১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে নতুন চ্যানেলে চলবে না ফেরি

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ডুবোচর কেটে নতুন চ্যানেল করেছে। তবে এই চ্যানেল দিয়ে ফেরি, লঞ্চ একত্রে যাতায়াতের কথা বিআইডব্লিউটিএ বললেও প্রসস্থ্যতার অভাবে ঝুকিপূর্ণ বলছে বিআইডব্লিউটিসি। ঝুঁকি এড়াতে ঈদের সময় এই চ্যানেল ব্যবহার সম্ভব না বলেও সাফ জানিয়েছে।

ফলে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি যানবাহন পারাপারে ধীর গতির আশঙ্কা রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় চ্যানেলে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে ফেরি। অথচ ১৭ মার্চ রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলের কথা জানানো হয়।

গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) পাটুরিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (মেরিন) মো. আব্দুল্লা আল মামুন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআডব্লিউটিএ) ড্রেজিং ইউনিট আরিচা শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক, বাণিজ্য, মহাব্যবস্থাপক (মেরিন), বিআইডব্লিউটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অবগত করা হয়।

পত্রে বলা হয় পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় ফেরি চলাচলের জন্য নির্মিত চ্যানেলের মধ্যে কোথাও কোথাও ডুবোচর সৃষ্টি হয়ে দুর্ঘটনামুক্ত ফেরি পরিচালনা বিঘ্নিত হচ্ছে। নিরাপদ, নিরবিচ্ছিন্ন, দুর্ঘটনামুক্ত ফেরি পরিচালনার স্বার্থে পাটুরিয়া হতে দৌলতদিয়া নৌপথে সোজাসুজি মধ্যবর্তী ডুবোচর এবং ৭নম্বর ফেরি ঘাটের বেসিনে ড্রেজিং করতে ৫ মার্চ পত্র দেয়া হয়। এতে প্রায় ৪ হাজার ফুট লম্বা এবং ২৫০ফুট প্রসস্থ্য ডুবোচরটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ড্রেজার দ্বারা খনন করে ন্যূনতম ১৪ফুট পানির গভীর চ্যানেল করে মার্কা ও বয়া স্থাপন করতে বলা হয়। সে মোতাবেক খনন করে ৯ মার্চ একটি রো রো (বড়) ফেরি ও একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি পাটুরিয়া হতে দৌলতদিয়া এবং দৌলতদিয়া হতে পাটুরিয়ায় ট্রায়াল ট্রিপ দেয়ার সময় পানির গভীরতা ১২ ফুট পাওয়া গেলেও প্রসস্থ্য কম থাকায় ফেরি চলাচল অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ। এছাড়া কালবৈশাখী মৌসুম হওয়ায় সরু চ্যানেলের কারনে ফেরিগুলো যে কোন মুহুর্তে চরায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নৌরুটে নিরাপদ, নিরবিচ্ছিন্ন ও দুর্ঘটনামুক্ত ফেরি চলাচলের স্বার্থে খননকৃত চ্যানেলটি পুনরায় হাইড্রোগ্রাফি সার্ভে করে চ্যানেলটি আরো প্রসস্থ্য এবং গভীর করে চালুর কথা বলা হয়।

রোববার (২৩ মার্চ) সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ার ৫নম্বর ফেরি ঘাট সোজাসুজি পাটুরিয়ার দিকে বিআইডব্লিউটিএ এখনো ড্রেজিং করছে। পাশ দিয়ে লঞ্চ কোনভাবে যাতায়াত করছে। ড্রেজিংয়ের পাইপসহ বয়া থাকায় লঞ্চগুলো সতর্কতার সঙ্গে চলছে। তবে ফেরি চলাচলের মতো পরিবেশ দেখা যায়নি।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ঈদ প্রস্তুতি হিসেবে ৯টি রো রো, ২টি মিডিয়াম রো রো, ১টি কেটাইপ, ২টি ইউটিলিটি, ৩ মিডিয়াম ইউটিলিটিসহ ১৭টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়ায় ৩টি করে মোট ৬টি ঘাট প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের ডুবোচর কেটে নতুন চ্যানেলের প্রসস্থ্য এবং গভীরতা কম থাকায় ফেরি চলাচল অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মেরিন বিভাগ প্রতিবেদন দিয়েছে। যে কারনে কাল বৈশাখী মৌসুমে ঈদের সময় এমন ঝুঁকি নিতে নারাজ। সময় বেশি লাগলেও ডুবোচর এড়িয়ে পূর্বের চ্যানেল দিয়েই ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাছান মাহমুদ বলেন, সাধারণত ১২০ ফুট প্রসস্থ্য চ্যানেল দিয়ে ফেরি চালানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের মাঝে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকার ডুবোচর কেটে ৪হাজার ৩০০ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২৬০ফুট প্রসস্থ্য চ্যানেল তৈরী করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির অনুরোধে ঈদের আগে ২৬০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ফুট প্রসস্থ্য চ্যানেল তৈরির কাজ চলছে। আগামী ২৭ মার্চ চ্যানেলটি শতভাগ সম্পন্ন করতে সক্ষম বলে মনে করছি। ডুবোচর অপসারণে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে ড্রেজিং বিভাগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

