০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজারহাটে মাদক সম্রাট নিজামের সস্ত্রীক ইউপি সদস্যের উপর হামলা

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে যৌথবাহিনীর সোর্স সন্দেহে এক ইউপি সদস্য ও তার মাদ্রাসা শিক্ষিকা স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছে মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিন। মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিন নাজিমখান ইউনিয়নের বারোসুদাই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নুরুদ্দিনের ছেলে।
রবিবার ২ মার্চ বিকেলে  বারোসুদাই গ্রামে নিজামুদ্দিনের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শনিবার ১লা মার্চ রাতে বারোসুদাই গ্রামের মাদক কারবারি নিজামুদ্দিনের বাড়িতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় নিজামুদ্দিন বাড়িতে অবস্থান না করায় যৌথবাহিনী তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নিজামুদ্দিনের সন্দেহ নাজিমখান ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ড সদস্য মাইদুল ইসলাম যৌথবাহিনীর সোর্স হিসেবে সহায়তা করেছে। ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলাম বলেন,বিকেলে তার বড়ো ভাই ও সাড়ে তিন বছরের ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার সামগ্রী কেনার উদ্দেশ্যে বাজারের দিকে রওয়ানা দেন। তারা মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিনের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে নিজামুদ্দিন ও তার দলবল ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলামের পথরোধ করে রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। মারধরের খবর শুনে তার স্ত্রী ছুটে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন।

ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলামের বড়ো ভাই লালমিয়া বলেন – মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিনের নামে যৌথবাহিনী সহ বিভিন্ন থানায় ছয়টি-সাতটি মামলার খবর এলাকাবাসীর জানা আছে। নিজামুদ্দিনের ভাই পুলিশ ও সেনা সদস্যের চাকরি করায় বারবার তারা সুপারিশ করে নিজামুদ্দিনকে মামলা থেকে ছাড়িয়ে নেন। যার ফলে দিনে দিনে নিজামুদ্দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান নিজামুদ্দিনের মাদকের ফাঁদে পড়ে এলাকার উঠতি বয়সের তরুণ ছাত্র সমাজ খুব সহজেই মাদক নিতে পারে। এর ফলে এলাকায় বেড়েছে চুরি সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ। তারা কুখ্যাত মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিনের কঠোর শাস্তির দাবি করেন। এদিকে ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে দ্রুত নিজামুদ্দিনের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন স্থানীয় নেটিজেনরা।

যৌথবাহিনী মাদক মামলার বিষয়ে নিজামুদ্দিনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে বলেন ২০২২ সালের পরে আমার নামে মাদকের কোনো মামলা হয়নি। সাম্প্রতিক সময় মাইদুল আমাকে মামলায় ফাঁসাতে যৌথবাহিনীকে নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তছলিম উদ্দিন বলেন, মারামারির ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিজামুদ্দিন ও ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলাম হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হলে সেখানে পুলিশ পাহারার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। ইউপি সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

রাজারহাটে মাদক সম্রাট নিজামের সস্ত্রীক ইউপি সদস্যের উপর হামলা

আপডেট সময় : ০২:৫০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে যৌথবাহিনীর সোর্স সন্দেহে এক ইউপি সদস্য ও তার মাদ্রাসা শিক্ষিকা স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছে মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিন। মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিন নাজিমখান ইউনিয়নের বারোসুদাই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নুরুদ্দিনের ছেলে।
রবিবার ২ মার্চ বিকেলে  বারোসুদাই গ্রামে নিজামুদ্দিনের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শনিবার ১লা মার্চ রাতে বারোসুদাই গ্রামের মাদক কারবারি নিজামুদ্দিনের বাড়িতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় নিজামুদ্দিন বাড়িতে অবস্থান না করায় যৌথবাহিনী তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নিজামুদ্দিনের সন্দেহ নাজিমখান ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ড সদস্য মাইদুল ইসলাম যৌথবাহিনীর সোর্স হিসেবে সহায়তা করেছে। ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলাম বলেন,বিকেলে তার বড়ো ভাই ও সাড়ে তিন বছরের ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার সামগ্রী কেনার উদ্দেশ্যে বাজারের দিকে রওয়ানা দেন। তারা মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিনের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে নিজামুদ্দিন ও তার দলবল ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলামের পথরোধ করে রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। মারধরের খবর শুনে তার স্ত্রী ছুটে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন।

ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলামের বড়ো ভাই লালমিয়া বলেন – মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিনের নামে যৌথবাহিনী সহ বিভিন্ন থানায় ছয়টি-সাতটি মামলার খবর এলাকাবাসীর জানা আছে। নিজামুদ্দিনের ভাই পুলিশ ও সেনা সদস্যের চাকরি করায় বারবার তারা সুপারিশ করে নিজামুদ্দিনকে মামলা থেকে ছাড়িয়ে নেন। যার ফলে দিনে দিনে নিজামুদ্দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান নিজামুদ্দিনের মাদকের ফাঁদে পড়ে এলাকার উঠতি বয়সের তরুণ ছাত্র সমাজ খুব সহজেই মাদক নিতে পারে। এর ফলে এলাকায় বেড়েছে চুরি সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ। তারা কুখ্যাত মাদক সম্রাট নিজামুদ্দিনের কঠোর শাস্তির দাবি করেন। এদিকে ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে দ্রুত নিজামুদ্দিনের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন স্থানীয় নেটিজেনরা।

যৌথবাহিনী মাদক মামলার বিষয়ে নিজামুদ্দিনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে বলেন ২০২২ সালের পরে আমার নামে মাদকের কোনো মামলা হয়নি। সাম্প্রতিক সময় মাইদুল আমাকে মামলায় ফাঁসাতে যৌথবাহিনীকে নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তছলিম উদ্দিন বলেন, মারামারির ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিজামুদ্দিন ও ইউপি সদস্য মাইদুল ইসলাম হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হলে সেখানে পুলিশ পাহারার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। ইউপি সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।