০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জঙ্গি মামলা থেকে খালাস পেলেন বিএনপি নেত্রী শাকিলা ফারজানাসহ ২৫ জন

জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডকে’ অর্থায়ন ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের
অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলা থেকে বিএনপি নেত্রী ও সুপ্রিম
কোর্টের আইনজীবী শাকিলা ফারজানাসহ ২৫ জন খালাস পেয়েছেন। চট্টগ্রামের
সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু হান্নান এই রায় প্রদান করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সাত্তার সরোয়ার
বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ মামলায় একজন মাত্র সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বাকিরা সাক্ষীরা এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসেননি। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ
প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা
আদালতে উপস্থিত ছিলেন।্#৩৯;
এদিকে মামলার শুরু থেকে বিএনপির দাবি, আওয়ামী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শাকিলা ফারজানাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শাকিলা ফারজানার বাবা
বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম চট্টগ্রামের হাটহাজারী সংসদীয় আসনের
জনপ্রিয় এমপি ছিলেন। বাবার অবর্তমানে শাকিলা ফারজানার জনপ্রিয়তা পেতে
থাকেন। এতে করে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সরকার তাকে এ মামলায় অভিযুক্ত করেছে।
শাকিলা ফারজানা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘এটি ছিল মিথ্যা সাজানো মামলা। এ মামলায় আমি
১০ মাস জেল খেটেছি। ৬ বছর দেশের বাইরে থেকেছি। ১০টা বছর জঙ্গি অপবাদ বইতে
হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এ বদনাম থেকে খালাস পেয়েছি। এজন্য আলহামদুলিল্লাহ।’
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর মাদ্রাসাতুল আবু বকর
(র.)-এ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরদিন র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক
মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এর
দুদিন পর বাঁশখালীর লটমণি পাহাড়ে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র’ থেকে বিপুল অস্ত্রসহ
পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এর প্রায় দেড় মাস পর ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়
র‍্যাব-৭-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাটহাজারী ও লটমণি
পাহাড়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া জঙ্গিরা চট্টগ্রামভিত্তিক নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা
ব্রিগেডের’ সদস্য।
তদন্তের একপর্যায়ে ওই বছরের ১৮ আগস্ট হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে
ঢাকার ধানমন্ডি থেকে গ্রেফতার করা হয় শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীকে।
বাকি দুই আইনজীবী হলেন- হাসানুজ্জামান লিটন ও মাহফুজ চৌধুরী বাপন। তদন্ত শেষে
পরের বছরের মার্চ মাসে র‍্যাব দুই মামলায় শাকিলাসহ ৬১ জনকে আসামি করে
অভিযোগপত্র দেয়।
দুটি মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাহরাইনের নাগরিক আল্লামা লিবদির নির্দেশে দেশে
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে আসামিরা নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলেন। দেশে
তাদের বড় ভাই ওরফে জুনাইয়েদ নামের একজন তাদের পরিচালনা করতেন। হামজা ব্রিগেডকে
সামরিক, দাওয়াহ ও মিডিয়া নামের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। সামরিক বিভাগকে
হোয়াইট, ব্লু ও গ্রিন নামে ভাগ করেন। সামরিক বিভাগের প্রধান হলেন
মনিরুজ্জামান ওরফে ডন, দাওয়াহ বিভাগের প্রধান নাছির হোসেন, মিডিয়া বিভাগের
প্রধান মো. আবদুল্লাহ। জঙ্গিদের কাছে অস্ত্রগুলো বিক্রি করেন অস্ত্র ব্যবসায়ী
মোজাহের মিয়া। জঙ্গি অর্থায়নের জন্য মনিরুজ্জামান ওরফে ডনের তিনটি হিসাব
নম্বরে আইনজীবী শাকিলা ফারজানা দুই দফায় ২৫ লাখ ও ২৭ লাখ টাকা, হাছানুজ্জামান
দুই দফায় ১৫ লাখ ও ১৬ লাখ টাকা, মাহফুজ চৌধুরী ২৫ লাখ জমা করেন। হাটহাজারী ও

বাঁশখালী থানার দুই মামলায় ৬১ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ
গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

