০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুর গনপূর্তের দুর্নীতি: হস্তান্তরের আগেই রামগঞ্জের মডেল মসজিদে ফাটল, স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ মডেল মসজিদটি হস্তান্তর না হতেই মসজিদটির
ভিতর এবং বাহিরের দেওয়ালসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ১৫ কোটি ৫৮
লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত আধুনিক এ মসজিদটিতে এমন ফাটলের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চরম
ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ লক্ষ্মীপুর জেলা অফিস সূত্র জানায়, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে
৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ
পৌরসভার আঙ্গারপাড়া ওয়ার্ডের বকসী পাটোয়ারী বাড়িতে মডেল মসজিদটি স্থাপনের উদ্দ্যেগ
নেয়া হয়। এ ছাড়া ওই বাড়ী অংশীদারগণ কতৃক ২০১৯ সনে ৩৯৮৩ দলিল মূলে দানকৃত ৪৩ শতক
সম্পত্তিতে নির্মিত হয় তিন তলা বিশিষ্ট রামগঞ্জ মডেল মসজিদ। ইসলামী ফাউন্ডেশনের
অর্থায়নে সে মোতাবেক ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যায়ে মসজিদটির
নির্মাণ কাজ শুরু করে মেসার্স জুভেন্টার্স ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে মসজিদটি বুঝিয়ে দেওয়ার শর্ত থাকলেও লক্ষ্মীপুর জেলা গনপূর্ত
বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে এবং দুর্নীতির কারণ সহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফেলতির
কারণে মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৫ সনের জানুয়ারিতে। যা চলতি বছরের
মার্চে রামগঞ্জ উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর
মধ্যেই মসজিদ ভবনটির ভিতর এবং বাহিরের দেওয়ালসহ একাধিক স্থানে দেখা দেয় ফাটল। বিষয়টি
নজরে আসায় ওই ফাটল গুলোর স্থান ভেঙে নতুন আস্তর দিয়ে পুডিং এবং রংয়ের প্রলেপ অব্যাহত
রাখে।
ফাটলের বিষয়ে জানার জন্য পি-ডব্লিউ-ডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী নাছিম আহম্মেদ
টিটুকে পাওয়া না গেলেও এ বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল
উদ্দিন জানান, ফাটল গুলো দেওয়ালের নয়, আস্তরের। কাজ করার সময় কোথাও বালির পরিমাণ বেশি
হয়েছে। আবার কোথাও সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়াতে এমনটা হয়েছে। পানি কম দেওয়ার
কারণেও এমনটা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে স্থানীয়দের দাবী, ঠিকমতো মালামাল
ব্যাবহার না করা এবং পরিমানে কম দেয়া এর তদারকি এমনকি গুনগত মান ঠিক রাখা এর দায়িত্ব
কার, বা সঠিক কাজ না করে বিল প্রদানে এ অনিয়মের জন্য দায়ী কে ? সংশ্লিষ্টরা অনেকেই মনে
করছেন ঠিকাদার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তির যোগসাজশে তৈরী দুর্নীতির আশ্রয়ের জন্য
দায়ীদের বিরুদ্ধে অভিলম্বে ব্যাবস্থা নেয়া জরুরী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুভেন্টার্স
ইন্টারন্যাশনালের প্রোফাইটর ইসতিয়াক আহম্মেদ জানান, মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে
৪/৫ মাস পূর্বে। মসজিদে ফাটলের ব্যাপারে তিনি জানান ওগুলো আস্তরের। যতটুকু সম্ভব
আস্তর, পুডিং এবং রং দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম রবিন শীষ জানান, রামগঞ্জ মডেল মসজিদ আমাদের
এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। আমরা ত্রুটিপূর্ণ মসজিদ বুঝে নেবো না।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

লক্ষ্মীপুর গনপূর্তের দুর্নীতি: হস্তান্তরের আগেই রামগঞ্জের মডেল মসজিদে ফাটল, স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ

আপডেট সময় : ১১:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ মডেল মসজিদটি হস্তান্তর না হতেই মসজিদটির
ভিতর এবং বাহিরের দেওয়ালসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ১৫ কোটি ৫৮
লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত আধুনিক এ মসজিদটিতে এমন ফাটলের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চরম
ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ লক্ষ্মীপুর জেলা অফিস সূত্র জানায়, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে
৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ
পৌরসভার আঙ্গারপাড়া ওয়ার্ডের বকসী পাটোয়ারী বাড়িতে মডেল মসজিদটি স্থাপনের উদ্দ্যেগ
নেয়া হয়। এ ছাড়া ওই বাড়ী অংশীদারগণ কতৃক ২০১৯ সনে ৩৯৮৩ দলিল মূলে দানকৃত ৪৩ শতক
সম্পত্তিতে নির্মিত হয় তিন তলা বিশিষ্ট রামগঞ্জ মডেল মসজিদ। ইসলামী ফাউন্ডেশনের
অর্থায়নে সে মোতাবেক ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যায়ে মসজিদটির
নির্মাণ কাজ শুরু করে মেসার্স জুভেন্টার্স ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে মসজিদটি বুঝিয়ে দেওয়ার শর্ত থাকলেও লক্ষ্মীপুর জেলা গনপূর্ত
বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে এবং দুর্নীতির কারণ সহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফেলতির
কারণে মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৫ সনের জানুয়ারিতে। যা চলতি বছরের
মার্চে রামগঞ্জ উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর
মধ্যেই মসজিদ ভবনটির ভিতর এবং বাহিরের দেওয়ালসহ একাধিক স্থানে দেখা দেয় ফাটল। বিষয়টি
নজরে আসায় ওই ফাটল গুলোর স্থান ভেঙে নতুন আস্তর দিয়ে পুডিং এবং রংয়ের প্রলেপ অব্যাহত
রাখে।
ফাটলের বিষয়ে জানার জন্য পি-ডব্লিউ-ডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী নাছিম আহম্মেদ
টিটুকে পাওয়া না গেলেও এ বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল
উদ্দিন জানান, ফাটল গুলো দেওয়ালের নয়, আস্তরের। কাজ করার সময় কোথাও বালির পরিমাণ বেশি
হয়েছে। আবার কোথাও সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়াতে এমনটা হয়েছে। পানি কম দেওয়ার
কারণেও এমনটা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে স্থানীয়দের দাবী, ঠিকমতো মালামাল
ব্যাবহার না করা এবং পরিমানে কম দেয়া এর তদারকি এমনকি গুনগত মান ঠিক রাখা এর দায়িত্ব
কার, বা সঠিক কাজ না করে বিল প্রদানে এ অনিয়মের জন্য দায়ী কে ? সংশ্লিষ্টরা অনেকেই মনে
করছেন ঠিকাদার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তির যোগসাজশে তৈরী দুর্নীতির আশ্রয়ের জন্য
দায়ীদের বিরুদ্ধে অভিলম্বে ব্যাবস্থা নেয়া জরুরী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুভেন্টার্স
ইন্টারন্যাশনালের প্রোফাইটর ইসতিয়াক আহম্মেদ জানান, মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে
৪/৫ মাস পূর্বে। মসজিদে ফাটলের ব্যাপারে তিনি জানান ওগুলো আস্তরের। যতটুকু সম্ভব
আস্তর, পুডিং এবং রং দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম রবিন শীষ জানান, রামগঞ্জ মডেল মসজিদ আমাদের
এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। আমরা ত্রুটিপূর্ণ মসজিদ বুঝে নেবো না।