০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর রাণীনগরে বাঁধ কেটে পুকুর খননের খননের জন্য রাস্তা তৈরি

দেশের শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁর প্রধান ফসল হচ্ছে ধান চাষ। অনেকটা কৃষির উপর নির্ভর করেই চলে এই অঞ্চলের সিংহ ভাগ মানুষের জীবিকা। কিন্তু মাটি খেকোদের তান্ডবে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমির পরিমাণ। তাদের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও এলাকার পরিবেশ।
এই জেলায় ফসলী জমিতে পুকুর খনন বা পুকুর সংস্কারের নামে মাটি কাটার শুরুটা অনেক আগে থেকেই। তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের পুরোটা সময়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটির কাটার মহোৎসব। গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও এই অপকর্ম চলছে আগের মতোই।
এবার মাটি বিক্রির জন্য খোদ সরকারি বেরি বাঁধ কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। এমনকি বাঁধের অনেকগুলো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দেখে মনে হবে সরকারি অনুদানে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ফসলী জমিতে পুকুর খননের মাটি নিয়ে যাওয়া হবে, তাই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই কাজ করছে তারা। আর নিরব ভূমিকায় আছেন স্ব স্ব দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের হামিদপুরের আয়াপুর মৌজার চরকানাই এলাকার শ্রীমতখালী খালের সরকারি বেরি বাঁধ কেটে কৃষি জমিতে পুকুর খননের মাটি বহনের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নামধারী ব্যক্তিরা এই কাজ করছে বলে দাবি জমির লীজগ্রহীতার। অপরদিকে বিএনপির দাবি তারা এই কাজের সাথে জড়িত না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বেরিবাঁধ কেটে নিজেদের ইচ্ছে মাফিক এমন অবৈধ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মিরাটের হামিদপুরের চরকানাই এলাকার বেরিবাঁধের বাসিন্দা জেমস, আসলাম ও এক নারী জানান, প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম সরকারের পক্ষ থেকে বাঁধ কেটে চলাচলের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে। পরে জানতে পারি চরকানাই এলাকার চাষের জমি ও আশেপাশের জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করা হবে। সেই পুকুরের মাটি বহনে ট্রাক্টরের চলাচলের জন্য বিএনপি নামধারী কিছু ব্যক্তি বাঁধ কেটে অবৈধ ভাবে রাস্তা তৈরি করেছেন। বাঁধ কাটতে বাঁধা দিলেও তারা সেই বাঁধা তোয়াক্কা না করে রাস্তা নির্মাণ করেছে কতিপয় বিএনপি নামধারী ব্যক্তিরা। যদি এই রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর চলাচল করে তাহলের বাঁধের মুখে যে ব্রীজ রয়েছে সেটি চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ঘটবে নানা দুর্ঘটনা। চলাচলের জন্য রাস্তার খুবই দরকার কিন্তু সেই রাস্তা দিয়ে মাটি নিয়ে ট্রাক্টর চলাচল করলে বাঁধের অনেক ক্ষতি হবে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে তৈরি করা রাস্তা ধ্বসে যাওয়ার আশাঙ্কায় রয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে লিজ নিয়েছে বলে জানান চরকানাই এলাকার বাসিন্দা শহিদ। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি শুধু জমি লিজ নিয়েছি। পুকুর কেটে দিচ্ছে কয়েকজন ব্যক্তি। তারা আমার কাছ থেকে জমির কাগজ নিয়ে গেছে। আর আমি বাঁধের রাস্তা কাটিনি। তিনি আরও বলেন, রাণীনগর উপজেলার দুইজন ও সদর উপজেলার দুইজন বিএনপি নেতা আয়াপুর মৌজায় থাকা আমারসহ আশেপাশের কৃষকদের প্রায় ৩০-৪০বিঘা জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করবেন বলে জমির সকল কাগজপত্রাদি নিয়েছেন। সেই পুকুর খননের মাটি বহনের জন্য তারাই বাঁধ কেটে ট্রাক্টর চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করেছেন। তবে শহিদ সেই বিএনপি নেতাদের নাম প্রকাশ করেননি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন জানান, বিএনপির সঙ্গে জড়িত এমন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া রাষ্টের ক্ষতি হয় এমন কোন কর্মকান্ডের সঙ্গে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান মুঠোফোনে জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতি দ্রুতই বাঁধ কেটে রাস্তা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ওই এলাকার ফসলী জমিতে পুকুর খননের কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

