০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম ওয়াসার ন্যূনতম বিল ৬৪২ টাকা

চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির গ্রাহকের সংখ্যা ৯৮ হাজার ৭৫৫। এর মধ্যে অনেক গ্রাহক
ওয়াসার সংযোগ আছে, কিন্তু পানি ব্যবহার করে না। আবার কিছু এলাকা আছে পানির
সংযোগ আছে, কিন্তু নিয়মিত পানির সরবরাহ করা হয় না। এছাড়া অনেক গ্রাহক
আছে তাদের পানির ব্যবহার কম। অথচ এসব গ্রাহককে ন্যূনতম বিল হিসাবে প্রতি
মাসের বিল ৬৪২ টাকা পরিশোধ করতে হয়, যা গ্রাহকের জন্য বৈষম্যমূলক। সূত্রে জানা
যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার অনেক গ্রাহকের ওয়াসার সংযোগ আছে, কিন্তু পানি ব্যবহার
করে না। আবার কিছু এলাকা আছে পানির সংযোগ আছে, কিন্তু নিয়মিত পানির
সরবরাহ করা হয় না। এছাড়া অনেক গ্রাহক আছে তাদের পানির ব্যবহার কম। অথচ এসব
গ্রাহককে সঠিক বিল না দিয়ে ন্যূনতম বিল হিসাবে প্রতি মাসের বিল ৬৪২ টাকা
আদায় করছে, যা গ্রাহকের কাছে বৈষম্যমূলক। অথচ চট্টগ্রাম মহানগরের ১০০ ভাগ পানি
সরবরাহ করতে পারেনি চট্টগ্রাম ওয়াসা।
চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ব্যবহারের পানির প্রতিদিনের মোট
চাহিদা ৫৬ কোটি লিটার। এর বিপরীতের চট্টগ্রাম
ওয়াসা প্রায় ৫০ কোটি সরবরাহ করছে। এরই মধ্যে প্রকৃত সরবরাহ প্রায় ৩৫ কোটি
লিটার। কিন্তু গত সপ্তাহ ধরে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির পরিমাণ কমছে। পাশাপাশি
সামনে পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে উৎপাদন আরও কমবে। কারণ ওয়াসার পানির উৎস
হালদা ও কর্ণফুলী নদী। আর শুল্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। তখন ভাটার সময়
নদী থেকে পানি নেয়া যাবে না। আবার জোয়ারের সময় লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। এই
সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য ওয়াসার হাতে বিকল্প কোনো সোর্স নেই। অপরদিকে
সংস্থাটির নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি উৎপাদন করে, তার প্রায় ৩০
শতাংশ ‘সিস্টেম লস’ (কারিগরি অপচয়) হিসেবে দেখানো হয়।
অর্থাৎ কাগজে-কলমে প্রতিদিন ওয়াসার গড় উৎপাদন ৫০ কোটি লিটার হলেও গ্রাহকের
কাছে পৌঁছায় ৩৫ কোটি লিটার। বাকি ১৫ কোটি লিটার নষ্ট হচ্ছে। এই পানির বিল
আসে না। এভাবে বছরে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি লিটার। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ
এক বছর ধরে দাবি করে আসছে, বর্তমানে এক হাজার লিটার পানি উৎপাদন করতে খরচ
হচ্ছে ৩১ টাকা। সেই হিসাবে ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি লিটার পানির উৎপাদন খরচ প্রায়
১৭০ কোটি টাকা। পুরো টাকাটাই ওয়াসার ক্ষতি, যা এ ক্ষতি পোষাতে গ্রাহকদের কাছ
থেকে ন্যূনতম বিল হিসাবে ৬৪২ টাকা। পাশাপাশি পানির দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছিল।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনে এ উদ্যোগ কার্যকর হয়নি।
ওয়াসা বিল শাখার কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের আবাসিকের গ্রাহক পর্যায়ে এখন
ন্যূনতম বিল ৬৪২ টাকা, যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কমপক্ষে ১ হাজার টাকা করার
পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আর এ পরিকল্পনা নেমে যায়। ফলে আর বাড়ানো হয়নি।
যদিও এ হারের বিল গত ১০ বছর ধরে নেয়া হচ্ছে।পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও
ওয়াসার পানি ব্যবহারকারী মাহবুবুল আলম বলেন, একজন গ্রাহক যতটুকু পানির ব্যবহার
করবে ততটুকু বিল দেবে। আমরা গ্রাহক ততটুকু বিল পরিশোধ করব। আমাদের একটি
সংযোগের ব্যবহার নেই। অথচ ওয়াসা গত ১০ বছর ৬৪২ টাকা ন্যূনতম বিল আদায় করে
যাচ্ছে। এটা বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক। অতি দ্রত এ ধরনের বিল আদায় বন্ধ করা উচিত।
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি
এম নাজের হোসাইন বলেন, ওয়াসার সংযোগ আছে, কিন্তু ব্যবহার হয় না কিংবা
ওয়াসার পানি সরবরাহ করতে পারে না। তবে মাসে মাসে গ্রাহক থেকে ন্যূনতম বিলের
নামে ৬৪২ টাকা হারে পানির বিল আদায় করে। এটা অনৈতিক। এটা অন্যায়। আমরা এ
বৈষ্যমমূলক বিল প্রত্যাহার করার জন্য দাবি জানাই। ওয়াসা বিদ্যুৎ বিলের মতো ১৩২ টাকা
বিল নিতে পারে। বিষয়টি নীতি-নির্ধারকদের বিচেনায় নিতে হবে। এছাড়া ওয়াসার

