১১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি স্থবির

  • ইউরোপে সস্তা রাশিয়ান গ্যাসের যুগ সমাপ্ত
  • মোলডোভায় দেখা দিয়েছে গ্যাসের সংকট
  • পূর্ব ইউরোপ থেকে রাশিয়ার আয় বছরে ৫ বিলিয়ন ইউরো
  • রাশিয়াকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে : জেলেনস্কি
  • রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী উ. কোরিয়া
  • ক্ষমতাগ্রহণের ২৫ বছর পূরণ হলো পুতিনের

ইউক্রেনের গ্যাস ট্রানজিট অপারেটর নাফটোগাজ এবং রাশিয়ার গ্যাজপ্রমের মধ্যে পাঁচ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, তার দেশ রাশিয়াকে আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার আয় করতে দেবে না। এজন্য ইইউকে প্রস্তুতি নিতে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ইউরোপীয় কমিশন পরে জানিয়েছিল, ইউরোপের গ্যাস সিস্টেম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।
তবে স্লোভাকিয়া, যা এখনও রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, দেশটি সমস্যা মোকাবিলা করতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এদিকে মোলডোভা, যেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। দেশটি ইতোমধ্যে গ্যাসের সংকটে পড়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস পরিবহন করছিল, তবে এখন সেই চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে রুশ গ্যাসের যুগের আপাতত অবসান হয়েছে। তবে রাশিয়া এখনও তুরস্ক, হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ায় কৃষ্ণ সাগরের তুর্কস্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পাঠাতে পারবে।
এই মুহূর্তে ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহে তেমন কোনো বড় প্রভাব পড়েনি, তবে এই পরিবর্তনের কৌশলগত এবং প্রতীকী গুরুত্ব ব্যাপক। রাশিয়া তার এক গুরুত্বপূর্ণ বাজার হারিয়েছে, কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করছেন, এতে ইউরোপীয় দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর গ্যাস আমদানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়, কিন্তু পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ এখনও রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যার ফলে রাশিয়া বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো আয় করে।
২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির মাত্র ১০ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে, যা ২০২১ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। তবে স্লোভাকিয়া ও অস্ট্রিয়াসহ ইইউভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছিল। অস্ট্রিয়ার জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, পর্যাপ্ত মজুত ও বিকল্প উৎস থাকায় তারা কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে না। তবে ইউক্রেনের গ্যাস পরিবহন চুক্তির পরিবর্তনের কারণে স্লোভাকিয়া ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্লোভাকিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার গ্যাসের প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করছে এবং অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও ইতালিতে গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে ট্রানজিট ফি আয় করছে।
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেছেন, এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলবে, তবে রাশিয়ার জন্য তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। শুক্রবার তিনি মস্কো সফর করে পুতিনের সাথে আলোচনা করেছেন এবং ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। ফিকোর মস্কো সফরের পর, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে অভিযুক্ত করেছেন যে, স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুতিনকে ‘যুদ্ধে অর্থায়ন ও ইউক্রেনকে দুর্বল করতে’ সহায়তা করতে চাচ্ছেন।
এদিকে, ইউক্রেনকে কেউ যেচে এসে শান্তি উপহার দেবে বলে বিশ্বাস করেন না দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে গত মঙ্গলবার গভীররাতে নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে নতুন বছরেও কিয়েভের পাশে থাকবে ওয়াশিংটন। নতুন বছরে জনগণের প্রতি দেওয়া ২১ মিনিটের শুভেচ্ছামূলক বার্তায় তিনি বলেছেন, একমাত্র শক্তিশালী ইউক্রেনই পারে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করতে। ইউক্রেনের পতাকা, যুদ্ধক্ষেত্র ও শিশুদের স্থিরচিত্র সম্বলিত ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, উপহার হিসেবে আমরা শান্তি পাব না, সেটা বোঝা হয়ে গেছে আমাদের। তবে রাশিয়াকে প্রতিহত করে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। আমাদের সবার চাওয়া এটাই। বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন, নবনির্বাচিত ট্রাম্প ও ইউক্রেনের সমর্থনে থাকা সব নেতার প্রতি সম্মান প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আমি নিশ্চিত, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের অবসান চান। তিনি পুতিনের আগ্রাসন প্রতিহত করে যুদ্ধে অবসান ঘটাতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। ট্রাম্প সম্পর্কে তিনি আরও বলেছেন, তিনি বুঝতে পারেন যে পুতিনের আগ্রাসন থামানো ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। কারণ এটি কোনও রাস্তার মারামারি নয় যেখানে দুই পক্ষকে শান্ত করা দরকার। এটি একটি সভ্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি উন্মাদ রাষ্ট্রের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন। আমি বিশ্বাস করি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে রাশিয়াকে বাধ্য করতে পারব শান্তি নিশ্চিত করতে।
