০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে নিউ ইয়র্কে ব্যবসা হারাবেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবসায় প্রতারণার অভিযোগে মামলার শুনানি হচ্ছে সোমবার। নিউ ইয়র্ক সিটিতে ট্রাম্প টাওয়ার থেকে দু’এক মাইল দক্ষিণে একজন বিচারক এই শুনানি করবেন। অভিযোগ আছে, মিথ্যা কথা বলে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনে ব্যবসা করেছেন ট্রাম্প। এ জন্য তার ও তার পরিবারের এই ব্যবসা ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে লাখ লাখ ডলার দেয়া লাগতে পারে সরকারকে। মামলায় নিউ ইয়র্কের এটর্নি জেনারেল লেতিতিয়া জেমস যুক্তি তুলে ধরবেন যে, ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আর্থিক বিবরণীতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলে বিপুল পরিমাণের অর্থের মালিক হয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প নিজে এবং তার পরিবারের ব্যবসার সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন।

এসব নিয়ে তিন বছর তদন্ত করেছেন লেতিতিয়া জেমস। তিনি হিসাব কষে দেখেছেন, যে অর্থ সরকারকে ফাঁকি দিয়েছেন ট্রাম্প, সেজন্য তার কাছে কমপক্ষে ২৫ কোটি ডলার পাওনা রয়েছে। তিন বছরের ওই তদন্তে লেতিতিয়া জেমস দেখতে পেয়েছেন যে, ট্রাম্প তার ২৩টি প্রপার্টি এবং লাখ লাখ এমনকি শত শত কোটি ডলারের সম্পদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। অনুকূলে ঋণ পাওয়ার জন্য এসব মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেছেন।

তার প্রকৃত যে সম্পদ তার চেয়ে অনেক বেশি করে দেখিয়েছেন সম্পদের মূল্য। এটা হবে বেঞ্চ ট্রায়াল। এর অর্থ সেখানে কোনো জুরি থাকবে না। এক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আর্থার এঙ্গোরন এই মামলায় সভাপতিত্ব করবেন এবং তিনি একাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই মামলায় যদি ট্রাম্পকে দোষী পাওয়া যায়, এটা সিভিল কেস হওয়ার কারণে তাকে জেলে পাঠানো হবে না। এমনকি তাকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে না।

এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, তা ট্রাম্পের জন্য ভাল নয়। গত মঙ্গলবার প্রতারণার দায়ে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছেন বিচারক আর্থার এঙ্গোরন। তিনি বলেছেন, যেসব ডকুমেন্ট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে প্রমাণ হিসেবে, তাতে আর্থিক বিবরণীতে ত্রুটি পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেছেন, ট্রাম্প যা করছেন তা ফ্যান্টাসি দুনিয়ার, বাস্তব দুনিয়ার সঙ্গে তা যায় না। এঙ্গোরন তার রায়ে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রতারণামূলক আর্থিক বিবরণীর ‘অভিপ্রায় এবং বস্তুগত কিছু উপাদানের’ বিষয়ে প্রমাণ সরবরাহ করতে হবে এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে। এর অর্থ ট্রাম্প তার আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধিতে যেসব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন সে বিষয়ে প্রমাণ দিতে হবে।

এরই মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক ট্রাম্পসহ ট্রাম্পকে নাটকীয়ভাবে শাস্তি দিয়েছেন বিচারক। তাদের ব্যবসায়িক সনদ বাতিল করা হবে। ফলে নিউ ইয়র্কে তাদের ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে যদি তাকে সোমবারের শুনানিতে জরিমানা করা হয়। এটর্নি জেনারেলের অফিস এমন সব প্রমাণ হাজির করার কথা, যার ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প পরিবারের লভ্যাংশ থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে। অর্থাৎ তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যে লাভ করেছেন তা ত্যাগ করতে বলা হতে পারে। লেতিতিয়া জেমস যুক্তি দেবেন যে, প্রতারণামূলক আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করে ট্রাম্প ঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণ দিয়ে তিনি মিয়ামিতে গলফ ক্লাব, শিকাগোতে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ওল্ড পোস্ট অফিস ভবন কিনেছেন। এসবই করা হয়েছে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে।

//এসআর//

ইবির বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেট বন্ধ করে দিল প্রশাসন 

আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে নিউ ইয়র্কে ব্যবসা হারাবেন ট্রাম্প!