পানির প্রায় ৩০ শতাংশ ‘সিস্টেম লস’ (কারিগরি অপচয়) কমানো গেল পানির দাম আরও
কমানো যাবে। সেই দিকে নজর দেয়া উচিত।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কমল দে বলেন, বিষয়টি নিয়ে
গ্রাহকের অনেক অভিযোগ আছে। ওয়াসা স্বায়ত্তশায়িত সংস্থা আমাদের আয় দিয়ে
আমাদের চলতে হয়। আমাদের পানির উৎপাদন খরচ ৩১ টাকা। কিন্তু ওয়াসা বিল নেয় ১৮
টাকা করে। এছাড়ার বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয়ে ওয়াসার পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো
হয়েছে। এর একটা খরচ আছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিল করা হয়। তবে আমাদের
সিস্টেম লস কমানো গেল গ্রাহকের বিল করানো যেত। এ বিষয়ে ওয়াসা চেষ্টা করছে। তবে
যিনি একদম পানি ব্যবহার করেন না তার জন্য বিলটা আসলে বেশি হয়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

চট্টগ্রাম ওয়াসার ন্যূনতম বিল ৬৪২ টাকা

আপডেট সময় : ০৫:২৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫

চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির গ্রাহকের সংখ্যা ৯৮ হাজার ৭৫৫। এর মধ্যে অনেক গ্রাহক
ওয়াসার সংযোগ আছে, কিন্তু পানি ব্যবহার করে না। আবার কিছু এলাকা আছে পানির
সংযোগ আছে, কিন্তু নিয়মিত পানির সরবরাহ করা হয় না। এছাড়া অনেক গ্রাহক
আছে তাদের পানির ব্যবহার কম। অথচ এসব গ্রাহককে ন্যূনতম বিল হিসাবে প্রতি
মাসের বিল ৬৪২ টাকা পরিশোধ করতে হয়, যা গ্রাহকের জন্য বৈষম্যমূলক। সূত্রে জানা
যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার অনেক গ্রাহকের ওয়াসার সংযোগ আছে, কিন্তু পানি ব্যবহার
করে না। আবার কিছু এলাকা আছে পানির সংযোগ আছে, কিন্তু নিয়মিত পানির
সরবরাহ করা হয় না। এছাড়া অনেক গ্রাহক আছে তাদের পানির ব্যবহার কম। অথচ এসব
গ্রাহককে সঠিক বিল না দিয়ে ন্যূনতম বিল হিসাবে প্রতি মাসের বিল ৬৪২ টাকা
আদায় করছে, যা গ্রাহকের কাছে বৈষম্যমূলক। অথচ চট্টগ্রাম মহানগরের ১০০ ভাগ পানি
সরবরাহ করতে পারেনি চট্টগ্রাম ওয়াসা।
চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ব্যবহারের পানির প্রতিদিনের মোট
চাহিদা ৫৬ কোটি লিটার। এর বিপরীতের চট্টগ্রাম
ওয়াসা প্রায় ৫০ কোটি সরবরাহ করছে। এরই মধ্যে প্রকৃত সরবরাহ প্রায় ৩৫ কোটি
লিটার। কিন্তু গত সপ্তাহ ধরে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির পরিমাণ কমছে। পাশাপাশি
সামনে পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে উৎপাদন আরও কমবে। কারণ ওয়াসার পানির উৎস
হালদা ও কর্ণফুলী নদী। আর শুল্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। তখন ভাটার সময়
নদী থেকে পানি নেয়া যাবে না। আবার জোয়ারের সময় লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। এই
সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য ওয়াসার হাতে বিকল্প কোনো সোর্স নেই। অপরদিকে
সংস্থাটির নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি উৎপাদন করে, তার প্রায় ৩০
শতাংশ ‘সিস্টেম লস’ (কারিগরি অপচয়) হিসেবে দেখানো হয়।
