১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শান্তদের বোলিং পিচ লঙ্কানদের ব্যাটিং স্বর্গ

বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই হার দেখছে বাংলাদেশ। এরমধ্যেই লিডের দেখা পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এখনও তাদের হাতে রয়েছে আটটি উইকেট। ব্যাটিং স্বর্গে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয় তা চোখে আঙুল দিয়ে শান্তদের দেখিয়ে দিচ্ছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ২৯০ রান করেছে বাংলাদেশ। তাতে ৪৩ রানে এগিয়ে আছে দলটি। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৪৭ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশকে হতাশা উপহার দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন পাথুম নিসাঙ্কা। অপরাজিত ১৪৬ রানে দিন শেষ করেন এই ব্যাটসম্যান। নিসাঙ্কা শুরু থেকেই দাপট দেখান-১৮টি চারের ঝলকে তিনি তার চমৎকার ইনিংসটি গড়েন এবং দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে ১৯৪ রানের জুটি গড়েন। এর আগে ওপেনার লাহিরু উদারার সঙ্গে গড়েছিলেন ৮৮ রানের জুটি। চান্দিমাল অবশ্য অল্পের জন্য শতক মিস করেন। শেষ সেশনে যখন তার স্কোর ৯০, তখন গ্লাভসে লেগে বল উঠে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটকিপারের হাতে। এই উইকেটটি ছিল বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসানের প্রথম সাফল্য, একই সঙ্গে এটি ছিল লিটন দাসের ১১৪তম ডিসমিসাল। তাতে মুশফিকুর রহিমকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল উইকেটকিপার হয়ে ওঠেন তিনি।
চান্দিমালের বিদায়ের পর প্রভাথ জয়সুরিয়া নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে দিনটা শেষ করে দেন। ১৩ বল মোকাবিলা করে ৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।
এর আগে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কান দুই ওপেনার পাথুম নিশানকা ও লাহিদু উদারা খেলতে থাকেন অনায়াসে। দ্রুত রান আনতে থাকেন দুজন। তবে লাঞ্চ বিরতির ঠিক পর ৪০ রান করে লাহিরু উদারাকে ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম। তবে সাবলীলভাবেই খেলতে থাকেন নিসাঙ্কা। সকালে শেষ দুই উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ২৭ রান যোগ করে বাংলাদেশ। যার বেশিরভাগই নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তবে ৮ উইকেট ২২০ রান নিয়ে শুরুর পর দিনের চতুর্থ ওভারে আসিতা ফার্নেন্দো এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ইবাদত হোসেনকে। ৪ রান করে আউট হন তিনি। সোনাল দিনুশার বলে মারতে গিয়ে তাইজুল আউট হলে ২৪৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। কন্ডিশন ও পরিস্থিতি বিচারে ৬০ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন তাইজুল। শেষ দুই উইকেট জুটিতে ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানাকে নিয়ে ৩৩ রান যোগ করেন তাইজুল। শেষ তিন উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ যোগ করতে পারে ৫০ রান।
দিনের খেলা গণমাধ্যমে এসেছিলেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। সেখানে উইকেটের আচরণে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের এই প্রধান কোচ। সিমন্স বলেন, ‘উইকেট এখন ব্যাটসম্যানদের (ব্যাটিংয়ের জন্য)। প্রথম দিন উইকেট কিছুটা থেমেছে। গতকালকে অনেক বেটার ছিল। গতকাল দেখেছেন প্রথম দিনের মতেহা অত টার্ন ছিল না। ব্যাটসম্যানরাও দারুণ ব্যাট করেছে। টেস্ট ক্রিকেট এরকমই মাঝেমধ্যে।’ উইকেটের দায় দেখলেও ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করে নিলেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘আসলে যে ট্রিকটা আমরা মিস করেছি তা হচ্ছে আমরা বেশি বড় জুটি গড়তে পারিনি। যার ফলে ২-৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাট করার সুযোগ পাইনি। এটা আমাদের দিকে ফিরে এসেছে। প্রথমদিনের ব্যাটিং এবং জুটি আমাদেরকে বেশ ভুগিয়েছে। (ব্যাটসম্যানদের ইনিংস লম্বা করতে না পারা) এই কারণেই গতকালকে আমরা ব্যাট করছি না। আমার মনে হয় অন্তত ২-৩ জন ব্যাটসম্যানের উচিত ছিল লম্বা ইনিংস খেলা এবং দলের রান বাড়িয়ে নেওয়া। নিসাঙ্কা এটা করে দেখিয়েছে। আশা করি আমরা এটা শিখে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেরা বড় স্কোর করতে পারব।’-যোগ করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ইনিংস: ২৪৭
শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ৭৮ ওভারে ২৯০/২ (নিসাঙ্কা ১৪৬*, উদারা ৪০, চান্দিমাল ৯৩, জায়াসুরিয়া ৫*; ইবাদত ৯-০-৩৩-০, তাইজুল ৩২-২-৯০-১, নাহিদ ১২-১-৫৪-০, মিরাজ ১৬-১-৫৭-০, নাঈম ৮-২-৪৫-১, মুমিনুল ১-০-৭-০)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে এলপি গ্যাসের হাহাকার

