০১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেশায় কমলনগরে একই পরিবারের ১২ জনকে অচেতন, হাসপাতালে ভর্তি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক দ্রব্য নেশা খাইয়ে একই
বাড়ির তিন পরিবারের ৪ শিশু ও নারী পুরুষসহ ১২জনকে অচেতন করেছে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাদের
অচেতন ও গুরতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার
অবনতি দেখে চিকিৎসক ৯ জনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তিনজনকে কমলনগর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার শাহজাহান মৃর্দার বাড়িতে
এ ঘটনা ঘটে। এরপর রাত সাড়ে এগারোটার দিকে অচেতন অবস্থায় মো. শাহজাহান মৃর্দা
(৭০), নুর ভানু (৬৫), পান্না আক্তার (২৭), আকলিমা বেগম (২০), আরমান হোসেন (১০), ইমরান
হোসেন (৪), নুসরাত (৪), মরিয়ম (৪), পলি আক্তার ( ১৬), পিংকি বেগম (২৫) ও মো. নিশান (২৮)
সহ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে এক জনের জ্ঞান ফিরে আসে। এর আগে রাতের খাবার
খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তারা।
জ্ঞান ফিরে আসা পলি আক্তার জানান, প্রতিদিনের মতো রান্না শেষ করে ঘরের দরজা বন্ধ করে
পরিবারের সবাই মিলে মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবেশীর এক বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে
যান তারা। এরপর ফিরে এসে রান্না করা হাঁসের মাংস দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
এ সময় দুই শিশু বমি করলেও বিষয়টি অনুমান করতে পারেননি কেউ। পরে জ্ঞান ফিরে দেখেন তিনি
হাসপাতালে।
ভুক্তভোগী শাহজাহান মৃর্দার ভাতিজা ও স্থানীয় আবুয়াল হোসেন কমিউনিটি ক্লিনিকের
(সিএইচসিপি) হেলথকেয়ার প্রোভাইডার মো. কামরুল ইসলাম জানান, বিয়ের বাড়িতে
অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়ার কোনো এক ফাঁকে দুর্বৃত্তরা রান্না করা খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক
মিশিয়ে রাখে। পরে ওই খাবার খেয়ে বাড়ির তিনটি পরিবারের ১২জন সদস্য অচেতন হয়ে পড়েন।
এসময় পরিবারের অপর সদস্যরা রাতে বাড়ি ফিরে একাধিকবার ডাকা ডাকি করলেও কোনো সারা
শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে চিকিৎসার জন্য
হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট বা চুরির বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে
পারেননি তিনি।
স্থানীয় আবুবক্কর ছিদ্দিক, নুরুন্নবী ও সালেহা বেগমসহ কয়েকজন বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা
অনুযায়ী খাবারে সাথে নেশা মেশানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। কারণ হিসেবে তারা
বলছেন, খাবারের পরই সবাই আস্তে আস্তে অচেতন হয়ে পড়েন। যে একজন সুস্থ আছেন তিনি
রাতের খাবার খুবই কম খেয়েছেন। সে কারণে তিনি পুরোপুরি অচেতন হননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত সাত

নেশায় কমলনগরে একই পরিবারের ১২ জনকে অচেতন, হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট সময় : ১১:৫৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক দ্রব্য নেশা খাইয়ে একই
বাড়ির তিন পরিবারের ৪ শিশু ও নারী পুরুষসহ ১২জনকে অচেতন করেছে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাদের
অচেতন ও গুরতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার
অবনতি দেখে চিকিৎসক ৯ জনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তিনজনকে কমলনগর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার শাহজাহান মৃর্দার বাড়িতে
এ ঘটনা ঘটে। এরপর রাত সাড়ে এগারোটার দিকে অচেতন অবস্থায় মো. শাহজাহান মৃর্দা
(৭০), নুর ভানু (৬৫), পান্না আক্তার (২৭), আকলিমা বেগম (২০), আরমান হোসেন (১০), ইমরান
হোসেন (৪), নুসরাত (৪), মরিয়ম (৪), পলি আক্তার ( ১৬), পিংকি বেগম (২৫) ও মো. নিশান (২৮)
সহ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে এক জনের জ্ঞান ফিরে আসে। এর আগে রাতের খাবার
খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তারা।
জ্ঞান ফিরে আসা পলি আক্তার জানান, প্রতিদিনের মতো রান্না শেষ করে ঘরের দরজা বন্ধ করে
পরিবারের সবাই মিলে মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবেশীর এক বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে
যান তারা। এরপর ফিরে এসে রান্না করা হাঁসের মাংস দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
এ সময় দুই শিশু বমি করলেও বিষয়টি অনুমান করতে পারেননি কেউ। পরে জ্ঞান ফিরে দেখেন তিনি
হাসপাতালে।
ভুক্তভোগী শাহজাহান মৃর্দার ভাতিজা ও স্থানীয় আবুয়াল হোসেন কমিউনিটি ক্লিনিকের
(সিএইচসিপি) হেলথকেয়ার প্রোভাইডার মো. কামরুল ইসলাম জানান, বিয়ের বাড়িতে
অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়ার কোনো এক ফাঁকে দুর্বৃত্তরা রান্না করা খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক
মিশিয়ে রাখে। পরে ওই খাবার খেয়ে বাড়ির তিনটি পরিবারের ১২জন সদস্য অচেতন হয়ে পড়েন।
এসময় পরিবারের অপর সদস্যরা রাতে বাড়ি ফিরে একাধিকবার ডাকা ডাকি করলেও কোনো সারা
শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে চিকিৎসার জন্য
হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট বা চুরির বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে
পারেননি তিনি।
স্থানীয় আবুবক্কর ছিদ্দিক, নুরুন্নবী ও সালেহা বেগমসহ কয়েকজন বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা
অনুযায়ী খাবারে সাথে নেশা মেশানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। কারণ হিসেবে তারা
বলছেন, খাবারের পরই সবাই আস্তে আস্তে অচেতন হয়ে পড়েন। যে একজন সুস্থ আছেন তিনি
রাতের খাবার খুবই কম খেয়েছেন। সে কারণে তিনি পুরোপুরি অচেতন হননি।