অর্থাৎ কাগজে-কলমে প্রতিদিন ওয়াসার গড় উৎপাদন ৫০ কোটি লিটার হলেও গ্রাহকের
কাছে পৌঁছায় ৩৫ কোটি লিটার। বাকি ১৫ কোটি লিটার নষ্ট হচ্ছে। এই পানির বিল
আসে না। এভাবে বছরে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি লিটার। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ
এক বছর ধরে দাবি করে আসছে, বর্তমানে এক হাজার লিটার পানি উৎপাদন করতে খরচ
হচ্ছে ৩১ টাকা। সেই হিসাবে ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি লিটার পানির উৎপাদন খরচ প্রায়
১৭০ কোটি টাকা। পুরো টাকাটাই ওয়াসার ক্ষতি, যা এ ক্ষতি পোষাতে গ্রাহকদের কাছ
থেকে ন্যূনতম বিল হিসাবে ৬৪২ টাকা। পাশাপাশি পানির দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছিল।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনে এ উদ্যোগ কার্যকর হয়নি।
ওয়াসা বিল শাখার কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের আবাসিকের গ্রাহক পর্যায়ে এখন
ন্যূনতম বিল ৬৪২ টাকা, যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কমপক্ষে ১ হাজার টাকা করার
পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আর এ পরিকল্পনা নেমে যায়। ফলে আর বাড়ানো হয়নি।
যদিও এ হারের বিল গত ১০ বছর ধরে নেয়া হচ্ছে।পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও
ওয়াসার পানি ব্যবহারকারী মাহবুবুল আলম বলেন, একজন গ্রাহক যতটুকু পানির ব্যবহার
করবে ততটুকু বিল দেবে। আমরা গ্রাহক ততটুকু বিল পরিশোধ করব। আমাদের একটি
সংযোগের ব্যবহার নেই। অথচ ওয়াসা গত ১০ বছর ৬৪২ টাকা ন্যূনতম বিল আদায় করে
যাচ্ছে। এটা বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক। অতি দ্রত এ ধরনের বিল আদায় বন্ধ করা উচিত।
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি
এম নাজের হোসাইন বলেন, ওয়াসার সংযোগ আছে, কিন্তু ব্যবহার হয় না কিংবা
ওয়াসার পানি সরবরাহ করতে পারে না। তবে মাসে মাসে গ্রাহক থেকে ন্যূনতম বিলের
নামে ৬৪২ টাকা হারে পানির বিল আদায় করে। এটা অনৈতিক। এটা অন্যায়। আমরা এ
বৈষ্যমমূলক বিল প্রত্যাহার করার জন্য দাবি জানাই। ওয়াসা বিদ্যুৎ বিলের মতো ১৩২ টাকা
বিল নিতে পারে। বিষয়টি নীতি-নির্ধারকদের বিচেনায় নিতে হবে। এছাড়া ওয়াসার

পানির প্রায় ৩০ শতাংশ ‘সিস্টেম লস’ (কারিগরি অপচয়) কমানো গেল পানির দাম আরও
কমানো যাবে। সেই দিকে নজর দেয়া উচিত।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কমল দে বলেন, বিষয়টি নিয়ে
গ্রাহকের অনেক অভিযোগ আছে। ওয়াসা স্বায়ত্তশায়িত সংস্থা আমাদের আয় দিয়ে
আমাদের চলতে হয়। আমাদের পানির উৎপাদন খরচ ৩১ টাকা। কিন্তু ওয়াসা বিল নেয় ১৮
টাকা করে। এছাড়ার বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয়ে ওয়াসার পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো
হয়েছে। এর একটা খরচ আছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিল করা হয়। তবে আমাদের
সিস্টেম লস কমানো গেল গ্রাহকের বিল করানো যেত। এ বিষয়ে ওয়াসা চেষ্টা করছে। তবে
যিনি একদম পানি ব্যবহার করেন না তার জন্য বিলটা আসলে বেশি হয়ে যায়।