জঙ্গি মামলা থেকে খালাস পেলেন বিএনপি নেত্রী শাকিলা ফারজানাসহ ২৫ জন

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫

জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডকে’ অর্থায়ন ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের
অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলা থেকে বিএনপি নেত্রী ও সুপ্রিম
কোর্টের আইনজীবী শাকিলা ফারজানাসহ ২৫ জন খালাস পেয়েছেন। চট্টগ্রামের
সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু হান্নান এই রায় প্রদান করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সাত্তার সরোয়ার
বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ মামলায় একজন মাত্র সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বাকিরা সাক্ষীরা এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসেননি। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ
প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা
আদালতে উপস্থিত ছিলেন।্#৩৯;
এদিকে মামলার শুরু থেকে বিএনপির দাবি, আওয়ামী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শাকিলা ফারজানাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শাকিলা ফারজানার বাবা
বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম চট্টগ্রামের হাটহাজারী সংসদীয় আসনের
জনপ্রিয় এমপি ছিলেন। বাবার অবর্তমানে শাকিলা ফারজানার জনপ্রিয়তা পেতে
থাকেন। এতে করে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সরকার তাকে এ মামলায় অভিযুক্ত করেছে।
শাকিলা ফারজানা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘এটি ছিল মিথ্যা সাজানো মামলা। এ মামলায় আমি
১০ মাস জেল খেটেছি। ৬ বছর দেশের বাইরে থেকেছি। ১০টা বছর জঙ্গি অপবাদ বইতে
হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এ বদনাম থেকে খালাস পেয়েছি। এজন্য আলহামদুলিল্লাহ।’
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর মাদ্রাসাতুল আবু বকর
(র.)-এ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরদিন র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক
মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এর
দুদিন পর বাঁশখালীর লটমণি পাহাড়ে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র’ থেকে বিপুল অস্ত্রসহ
পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এর প্রায় দেড় মাস পর ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়
র‍্যাব-৭-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাটহাজারী ও লটমণি
পাহাড়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া জঙ্গিরা চট্টগ্রামভিত্তিক নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা
ব্রিগেডের’ সদস্য।
তদন্তের একপর্যায়ে ওই বছরের ১৮ আগস্ট হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে
ঢাকার ধানমন্ডি থেকে গ্রেফতার করা হয় শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীকে।
বাকি দুই আইনজীবী হলেন- হাসানুজ্জামান লিটন ও মাহফুজ চৌধুরী বাপন। তদন্ত শেষে
পরের বছরের মার্চ মাসে র‍্যাব দুই মামলায় শাকিলাসহ ৬১ জনকে আসামি করে
অভিযোগপত্র দেয়।
দুটি মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাহরাইনের নাগরিক আল্লামা লিবদির নির্দেশে দেশে
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে আসামিরা নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলেন। দেশে
তাদের বড় ভাই ওরফে জুনাইয়েদ নামের একজন তাদের পরিচালনা করতেন। হামজা ব্রিগেডকে
সামরিক, দাওয়াহ ও মিডিয়া নামের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। সামরিক বিভাগকে
হোয়াইট, ব্লু ও গ্রিন নামে ভাগ করেন। সামরিক বিভাগের প্রধান হলেন
মনিরুজ্জামান ওরফে ডন, দাওয়াহ বিভাগের প্রধান নাছির হোসেন, মিডিয়া বিভাগের
প্রধান মো. আবদুল্লাহ। জঙ্গিদের কাছে অস্ত্রগুলো বিক্রি করেন অস্ত্র ব্যবসায়ী
মোজাহের মিয়া। জঙ্গি অর্থায়নের জন্য মনিরুজ্জামান ওরফে ডনের তিনটি হিসাব
নম্বরে আইনজীবী শাকিলা ফারজানা দুই দফায় ২৫ লাখ ও ২৭ লাখ টাকা, হাছানুজ্জামান
দুই দফায় ১৫ লাখ ও ১৬ লাখ টাকা, মাহফুজ চৌধুরী ২৫ লাখ জমা করেন। হাটহাজারী ও

বাঁশখালী থানার দুই মামলায় ৬১ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ
গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।