প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনে বইছে পহেলা ফাল্গুনের হাওয়া, আর সামনে ভালোবাসা দিবস । এরপর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশেষ এই তিনটি দিনকে সামনে রেখে দেশের ফুলের বাজারে লেগেছে ব্যস্ততা। চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। আর এই চাহিদার একটি অংশ পূরণ করছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ফুলচাষিরা।
সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে এগিয়ে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা। সাভারের বিরুলিয়া কিংবা যশোরের গদখালির মতোই এখানে বড় পরিসরে চাষ হচ্ছে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, জিপসি ও স্টারের মতো জনপ্রিয় ফুল। বর্তমানে উপজেলার জয়মন্টপ, ধল্লা, শায়েস্তা ও তালেবপুর ইউনিয়নের আট থেকে দশটি গ্রামে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফুলের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে নানা জাতের গোলাপ ফুল। আর বাকি ৪ হেক্টর জমিতে গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, জিপসি ও স্টারসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ফুল খেত পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন উপজেলার ফুল চাষিরা। কেউ কেউ ফুল সংগ্রহ করে তা দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানোর জন্য বাজারজাতকরণ কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেন সিংগাইরের অন্যতম সফল ফুলচাষি। ১৮ বছর আগে মাত্র ২ বিঘা জমিতে ফুলচাষ শুরু করেছিলেন তিনি। বর্তমানে তার ফুলের ক্ষেতের পরিমাণ ২৫ বিঘায় পৌঁছেছে।
বাবুল হোসেন বলেন, ‘এই ফেব্রুয়ারি মাসে ফুলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। যদি বিদেশে থেকে ফুল আমদানি না হয় তাহলে ভালো লাভবান হতে পারব।
শুধু বাবুল হোসেন নন, তার মতো আরও ২০ থেকে ২৫ জন কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করছেন। উপজেলার জয়মন্টপ, ধল্লা, শায়েস্তা ও তালেবপুর ইউনিয়নে বাণিজ্যিক ফুল চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
একই গ্রামের ফুল চাষি ইব্রাহিমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আট বছরের বেশি সময় ধরে ফুল চাষের সাথে জড়িত। আগে অন্যান্য ফুল চাষ করলেও এখন শুধু পাঁচ রংয়ের চায়না গোলাপের চাষ করি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফুলের মানও ভালো হয়েছে। প্রতিপিস গোলাপ বিক্রি করছি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর ক্যাপ পড়ানো গোলাপ বিক্রি করছি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।’
ফোর্ডনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের তরুণ চাষী সবুজুর রহমান জানান, ‘আমি ৫২ শতাংশ জায়গায় সাদা ও হলুদ জাতের চন্দ্রমল্লিকা ফুলের আবাদ করেছি। এসব গাছের বীজ ভারত থেকে আনতে হয়। সব মিলিয়ে আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। বাজার যদি ঠিক থাকে তাহলে খরচ বাদ দিয়ে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে।’
একই গ্রামের ফুল চাষী তুহিন জানান, ‘দেড় বিঘা জায়গায় জিপসি ফুলের আবাদ করেছি। ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার প্রায় এই খেত থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হবে। আমাদের ফুল ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি হয়।’
সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, ‘সিংগাইর উপজেলায় ১১ বছর ধরে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ফুল চাষ হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের আট থেকে ১০ গ্রামে বিভিন্ন জাতের গোলাপ, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, জিপসি ও স্টারসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলের আবাদ হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়ায় পরিবহন খরচ কম এবং বাজারজাতকরণ সহজ হওয়ার কারণে ফুল চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি দিবসে কম করে হলেও আড়াই কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা করা হচ্ছে।’





















