে। তবে প্রতিমাগুলোতে লাভ খুব সীমিত হয়ে থাকে।