এদিকে, বিশ্ব জুড়ে চলছে নতুন বর্ষবরণের আমেজ। নতুন বছরকে বরন করে নিচ্ছিল সারা বিশ্ব। নতুন বছরের প্রথম দিনেই ইউক্রেনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভে গতকালের হামলায় অন্তত তিনজন আহত ও দুটি জেলার একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়র ভিটালি ক্লিটশকো বলেছেন, শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করছিল বিমানবাহিনী। সে সময় একটি ভবনের দুটি তলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গতকাল সকালেই রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা ড্রোনের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে দেশটির বিমান বাহিনী। তার কিছুক্ষণ পরেই বিস্ফোরণে আওয়াজ শোনা যায়। তিনি আরও বলেছেন, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অনাবাসিক আরেকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব সুসংহত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। গত সোমবার প্রিয় বন্ধু ভদিমির পুতিনকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৫ সালকে কিম একবিংশ শতাব্দীর সেই বছর হিসেবে দেখার আশা প্রকাশ করেছেন, যেখানে নব্য নাৎসিবাদকে প্রতিহত করে রুশ সেনাবাহিনী তাদের বিজয় নিশ্চিত করবে। বিদায়ী বছর ২০২৪ সালের জুন মাসে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন কিম ও পুতিন। চুক্তি অনুযায়ী, কোনও এক পক্ষের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য পক্ষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। চুক্তির পর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ হয়ে লড়াই করার জন্য কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পিয়ংইয়ং। ওয়াশিংটন ও সিউলের দাবি, সহস্রাধিক উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে আহত বা নিহত হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমা বিশ্বের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশের সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য জটিল করে তুলেছে। এরমধ্যে প্রায় তিন বছরের কাছাকাছি সময় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে মস্কো। একের পর এক নিষেধাজ্ঞার পরও রাশিয়াকে কাবু করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ঠিক ২৫ বছর আগে, ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরিস ইয়েলৎসিনের হঠাৎ পদত্যাগের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হন পুতিন। পতন হওয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মর্যাদা ফেরাতে রাশিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন তিনি। বিরোধীদের কোণঠাসা করে রাশিয়ার একক নেতা এখন পুতিনই।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি স্থবির

আপডেট সময় : ০৯:১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ইউরোপে সস্তা রাশিয়ান গ্যাসের যুগ সমাপ্ত
  • মোলডোভায় দেখা দিয়েছে গ্যাসের সংকট
  • পূর্ব ইউরোপ থেকে রাশিয়ার আয় বছরে ৫ বিলিয়ন ইউরো
  • রাশিয়াকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে : জেলেনস্কি
  • রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী উ. কোরিয়া
  • ক্ষমতাগ্রহণের ২৫ বছর পূরণ হলো পুতিনের

ইউক্রেনের গ্যাস ট্রানজিট অপারেটর নাফটোগাজ এবং রাশিয়ার গ্যাজপ্রমের মধ্যে পাঁচ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, তার দেশ রাশিয়াকে আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার আয় করতে দেবে না। এজন্য ইইউকে প্রস্তুতি নিতে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ইউরোপীয় কমিশন পরে জানিয়েছিল, ইউরোপের গ্যাস সিস্টেম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।
তবে স্লোভাকিয়া, যা এখনও রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, দেশটি সমস্যা মোকাবিলা করতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এদিকে মোলডোভা, যেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। দেশটি ইতোমধ্যে গ্যাসের সংকটে পড়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস পরিবহন করছিল, তবে এখন সেই চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে রুশ গ্যাসের যুগের আপাতত অবসান হয়েছে। তবে রাশিয়া এখনও তুরস্ক, হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ায় কৃষ্ণ সাগরের তুর্কস্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পাঠাতে পারবে।
এই মুহূর্তে ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহে তেমন কোনো বড় প্রভাব পড়েনি, তবে এই পরিবর্তনের কৌশলগত এবং প্রতীকী গুরুত্ব ব্যাপক। রাশিয়া তার এক গুরুত্বপূর্ণ বাজার হারিয়েছে, কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করছেন, এতে ইউরোপীয় দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর গ্যাস আমদানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়, কিন্তু পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ এখনও রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যার ফলে রাশিয়া বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো আয় করে।
