০৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পলক, সুমন, শিরিন শারমীনসহ ২৪ রাজনীতিবিদ সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছায়। এ সময় প্রাণ রক্ষায় সাবেক স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ ৬২৬ জনকে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জন ছিলেন রাজনীতিবিদ।
বৃহস্পতিবার (২২ মে ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআর জানায়, প্রাণনাশের আশঙ্কায় যেসব ব্যক্তি সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ৫১ জন পরিবার-পরিজন (স্ত্রী ও শিশু)। সব মিলিয়ে মোট ৬২৬ জনকে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়।
সংস্থাটি জানায়, ওই সময়ে শুধুমাত্র মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা এসব মানুষের প্রাণ রক্ষা করাই ছিল সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য।
আইএসপিআর আরও জানায়, পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে, আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশিরভাগই এক দুই দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন এবং এর মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ-মামলার ভিত্তিতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সেনানিবাসে অবস্থানকারী ও আশ্রয় প্রার্থীদের ব্যাপারে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আইএসপিআর আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। একই দিন ১৯৩ জন ব্যক্তির একটি তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই সদস্য ব্যতীত) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যা ছিল একটি মীমাংসিত বিষয়।
সেনানিবাসে আশ্রয়প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য রাজনীতিকরা হলেন- ১. জুনায়েদ আহমেদ পলক – সাবেক আইসিটি মন্ত্রী, ২. সায়েদুল হক সুমন – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৩. শিরীন শারমিন চৌধুরী – সাবেক স্পিকার, ৪. নাজমা আকতার – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৫. সামসুল হক টুকু – সাবেক ডেপুটি স্পিকার, ৬. ছোট মনির – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৭. ইকবালুর রহিম – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৮. শাজাহান খান – সাবেক সংসদ সদস্য, ৯. রাগিবুল আহসান রিপু – তৎকালীন এমপি, বগুড়া-৬, ১০. এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন – তৎকালীন এমপি, বগুড়া-৪, ১১. এমএ লতিফ – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ১২. কাজী নাবিল আহমেদ – সাবেক সংসদ সদস্য, ১৩. তালুকদার আবদুল খালেক – তৎকালীন মেয়র, খুলনা সিটি করপোরেশন, ১৪. হাবিবুন নাহার – তৎকালীন এমপি, বাগেরহাট-৪, ১৫. মো. ইকরামুল হক টিটু – তৎকালীন মেয়র, ১৬. মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী – তৎকালীন মেয়র, সিলেট সিটি, রপোরেশন, ১৭. মো. আবু জাহির – তৎকালীন এমপি, হবিগঞ্জ-৩, ১৮. জিয়াউর রহমান বিপ্লব – কাউন্সিলর, বরিশাল সিটি করপোরেশন, ১৯. এসএম রফিউদ্দিন আহমেদ – ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ২০. এসএম ফয়সাল আহমেদ রানা – ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ২১. শরিফ কামাল – তৎকালীন চেয়ারম্যান, মিঠামইন উপজেলা, ২২. মো. মাহবুব আলম – তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান, মাদারগঞ্জ, ২৩. সুজন সাত্তার – পিএস টু এমপি, ২৪. জাকির হাসান – তৎকালীন এসপি, বগুড়া (যদিও প্রশাসনিক পদে ছিলেন, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত)
এমআর/সব

জনপ্রিয় সংবাদ

পলক, সুমন, শিরিন শারমীনসহ ২৪ রাজনীতিবিদ সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন

আপডেট সময় : ০৭:২৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছায়। এ সময় প্রাণ রক্ষায় সাবেক স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ ৬২৬ জনকে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জন ছিলেন রাজনীতিবিদ।
বৃহস্পতিবার (২২ মে ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআর জানায়, প্রাণনাশের আশঙ্কায় যেসব ব্যক্তি সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ৫১ জন পরিবার-পরিজন (স্ত্রী ও শিশু)। সব মিলিয়ে মোট ৬২৬ জনকে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়।
সংস্থাটি জানায়, ওই সময়ে শুধুমাত্র মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা এসব মানুষের প্রাণ রক্ষা করাই ছিল সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য।
আইএসপিআর আরও জানায়, পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে, আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশিরভাগই এক দুই দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন এবং এর মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ-মামলার ভিত্তিতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সেনানিবাসে অবস্থানকারী ও আশ্রয় প্রার্থীদের ব্যাপারে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আইএসপিআর আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। একই দিন ১৯৩ জন ব্যক্তির একটি তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই সদস্য ব্যতীত) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যা ছিল একটি মীমাংসিত বিষয়।
সেনানিবাসে আশ্রয়প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য রাজনীতিকরা হলেন- ১. জুনায়েদ আহমেদ পলক – সাবেক আইসিটি মন্ত্রী, ২. সায়েদুল হক সুমন – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৩. শিরীন শারমিন চৌধুরী – সাবেক স্পিকার, ৪. নাজমা আকতার – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৫. সামসুল হক টুকু – সাবেক ডেপুটি স্পিকার, ৬. ছোট মনির – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৭. ইকবালুর রহিম – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ৮. শাজাহান খান – সাবেক সংসদ সদস্য, ৯. রাগিবুল আহসান রিপু – তৎকালীন এমপি, বগুড়া-৬, ১০. এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন – তৎকালীন এমপি, বগুড়া-৪, ১১. এমএ লতিফ – তৎকালীন সংসদ সদস্য, ১২. কাজী নাবিল আহমেদ – সাবেক সংসদ সদস্য, ১৩. তালুকদার আবদুল খালেক – তৎকালীন মেয়র, খুলনা সিটি করপোরেশন, ১৪. হাবিবুন নাহার – তৎকালীন এমপি, বাগেরহাট-৪, ১৫. মো. ইকরামুল হক টিটু – তৎকালীন মেয়র, ১৬. মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী – তৎকালীন মেয়র, সিলেট সিটি, রপোরেশন, ১৭. মো. আবু জাহির – তৎকালীন এমপি, হবিগঞ্জ-৩, ১৮. জিয়াউর রহমান বিপ্লব – কাউন্সিলর, বরিশাল সিটি করপোরেশন, ১৯. এসএম রফিউদ্দিন আহমেদ – ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ২০. এসএম ফয়সাল আহমেদ রানা – ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ২১. শরিফ কামাল – তৎকালীন চেয়ারম্যান, মিঠামইন উপজেলা, ২২. মো. মাহবুব আলম – তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান, মাদারগঞ্জ, ২৩. সুজন সাত্তার – পিএস টু এমপি, ২৪. জাকির হাসান – তৎকালীন এসপি, বগুড়া (যদিও প্রশাসনিক পদে ছিলেন, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত)
এমআর/সব