১২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে সাগরে ফেলে দেয়া সেই জেলের লাশ ভেসে উঠলো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা
দেওয়ায় রামদাস (৩২) নামের এক জেলেকে মাথায় আঘাত করে সাগরে ফেলে
দেবার পাঁচদিন পর তার লাশ সাগরে ভেসে উঠেছে। নিহত রামদাশ বাড়বকুণ্ড
ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড জেলে পাড়ার শীতল জলদাশের ছেলে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী
সাগর পাড়ে তার লাশটি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে জেলেরা। পরে পুলিশে
খবর দেয়া হলে নৌ-পুলিশ তার লাশটি উদ্ধার করেন।
জানা যায়, সকালে জেলেরা মাছ শিকার করতে বের হলে গুলিয়াখালী সাগর পাড়
থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরবর্তী মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সাগর
পাড়ে রামদাশের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে নৌ-পুলিশ তার
লাশটি উদ্ধার করেন।
নিহত রামদাশের প্রতিবেশি প্রদীপ জলদাশ জানান, শুক্রবার সকালে গুলিয়াখালী
এলাকায় রামদাশের লাশ ভেসে উঠলে এলাকার জেলেরা লাশ দেখে পরিবারকে খবর
দেয়। শেষে পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বলেন,
শুক্রবার সকালে গুলিয়াখালী সাগর উপকূল থেকে নিখোঁজ জেলে রামদাশের লাশ
উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার বাড়বকুণ্ড সাগর উপকূলে
ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল একটি চক্র। তারা
ড্রেজার ও বাল্কহেড নিয়ে যাতায়াতকালে সাগরে পেতে রাখা জেলেদের বহু
জাল কেটে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল প্রতিদিন। সোমবার (১৭
ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এভাবে বালু উত্তোলনের সময় জেলেদের জাল
কেটে ফেলায় প্রতিবাদ জানাতে যায় বাড়বকুণ্ড জেলে পাড়ার শীতল জলদাশের
দুই ছেলে রামদাশ ও তার ভাই লিটন দাশ। প্রতিবাদ জানানোর সময় তর্ক শুরু
হলে বালুখেকো চক্র দুই ভাইকে বালু বহনকারী বাল্কহেডে তুলে নিয়ে
অপহরণের চেষ্টা করে। এতে ধস্তাধস্তি শুরু হলে তারা রামদাশের মাথায় আঘাত
করে তাকে সাগরে ফেলে দেয়। এতে রামদাশ সাগরে তলিয়ে যায়। ফলে তার ভাই
লিটন দাশ ফোন করে অন্য জেলেদের জানালে জানালে তারা সাগরে গিয়ে
ড্রেজার বসানোয় জড়িত ৬ জনকে আটক করে পুলিশে দেয়। অন্যদিকে ভাই
লিটনকে অপহরণ করে নোয়াখালী নিয়ে যায় বাল্কহেডে থাকা
দুস্কৃতিকারীরা।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে জেলেদের হাতে আটক ৬ জনকে
জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের মাধ্যমে বাল্কহেডে যোগাযোগ করে একদিন পর

লিটন দাশকে উদ্ধার শেষে আটক ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়
পুলিশ। মামলাটি দায়ের করেন রাম দাশের স্ত্রী কনিকা দাশ।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক মাস ধরে সীতাকুণ্ডে বাড়বকুণ্ড থেকে
সোনাইছড়ি সাগর উপকূলীয় এলাকায় প্রতিদিন দিনরাত অবৈধভাবে বালু
উত্তোলন করছে একটি চক্র। এতে উপকূলীয় বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অংশে
ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দেবে যাচ্ছে বাড়ি ঘর। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষিপ্ত
হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে উদাসীন থাকায় বালু খেকোরা বেপরোয়া হয়ে
উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

সীতাকুণ্ডে সাগরে ফেলে দেয়া সেই জেলের লাশ ভেসে উঠলো

আপডেট সময় : ০৪:৪০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা
দেওয়ায় রামদাস (৩২) নামের এক জেলেকে মাথায় আঘাত করে সাগরে ফেলে
দেবার পাঁচদিন পর তার লাশ সাগরে ভেসে উঠেছে। নিহত রামদাশ বাড়বকুণ্ড
ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড জেলে পাড়ার শীতল জলদাশের ছেলে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী
সাগর পাড়ে তার লাশটি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে জেলেরা। পরে পুলিশে
খবর দেয়া হলে নৌ-পুলিশ তার লাশটি উদ্ধার করেন।
জানা যায়, সকালে জেলেরা মাছ শিকার করতে বের হলে গুলিয়াখালী সাগর পাড়
থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরবর্তী মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সাগর
পাড়ে রামদাশের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে নৌ-পুলিশ তার
লাশটি উদ্ধার করেন।
নিহত রামদাশের প্রতিবেশি প্রদীপ জলদাশ জানান, শুক্রবার সকালে গুলিয়াখালী
এলাকায় রামদাশের লাশ ভেসে উঠলে এলাকার জেলেরা লাশ দেখে পরিবারকে খবর
দেয়। শেষে পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বলেন,
শুক্রবার সকালে গুলিয়াখালী সাগর উপকূল থেকে নিখোঁজ জেলে রামদাশের লাশ
উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার বাড়বকুণ্ড সাগর উপকূলে
ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল একটি চক্র। তারা
ড্রেজার ও বাল্কহেড নিয়ে যাতায়াতকালে সাগরে পেতে রাখা জেলেদের বহু
জাল কেটে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল প্রতিদিন। সোমবার (১৭
ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এভাবে বালু উত্তোলনের সময় জেলেদের জাল
কেটে ফেলায় প্রতিবাদ জানাতে যায় বাড়বকুণ্ড জেলে পাড়ার শীতল জলদাশের
দুই ছেলে রামদাশ ও তার ভাই লিটন দাশ। প্রতিবাদ জানানোর সময় তর্ক শুরু
হলে বালুখেকো চক্র দুই ভাইকে বালু বহনকারী বাল্কহেডে তুলে নিয়ে
অপহরণের চেষ্টা করে। এতে ধস্তাধস্তি শুরু হলে তারা রামদাশের মাথায় আঘাত
করে তাকে সাগরে ফেলে দেয়। এতে রামদাশ সাগরে তলিয়ে যায়। ফলে তার ভাই
লিটন দাশ ফোন করে অন্য জেলেদের জানালে জানালে তারা সাগরে গিয়ে
ড্রেজার বসানোয় জড়িত ৬ জনকে আটক করে পুলিশে দেয়। অন্যদিকে ভাই
লিটনকে অপহরণ করে নোয়াখালী নিয়ে যায় বাল্কহেডে থাকা
দুস্কৃতিকারীরা।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে জেলেদের হাতে আটক ৬ জনকে
জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের মাধ্যমে বাল্কহেডে যোগাযোগ করে একদিন পর

লিটন দাশকে উদ্ধার শেষে আটক ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়
পুলিশ। মামলাটি দায়ের করেন রাম দাশের স্ত্রী কনিকা দাশ।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক মাস ধরে সীতাকুণ্ডে বাড়বকুণ্ড থেকে
সোনাইছড়ি সাগর উপকূলীয় এলাকায় প্রতিদিন দিনরাত অবৈধভাবে বালু
উত্তোলন করছে একটি চক্র। এতে উপকূলীয় বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অংশে
ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দেবে যাচ্ছে বাড়ি ঘর। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষিপ্ত
হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে উদাসীন থাকায় বালু খেকোরা বেপরোয়া হয়ে
উঠেছে।