২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির মাত্র ১০ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে, যা ২০২১ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। তবে স্লোভাকিয়া ও অস্ট্রিয়াসহ ইইউভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছিল। অস্ট্রিয়ার জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, পর্যাপ্ত মজুত ও বিকল্প উৎস থাকায় তারা কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে না। তবে ইউক্রেনের গ্যাস পরিবহন চুক্তির পরিবর্তনের কারণে স্লোভাকিয়া ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্লোভাকিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার গ্যাসের প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করছে এবং অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও ইতালিতে গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে ট্রানজিট ফি আয় করছে।
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেছেন, এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলবে, তবে রাশিয়ার জন্য তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। শুক্রবার তিনি মস্কো সফর করে পুতিনের সাথে আলোচনা করেছেন এবং ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। ফিকোর মস্কো সফরের পর, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে অভিযুক্ত করেছেন যে, স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুতিনকে ‘যুদ্ধে অর্থায়ন ও ইউক্রেনকে দুর্বল করতে’ সহায়তা করতে চাচ্ছেন।
এদিকে, ইউক্রেনকে কেউ যেচে এসে শান্তি উপহার দেবে বলে বিশ্বাস করেন না দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে গত মঙ্গলবার গভীররাতে নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে নতুন বছরেও কিয়েভের পাশে থাকবে ওয়াশিংটন। নতুন বছরে জনগণের প্রতি দেওয়া ২১ মিনিটের শুভেচ্ছামূলক বার্তায় তিনি বলেছেন, একমাত্র শক্তিশালী ইউক্রেনই পারে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করতে। ইউক্রেনের পতাকা, যুদ্ধক্ষেত্র ও শিশুদের স্থিরচিত্র সম্বলিত ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, উপহার হিসেবে আমরা শান্তি পাব না, সেটা বোঝা হয়ে গেছে আমাদের। তবে রাশিয়াকে প্রতিহত করে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। আমাদের সবার চাওয়া এটাই। বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন, নবনির্বাচিত ট্রাম্প ও ইউক্রেনের সমর্থনে থাকা সব নেতার প্রতি সম্মান প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আমি নিশ্চিত, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের অবসান চান। তিনি পুতিনের আগ্রাসন প্রতিহত করে যুদ্ধে অবসান ঘটাতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। ট্রাম্প সম্পর্কে তিনি আরও বলেছেন, তিনি বুঝতে পারেন যে পুতিনের আগ্রাসন থামানো ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। কারণ এটি কোনও রাস্তার মারামারি নয় যেখানে দুই পক্ষকে শান্ত করা দরকার। এটি একটি সভ্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি উন্মাদ রাষ্ট্রের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন। আমি বিশ্বাস করি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে রাশিয়াকে বাধ্য করতে পারব শান্তি নিশ্চিত করতে।
এদিকে, বিশ্ব জুড়ে চলছে নতুন বর্ষবরণের আমেজ। নতুন বছরকে বরন করে নিচ্ছিল সারা বিশ্ব। নতুন বছরের প্রথম দিনেই ইউক্রেনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভে গতকালের হামলায় অন্তত তিনজন আহত ও দুটি জেলার একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়র ভিটালি ক্লিটশকো বলেছেন, শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করছিল বিমানবাহিনী। সে সময় একটি ভবনের দুটি তলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গতকাল সকালেই রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা ড্রোনের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে দেশটির বিমান বাহিনী। তার কিছুক্ষণ পরেই বিস্ফোরণে আওয়াজ শোনা যায়। তিনি আরও বলেছেন, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অনাবাসিক আরেকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব সুসংহত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। গত সোমবার প্রিয় বন্ধু ভদিমির পুতিনকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৫ সালকে কিম একবিংশ শতাব্দীর সেই বছর হিসেবে দেখার আশা প্রকাশ করেছেন, যেখানে নব্য নাৎসিবাদকে প্রতিহত করে রুশ সেনাবাহিনী তাদের বিজয় নিশ্চিত করবে। বিদায়ী বছর ২০২৪ সালের জুন মাসে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন কিম ও পুতিন। চুক্তি অনুযায়ী, কোনও এক পক্ষের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য পক্ষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। চুক্তির পর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ হয়ে লড়াই করার জন্য কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পিয়ংইয়ং। ওয়াশিংটন ও সিউলের দাবি, সহস্রাধিক উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে আহত বা নিহত হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমা বিশ্বের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশের সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য জটিল করে তুলেছে। এরমধ্যে প্রায় তিন বছরের কাছাকাছি সময় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে মস্কো। একের পর এক নিষেধাজ্ঞার পরও রাশিয়াকে কাবু করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ঠিক ২৫ বছর আগে, ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরিস ইয়েলৎসিনের হঠাৎ পদত্যাগের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হন পুতিন। পতন হওয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মর্যাদা ফেরাতে রাশিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন তিনি। বিরোধীদের কোণঠাসা করে রাশিয়ার একক নেতা এখন পুতিনই।