নওগাঁর রাণীনগরে বাঁধ কেটে পুকুর খননের খননের জন্য রাস্তা তৈরি

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
দেশের শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁর প্রধান ফসল হচ্ছে ধান চাষ। অনেকটা কৃষির উপর নির্ভর করেই চলে এই অঞ্চলের সিংহ ভাগ মানুষের জীবিকা। কিন্তু মাটি খেকোদের তান্ডবে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমির পরিমাণ। তাদের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও এলাকার পরিবেশ।
এই জেলায় ফসলী জমিতে পুকুর খনন বা পুকুর সংস্কারের নামে মাটি কাটার শুরুটা অনেক আগে থেকেই। তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের পুরোটা সময়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটির কাটার মহোৎসব। গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও এই অপকর্ম চলছে আগের মতোই।
এবার মাটি বিক্রির জন্য খোদ সরকারি বেরি বাঁধ কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। এমনকি বাঁধের অনেকগুলো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দেখে মনে হবে সরকারি অনুদানে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ফসলী জমিতে পুকুর খননের মাটি নিয়ে যাওয়া হবে, তাই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই কাজ করছে তারা। আর নিরব ভূমিকায় আছেন স্ব স্ব দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের হামিদপুরের আয়াপুর মৌজার চরকানাই এলাকার শ্রীমতখালী খালের সরকারি বেরি বাঁধ কেটে কৃষি জমিতে পুকুর খননের মাটি বহনের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নামধারী ব্যক্তিরা এই কাজ করছে বলে দাবি জমির লীজগ্রহীতার। অপরদিকে বিএনপির দাবি তারা এই কাজের সাথে জড়িত না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বেরিবাঁধ কেটে নিজেদের ইচ্ছে মাফিক এমন অবৈধ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মিরাটের হামিদপুরের চরকানাই এলাকার বেরিবাঁধের বাসিন্দা জেমস, আসলাম ও এক নারী জানান, প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম সরকারের পক্ষ থেকে বাঁধ কেটে চলাচলের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে। পরে জানতে পারি চরকানাই এলাকার চাষের জমি ও আশেপাশের জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করা হবে। সেই পুকুরের মাটি বহনে ট্রাক্টরের চলাচলের জন্য বিএনপি নামধারী কিছু ব্যক্তি বাঁধ কেটে অবৈধ ভাবে রাস্তা তৈরি করেছেন। বাঁধ কাটতে বাঁধা দিলেও তারা সেই বাঁধা তোয়াক্কা না করে রাস্তা নির্মাণ করেছে কতিপয় বিএনপি নামধারী ব্যক্তিরা। যদি এই রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর চলাচল করে তাহলের বাঁধের মুখে যে ব্রীজ রয়েছে সেটি চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ঘটবে নানা দুর্ঘটনা। চলাচলের জন্য রাস্তার খুবই দরকার কিন্তু সেই রাস্তা দিয়ে মাটি নিয়ে ট্রাক্টর চলাচল করলে বাঁধের অনেক ক্ষতি হবে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে তৈরি করা রাস্তা ধ্বসে যাওয়ার আশাঙ্কায় রয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে লিজ নিয়েছে বলে জানান চরকানাই এলাকার বাসিন্দা শহিদ। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি শুধু জমি লিজ নিয়েছি। পুকুর কেটে দিচ্ছে কয়েকজন ব্যক্তি। তারা আমার কাছ থেকে জমির কাগজ নিয়ে গেছে। আর আমি বাঁধের রাস্তা কাটিনি। তিনি আরও বলেন, রাণীনগর উপজেলার দুইজন ও সদর উপজেলার দুইজন বিএনপি নেতা আয়াপুর মৌজায় থাকা আমারসহ আশেপাশের কৃষকদের প্রায় ৩০-৪০বিঘা জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করবেন বলে জমির সকল কাগজপত্রাদি নিয়েছেন। সেই পুকুর খননের মাটি বহনের জন্য তারাই বাঁধ কেটে ট্রাক্টর চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করেছেন। তবে শহিদ সেই বিএনপি নেতাদের নাম প্রকাশ করেননি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন জানান, বিএনপির সঙ্গে জড়িত এমন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া রাষ্টের ক্ষতি হয় এমন কোন কর্মকান্ডের সঙ্গে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান মুঠোফোনে জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতি দ্রুতই বাঁধ কেটে রাস্তা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ওই এলাকার ফসলী জমিতে পুকুর খননের কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।