যার নেই কোনো গতি, তার অবলম্বন রাজনীতি – মূলত এই বক্তব্য ফানিভাবে উপস্থাপনের জন্য সাম্প্রতিক নেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট এর ভিডিও কনটেন্ট “পার্টি অফিস”। সাম্প্রতিক সময় রাজনীতির মাঠে দেখা যাচ্ছে একের পর এক নতুন রাজনৈতিক দলের আগমন। জনসমর্থন অর্জন নয়, ক্ষমতার আশেপাশে যাওয়া এসব দলের মূল লক্ষ্য। নেতারা নেতাগিরি করেন স্বার্থ হাসিলের জন্য। চেষ্টা চলে চটক দিয়ে লোক আকর্ষণের। ভাড়া করে মিছিলের লোক আনা এদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা। এভাবেই চলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর যাবতীয় আয়োজন। দারুণ সব উপাদানে ভরা ফানি কনটেন্ট “পার্টি অফিস”।
দম ফাটানো হাসির গল্প লুফে নিতে দর্শকরা দেরি করেননি। প্রকাশের পর দুই দিনের মধ্যেই ২৩ লাখেরও বেশি দেখা হয়েছে খুলনার তরুণদের বানানো কনটেন্টটি।
“পার্টি অফিস” নাটকে রাজনীতিবিদের নেতা হওয়ার প্রবণতা দেখানো হয়েছে রম্যের ছলে। কনটেন্টটির গানের কথা ও সুরে আছে হাসির উপাদান। দারুণ অভিনয় করেছেন খুলনা তরুণ রাকিব, জিসান, সাকিব, মেহেদী, মাসুদ, হাসান, মামুন, সবুজরা।
মূলত ফানি গল্প এর জনপ্রিয়তার আরেক কারণ। ভালো কনটেন্ট যে দর্শকদের হৃদয় জয় করতে পারে নির্মাতাদের সে বার্তা দিয়েছে এই “পার্টি অফিস”। ভিউ বাড়াতে প্রয়োজন নেই বৃথা অশ্লীলতা যোগের, এটিও প্রমাণ হয়েছে কনটেন্ট এর নিচে দর্শকদের করা মক্তব্যে।
সব মিলিয়ে পার্টি অফিস সমকালের রাজনীতির এক নিপুন রম্য উপস্থাপনা। প্রায় ২৫ মিনিটের এই কনটেন্টটি দেখে হাসতে হাসতে মন ভালো হয়ে যাবে যে কারও। যে রাজনীতি মানুষকে ভোগায়, সে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা থাকার কোনো কারণ নেই। এমন লক্ষ্যে পুরোপুরি সফল এই “পার্টি অফিস”। রম্য যে কতটা ধারালো হতে পারে তার দৃষ্টান্তও এটি। গণমানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে দরকার নেই শিক্ষামূলক ভিডিওর। তারা আনন্দ পান ফানি স্যাটায়ারে।
বছরের পর বছর নেতাদের নেতাগিরি মানুষ সহ্য করে আসছেন। সেদিক থেকে “পার্টি অফিস” জনগণের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব হতে পারে। এর বার্তা পরিষ্কার।
ফানি কনটেন্ট যখন দিনে দিনে পানসে হয়ে দর্শকদের হতাশা বাড়াচ্ছে, সে সময় এক দিশা দেখালো “পার্টি অফিস”। একইসাথে পলিটিকাল স্যাটায়ারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত এর গল্পের বাঁকে বাঁকে।
ভালো কনটেন্ট হারাবে না, নেটিজেনদের উৎসাহে সম্ভব বিপুল ভিউ অর্জন- এমন বিশ্বাসের সর্বশেষ উদাহরণ এই “পার্টি অফিস”।

