যাত্রাবাড়ীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেলে থাকা ২ বন্ধুর

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে নতুন চ্যানেলে চলবে না ফেরি

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ডুবোচর কেটে নতুন চ্যানেল করেছে। তবে এই চ্যানেল দিয়ে ফেরি, লঞ্চ একত্রে যাতায়াতের কথা বিআইডব্লিউটিএ বললেও প্রসস্থ্যতার অভাবে ঝুকিপূর্ণ বলছে বিআইডব্লিউটিসি। ঝুঁকি এড়াতে ঈদের সময় এই চ্যানেল ব্যবহার সম্ভব না বলেও সাফ জানিয়েছে।

ফলে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি যানবাহন পারাপারে ধীর গতির আশঙ্কা রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় চ্যানেলে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে ফেরি। অথচ ১৭ মার্চ রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলের কথা জানানো হয়।

গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) পাটুরিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (মেরিন) মো. আব্দুল্লা আল মামুন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআডব্লিউটিএ) ড্রেজিং ইউনিট আরিচা শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক, বাণিজ্য, মহাব্যবস্থাপক (মেরিন), বিআইডব্লিউটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অবগত করা হয়।

পত্রে বলা হয় পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় ফেরি চলাচলের জন্য নির্মিত চ্যানেলের মধ্যে কোথাও কোথাও ডুবোচর সৃষ্টি হয়ে দুর্ঘটনামুক্ত ফেরি পরিচালনা বিঘ্নিত হচ্ছে। নিরাপদ, নিরবিচ্ছিন্ন, দুর্ঘটনামুক্ত ফেরি পরিচালনার স্বার্থে পাটুরিয়া হতে দৌলতদিয়া নৌপথে সোজাসুজি মধ্যবর্তী ডুবোচর এবং ৭নম্বর ফেরি ঘাটের বেসিনে ড্রেজিং করতে ৫ মার্চ পত্র দেয়া হয়। এতে প্রায় ৪ হাজার ফুট লম্বা এবং ২৫০ফুট প্রসস্থ্য ডুবোচরটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ড্রেজার দ্বারা খনন করে ন্যূনতম ১৪ফুট পানির গভীর চ্যানেল করে মার্কা ও বয়া স্থাপন করতে বলা হয়। সে মোতাবেক খনন করে ৯ মার্চ একটি রো রো (বড়) ফেরি ও একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি পাটুরিয়া হতে দৌলতদিয়া এবং দৌলতদিয়া হতে পাটুরিয়ায় ট্রায়াল ট্রিপ দেয়ার সময় পানির গভীরতা ১২ ফুট পাওয়া গেলেও প্রসস্থ্য কম থাকায় ফেরি চলাচল অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ। এছাড়া কালবৈশাখী মৌসুম হওয়ায় সরু চ্যানেলের কারনে ফেরিগুলো যে কোন মুহুর্তে চরায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নৌরুটে নিরাপদ, নিরবিচ্ছিন্ন ও দুর্ঘটনামুক্ত ফেরি চলাচলের স্বার্থে খননকৃত চ্যানেলটি পুনরায় হাইড্রোগ্রাফি সার্ভে করে চ্যানেলটি আরো প্রসস্থ্য এবং গভীর করে চালুর কথা বলা হয়।

রোববার (২৩ মার্চ) সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ার ৫নম্বর ফেরি ঘাট সোজাসুজি পাটুরিয়ার দিকে বিআইডব্লিউটিএ এখনো ড্রেজিং করছে। পাশ দিয়ে লঞ্চ কোনভাবে যাতায়াত করছে। ড্রেজিংয়ের পাইপসহ বয়া থাকায় লঞ্চগুলো সতর্কতার সঙ্গে চলছে। তবে ফেরি চলাচলের মতো পরিবেশ দেখা যায়নি।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ঈদ প্রস্তুতি হিসেবে ৯টি রো রো, ২টি মিডিয়াম রো রো, ১টি কেটাইপ, ২টি ইউটিলিটি, ৩ মিডিয়াম ইউটিলিটিসহ ১৭টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়ায় ৩টি করে মোট ৬টি ঘাট প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের ডুবোচর কেটে নতুন চ্যানেলের প্রসস্থ্য এবং গভীরতা কম থাকায় ফেরি চলাচল অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মেরিন বিভাগ প্রতিবেদন দিয়েছে। যে কারনে কাল বৈশাখী মৌসুমে ঈদের সময় এমন ঝুঁকি নিতে নারাজ। সময় বেশি লাগলেও ডুবোচর এড়িয়ে পূর্বের চ্যানেল দিয়েই ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাছান মাহমুদ বলেন, সাধারণত ১২০ ফুট প্রসস্থ্য চ্যানেল দিয়ে ফেরি চালানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের মাঝে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকার ডুবোচর কেটে ৪হাজার ৩০০ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২৬০ফুট প্রসস্থ্য চ্যানেল তৈরী করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির অনুরোধে ঈদের আগে ২৬০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ফুট প্রসস্থ্য চ্যানেল তৈরির কাজ চলছে। আগামী ২৭ মার্চ চ্যানেলটি শতভাগ সম্পন্ন করতে সক্ষম বলে মনে করছি। ডুবোচর অপসারণে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে ড্রেজিং বিভাগ।