শান্তদের বোলিং পিচ লঙ্কানদের ব্যাটিং স্বর্গ

আপডেট সময় : ১০:০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই হার দেখছে বাংলাদেশ। এরমধ্যেই লিডের দেখা পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এখনও তাদের হাতে রয়েছে আটটি উইকেট। ব্যাটিং স্বর্গে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয় তা চোখে আঙুল দিয়ে শান্তদের দেখিয়ে দিচ্ছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ২৯০ রান করেছে বাংলাদেশ। তাতে ৪৩ রানে এগিয়ে আছে দলটি। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৪৭ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশকে হতাশা উপহার দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন পাথুম নিসাঙ্কা। অপরাজিত ১৪৬ রানে দিন শেষ করেন এই ব্যাটসম্যান। নিসাঙ্কা শুরু থেকেই দাপট দেখান-১৮টি চারের ঝলকে তিনি তার চমৎকার ইনিংসটি গড়েন এবং দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে ১৯৪ রানের জুটি গড়েন। এর আগে ওপেনার লাহিরু উদারার সঙ্গে গড়েছিলেন ৮৮ রানের জুটি। চান্দিমাল অবশ্য অল্পের জন্য শতক মিস করেন। শেষ সেশনে যখন তার স্কোর ৯০, তখন গ্লাভসে লেগে বল উঠে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটকিপারের হাতে। এই উইকেটটি ছিল বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসানের প্রথম সাফল্য, একই সঙ্গে এটি ছিল লিটন দাসের ১১৪তম ডিসমিসাল। তাতে মুশফিকুর রহিমকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল উইকেটকিপার হয়ে ওঠেন তিনি।
চান্দিমালের বিদায়ের পর প্রভাথ জয়সুরিয়া নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে দিনটা শেষ করে দেন। ১৩ বল মোকাবিলা করে ৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।
এর আগে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কান দুই ওপেনার পাথুম নিশানকা ও লাহিদু উদারা খেলতে থাকেন অনায়াসে। দ্রুত রান আনতে থাকেন দুজন। তবে লাঞ্চ বিরতির ঠিক পর ৪০ রান করে লাহিরু উদারাকে ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম। তবে সাবলীলভাবেই খেলতে থাকেন নিসাঙ্কা। সকালে শেষ দুই উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ২৭ রান যোগ করে বাংলাদেশ। যার বেশিরভাগই নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তবে ৮ উইকেট ২২০ রান নিয়ে শুরুর পর দিনের চতুর্থ ওভারে আসিতা ফার্নেন্দো এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ইবাদত হোসেনকে। ৪ রান করে আউট হন তিনি। সোনাল দিনুশার বলে মারতে গিয়ে তাইজুল আউট হলে ২৪৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। কন্ডিশন ও পরিস্থিতি বিচারে ৬০ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন তাইজুল। শেষ দুই উইকেট জুটিতে ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানাকে নিয়ে ৩৩ রান যোগ করেন তাইজুল। শেষ তিন উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ যোগ করতে পারে ৫০ রান।
দিনের খেলা গণমাধ্যমে এসেছিলেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। সেখানে উইকেটের আচরণে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের এই প্রধান কোচ। সিমন্স বলেন, ‘উইকেট এখন ব্যাটসম্যানদের (ব্যাটিংয়ের জন্য)। প্রথম দিন উইকেট কিছুটা থেমেছে। গতকালকে অনেক বেটার ছিল। গতকাল দেখেছেন প্রথম দিনের মতেহা অত টার্ন ছিল না। ব্যাটসম্যানরাও দারুণ ব্যাট করেছে। টেস্ট ক্রিকেট এরকমই মাঝেমধ্যে।’ উইকেটের দায় দেখলেও ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করে নিলেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘আসলে যে ট্রিকটা আমরা মিস করেছি তা হচ্ছে আমরা বেশি বড় জুটি গড়তে পারিনি। যার ফলে ২-৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাট করার সুযোগ পাইনি। এটা আমাদের দিকে ফিরে এসেছে। প্রথমদিনের ব্যাটিং এবং জুটি আমাদেরকে বেশ ভুগিয়েছে। (ব্যাটসম্যানদের ইনিংস লম্বা করতে না পারা) এই কারণেই গতকালকে আমরা ব্যাট করছি না। আমার মনে হয় অন্তত ২-৩ জন ব্যাটসম্যানের উচিত ছিল লম্বা ইনিংস খেলা এবং দলের রান বাড়িয়ে নেওয়া। নিসাঙ্কা এটা করে দেখিয়েছে। আশা করি আমরা এটা শিখে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেরা বড় স্কোর করতে পারব।’-যোগ করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ইনিংস: ২৪৭
শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ৭৮ ওভারে ২৯০/২ (নিসাঙ্কা ১৪৬*, উদারা ৪০, চান্দিমাল ৯৩, জায়াসুরিয়া ৫*; ইবাদত ৯-০-৩৩-০, তাইজুল ৩২-২-৯০-১, নাহিদ ১২-১-৫৪-০, মিরাজ ১৬-১-৫৭-০, নাঈম ৮-২-৪৫-১, মুমিনুল ১-০-৭-০)