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবসায় প্রতারণার অভিযোগে মামলার শুনানি হচ্ছে সোমবার। নিউ ইয়র্ক সিটিতে ট্রাম্প টাওয়ার থেকে দু’এক মাইল দক্ষিণে একজন বিচারক এই শুনানি করবেন। অভিযোগ আছে, মিথ্যা কথা বলে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনে ব্যবসা করেছেন ট্রাম্প। এ জন্য তার ও তার পরিবারের এই ব্যবসা ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে লাখ লাখ ডলার দেয়া লাগতে পারে সরকারকে। মামলায় নিউ ইয়র্কের এটর্নি জেনারেল লেতিতিয়া জেমস যুক্তি তুলে ধরবেন যে, ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আর্থিক বিবরণীতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলে বিপুল পরিমাণের অর্থের মালিক হয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প নিজে এবং তার পরিবারের ব্যবসার সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন।

এসব নিয়ে তিন বছর তদন্ত করেছেন লেতিতিয়া জেমস। তিনি হিসাব কষে দেখেছেন, যে অর্থ সরকারকে ফাঁকি দিয়েছেন ট্রাম্প, সেজন্য তার কাছে কমপক্ষে ২৫ কোটি ডলার পাওনা রয়েছে। তিন বছরের ওই তদন্তে লেতিতিয়া জেমস দেখতে পেয়েছেন যে, ট্রাম্প তার ২৩টি প্রপার্টি এবং লাখ লাখ এমনকি শত শত কোটি ডলারের সম্পদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। অনুকূলে ঋণ পাওয়ার জন্য এসব মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেছেন।

তার প্রকৃত যে সম্পদ তার চেয়ে অনেক বেশি করে দেখিয়েছেন সম্পদের মূল্য। এটা হবে বেঞ্চ ট্রায়াল। এর অর্থ সেখানে কোনো জুরি থাকবে না। এক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আর্থার এঙ্গোরন এই মামলায় সভাপতিত্ব করবেন এবং তিনি একাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই মামলায় যদি ট্রাম্পকে দোষী পাওয়া যায়, এটা সিভিল কেস হওয়ার কারণে তাকে জেলে পাঠানো হবে না। এমনকি তাকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে না।

এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, তা ট্রাম্পের জন্য ভাল নয়। গত মঙ্গলবার প্রতারণার দায়ে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছেন বিচারক আর্থার এঙ্গোরন। তিনি বলেছেন, যেসব ডকুমেন্ট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে প্রমাণ হিসেবে, তাতে আর্থিক বিবরণীতে ত্রুটি পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেছেন, ট্রাম্প যা করছেন তা ফ্যান্টাসি দুনিয়ার, বাস্তব দুনিয়ার সঙ্গে তা যায় না। এঙ্গোরন তার রায়ে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রতারণামূলক আর্থিক বিবরণীর ‘অভিপ্রায় এবং বস্তুগত কিছু উপাদানের’ বিষয়ে প্রমাণ সরবরাহ করতে হবে এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে। এর অর্থ ট্রাম্প তার আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধিতে যেসব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন সে বিষয়ে প্রমাণ দিতে হবে।

এরই মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক ট্রাম্পসহ ট্রাম্পকে নাটকীয়ভাবে শাস্তি দিয়েছেন বিচারক। তাদের ব্যবসায়িক সনদ বাতিল করা হবে। ফলে নিউ ইয়র্কে তাদের ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে যদি তাকে সোমবারের শুনানিতে জরিমানা করা হয়। এটর্নি জেনারেলের অফিস এমন সব প্রমাণ হাজির করার কথা, যার ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প পরিবারের লভ্যাংশ থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে। অর্থাৎ তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যে লাভ করেছেন তা ত্যাগ করতে বলা হতে পারে। লেতিতিয়া জেমস যুক্তি দেবেন যে, প্রতারণামূলক আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করে ট্রাম্প ঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণ দিয়ে তিনি মিয়ামিতে গলফ ক্লাব, শিকাগোতে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ওল্ড পোস্ট অফিস ভবন কিনেছেন। এসবই করা হয়েছে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে।

//এসআর//