০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরিষাবাড়ীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইকে খুন

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে  জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে  চাচাতো ভাইকে প্রকাশে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করেছে চাচাতো ভাই আপেল। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে ২ জন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১ ঘটিকার দিকে পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় তারাকান্দি পশ্চিম পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু তালুকদারের ছেলে আতাউর রহমান বিপুল তালুকদার (৪০) নিহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, মোছা. মুক্তা বেগম (৩৫) ও মোছা. আছমা বেগম (৬০)। আহতদের ময়মনসিংহ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সীমানার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মৃত তোতা তালুকদারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সাথে বিবাদ হয় বিপুলের। কিছুক্ষণ পর মৃত তোতা তালুকদারের ছেলে আসাদুজ্জামান আপেল তালুকদার বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত বিপুল ও তার স্ত্রীর উপর হামলা করে। এ সময় বিপুলের ডান হাত ও ডান পা কুপিয়ে কেটে ফেলে এবং তার স্ত্রী মুক্তার ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল ও বাম পায়ের রগ কেটে ফেলে। এই দেখে বিপুলের মা আছমা বেগম ফিরাতে গেলে তারও একটি হাত ভেঙে ফেলে।
এলাকাবাসীর ডাক  চিৎকারে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও পরে  সংবাদ পেয়ে  সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সৌরভ বাবু জানান, মারামারি চলাকালীন সময় আহতদের ডাক চিৎকারে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বিপুলের হাত ও পা দ্বিখন্ডিত হয়ে মাটিতে পড়ে আছে এবং বিপুলের স্ত্রী মুক্তার হাতের আঙ্গুল ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। এ সময় তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় কেউ তাদের কাছে ভিড়তে পারেনি। পরে আমি মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে মাইকিং করে লোকজনকে ডেকে আনি। সন্ত্রাসীরা ছুটে আসা লোকজন দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়।

এলাকাবাসী  আরো জানান, আপেলের নেতৃত্বে তার দুই বোন তুহিনা ও শাহানা বেগম এবং দুই ভাগিনা রাব্বি ও জীবনসহ বহিরাগত ১০/১২ জন সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে প্রকাশ্য দিবালোকে বিপুলকে কুপিয়ে নিশংসভাবে হত্যা করেছে। সম্ভবত এটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে জানান তারা। এ ঘটনায় আপেলের মা আনোয়ারা বেগমকে জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ  চাঁদ মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

সরিষাবাড়ীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইকে খুন

আপডেট সময় : ০৯:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে  জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে  চাচাতো ভাইকে প্রকাশে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করেছে চাচাতো ভাই আপেল। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে ২ জন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১ ঘটিকার দিকে পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় তারাকান্দি পশ্চিম পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু তালুকদারের ছেলে আতাউর রহমান বিপুল তালুকদার (৪০) নিহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, মোছা. মুক্তা বেগম (৩৫) ও মোছা. আছমা বেগম (৬০)। আহতদের ময়মনসিংহ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সীমানার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মৃত তোতা তালুকদারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সাথে বিবাদ হয় বিপুলের। কিছুক্ষণ পর মৃত তোতা তালুকদারের ছেলে আসাদুজ্জামান আপেল তালুকদার বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত বিপুল ও তার স্ত্রীর উপর হামলা করে। এ সময় বিপুলের ডান হাত ও ডান পা কুপিয়ে কেটে ফেলে এবং তার স্ত্রী মুক্তার ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল ও বাম পায়ের রগ কেটে ফেলে। এই দেখে বিপুলের মা আছমা বেগম ফিরাতে গেলে তারও একটি হাত ভেঙে ফেলে।
এলাকাবাসীর ডাক  চিৎকারে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও পরে  সংবাদ পেয়ে  সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সৌরভ বাবু জানান, মারামারি চলাকালীন সময় আহতদের ডাক চিৎকারে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বিপুলের হাত ও পা দ্বিখন্ডিত হয়ে মাটিতে পড়ে আছে এবং বিপুলের স্ত্রী মুক্তার হাতের আঙ্গুল ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। এ সময় তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় কেউ তাদের কাছে ভিড়তে পারেনি। পরে আমি মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে মাইকিং করে লোকজনকে ডেকে আনি। সন্ত্রাসীরা ছুটে আসা লোকজন দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়।

এলাকাবাসী  আরো জানান, আপেলের নেতৃত্বে তার দুই বোন তুহিনা ও শাহানা বেগম এবং দুই ভাগিনা রাব্বি ও জীবনসহ বহিরাগত ১০/১২ জন সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে প্রকাশ্য দিবালোকে বিপুলকে কুপিয়ে নিশংসভাবে হত্যা করেছে। সম্ভবত এটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে জানান তারা। এ ঘটনায় আপেলের মা আনোয়ারা বেগমকে জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ  চাঁদ মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।