জুলাই বিপ্লবের পর থেকে সারাদেশে ক্রকেই বেড়ে চলছে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা সহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। গাজীপুরের শ্রীপুরেও ঘটেছে এমন অনেক ঘটনা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারনে এসব ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছে সাধারণ জনগণ। গত ছয় মাসে শ্রীপুর উপজেলায় ঘটেছে বেশ কয়েকটি ডাকতি, ছিনতাই, চুরি ও খুনাখুনির ঘটনা। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। ভয় আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে উপজেলার সাধারণ জনগণ। আইন শৃঙ্খলার অবনতি, আতঙ্ক এবং ভয় থেকে দ্রুত উত্তরণ চান তাঁরা। তথ্যানুসন্ধান করে জানা যায়, গত ছয় মাসে শ্রীপুর উপজেলায় ৫০ টিরও অধিক চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ধর্ষণ এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি আলোচিত ঘটনায় জনমনে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
সর্বশেষ শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার
এমসি বাজার দখলে নিতে মাথায় লাল গামছা পেঁচিয়ে রাম দা হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এমসি বাজার ব্যবসায়ী সহ জনমনে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধর্ষণ: চলতি মাসে উপজেলার নিজমাওনা, টেপিরবাড়ি গ্রামে দুই শিশু ধর্ষিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং কেওয়া দক্ষিন খন্ড গ্রামের ফখুরুদ্দিন মোরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। এসব ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে চার ধর্ষক।
গত ২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাত মাওনা ইউনিয়নের ভেড়ামতলি গ্রামে নলকূপের পানির সাথে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে পাশাপাশি তিন বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালংকার সহ ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করার ঘটনা ঘটেছে।
একই রাতে মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকার মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কের পাশে সানা এক্সেসরিজ লিমিটেড নামক কারখানার নিরাপত্তা কর্মীর হাত-পা বেঁধে বিপুল পরিমান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।
২৬ জানুয়ারী শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খন্ড এলাকায় পিয়ার আলী কলেজের পেছনে স্কয়ার ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের ডিলার পয়েন্টের ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ারের হাত-পা বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ ৬ লাখ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে ডাকাত দল।
২৯ জানুয়ারি বুধবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ পশ্চিম পাড়া গুইলা পুকুর পাড়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক তরুণ কে অপহরণের পর রাতভর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাই দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
২০ শে ডিসেম্বর সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দক্ষিণ সিমলাপাড়া গ্রামে মোটরসাইকেল মেকানিক জামাল মাসুদের বাড়িতে খাবারের পানি অথবা খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে রাতের বেলা অভিনব কায়দায় ঘরের দরজা খুলে ডাকাতি করে ডাকাত দল।
১লা জানুয়ারি উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকায় কিশোরগ্যায়ের হামলায় ওষুধ ব্যবসায়ী নিহত হয়। ৮ জানুয়ারী উপজেলার ফখরুদ্দিন মোড় এলাকায় এক নারী সহ দুই পোশাক শ্রমিককে তুলে নিয়ে ৪২ঘন্টা আটকে নারীকে নির্যাতনের পর ধর্ষণ করে কিশোরগ্যাং।
গরু চুরি: ১৩ডিসেম্বর রাতে শ্রীপুর পৌসভার লোহাগাছ গ্রামে দুলালের ২টি, মাহবুবের ২টি এবং শাজাহানের ৬টি গরু চুরি হয়। একই রাতে রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডুয়াই বাড়ি গ্রামের লেহাজ উদ্দিনের ৩টি, আশরাফ উদ্দিনের ৩টি গরু চুরি হয়। ২৩ডিসেম্বর রাতে ফের লোহাগাছ গ্রামের হারুনের ৬টি গরু চুরি হয়। এছাড়া ৩১ডিসেম্বর রাতে গোসিংগা ইউনিয়নের বাউনী গ্রামের মোস্তফা কামালের ৩টি গরু চুরি হয়। এর আগে গত বছরের মে-জুলাই মাসে উপজেলার ১৩ গ্রামে ৪৩ কৃষকের ১২৩ গরু চুরি হয়।
১১জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে অপহৃত হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আমিনুর রহমান। অপহরণ কারীরা তাকে নির্যাতন করে হাতিয়ে নেয় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা মুক্তিপণ। ১৫জানুয়ারী মাওনা চৌরাস্তায় অপহরণের সময় স্থানীয় জনতা মিন্টুশেখ নামক এক ব্যক্তিকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
উপজেলাব্যাপী ঘটতে থাকা ধারাবাহিক এসব ঘটনায় একদিকে এলাকায় যেমন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে , অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতির হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন সমাজ এসব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে । এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনকে আরো কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার দাবি জানিয়েছে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, ‘প্রতিটি পর্যায়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। অনেককেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। অনেক মালামাল উদ্ধার করা হচ্ছে। আমাদের টহল অব্যাহত আছে। আমাদের পুলিশ এক্টিভ আছে, আমরা কাজ করছি। অল্প সময়ের ভিতরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে আশা রাখিছি।’






















