০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঋতুপর্ণার মায়ের পাশে তারেক রহমান

সবুজ বাংলায় ভিডিও প্রচারের পর ‘গোল্ডেন গার্ল’ খ্যাত জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার ক্যান্সার আক্রান্ত মা ভূজোপতি চাকমার পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল রাঙামাটির কাউখালীর দুর্গম পাহাড়ী এলাকা মগাছড়ি গ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে।

ভালো মানুষ হওয়ার জন্য বড় কিছু নয়, একটু মানবতাই যথেষ্ট। মানবতা হচ্ছে সেই আলো, যা অন্ধকার পৃথিবীকেও আলোকিত করতে পারে ভালোবাসা আর দয়ার শক্তিতে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘মানবতার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই।’ নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন, ‘মানবতা নিঃস্বের মুখে হাসি ফোটাতে জানে, বিত্তের দরকার হয় না।’

এই কথাগুলোর অবতারণার কারণ বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অপরিহার্য ও তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনঘাতী ক্যান্সার আক্রান্ত মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেকের নিদের্শনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ গতকাল রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাহাড়ী গ্রাম মগাছড়িতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এবং আমরা বিএনপি পরিবারের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমনের উপস্থিতিতে ঋতুপর্ণার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধি দলটি। এসময় সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রতি তারেকের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন রিজভী। সেই সঙ্গে তিনি তারেকের পক্ষ থেকে ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমার হাতে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য রাজীব জাফর চৌধুরী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন প্রমুখ।

টিভির পর্দায় প্রায়ই দেখা যায় ঋতুপর্ণার হাসিখুশি-উচ্ছ্বল চেহারা। কিন্তু অনেকেই জানে না তার অন্তরে কি গভীর বেদনা লুকিয়ে আছে! ২০১৫ সালে এই ক্যান্সারেই মারা যান ঋতুপর্ণার বাবা বরজ বাঁশি চাকমা, যার অনুপ্রেরণাতেই খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠেন ঋতু। ২০২২ সালে দুঃখজনকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ঋতুপর্ণার প্রাণপ্রিয় ছোট ভাই পাবর্ণ চাকমা। এখানেই শেষ নয়, কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমা-ও (যদিও তাকে এখনও তার রোগের বিষয়টি জানানো হয়নি)! এত দুঃখ, এত উদ্বেগ নিয়েও দিনের পর দিন ঋতুপর্ণা দেশের জন্য খেলে যাচ্ছেন, স্বীয় নৈপুণ্যে প্রজ্জ্বলিত হচ্ছেন, দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে ভুমিকা রাখছেন।

২১ বছর বয়সী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ঋতুপর্ণা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৩১ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৩টি। কদিন আগেই এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে তিনি গ্রুপ পর্বে অসাধারণ খেলেন এবং ৩টি গোল করে দলকে অপরাজিত গ্রুপসেরা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পাহাড়ীকন্যা ঋতুপর্ণা যখন লাল-সবুজের জার্সিতে খেলে দেশকে এশিয়ার কাতারে নিয়ে যাচ্ছেন, তখনই দেশের এই কৃতী ফুটবলারের মা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অর্থাভাবে করাতে পারছেন না চিকিৎসা! ঋতুর তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ফুটবল থেকে আয় করা অর্থ দিয়ে চলে তার পরিবার। সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেয়া হয় ঋতুদের গ্রামের প্রত্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা হবে, ঋতুকে নতুন ঘর দেয়া হবে। বেকার বোনদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এসব আশ্বাসের কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। মায়ের চিকিৎসা সহায়তাসহ ঋতুর পরিবারের সংকট নিরসনে দেশের মানুষসহ সরকারি সহায়তা চেয়েছিলেন। কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে ব্যতিক্রম তারেক রহমান। মানবতার ও বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ঠিকই পাশে দাঁড়িয়েছেন ঋতু ও তার মায়ের।

লেফট উইঙ্গার পজিশনে খেলা ঋতুকে অনেকেই ‘বাংলাদেশের মেসি’ বললেও ঋতুর পছন্দ মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনা্েডাকে। জেঠিমা নিলোবানু চাকমা বাংলা সিনেমা দেখতে খুব পছন্দ করতেন। ভারতের কোলকাতার নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তার অন্ধভক্ত তিনি। ২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর যখন তার ভাইয়ের একটি ফুটফুটে মেয়ে হলো, তিনি তখন মায়াকাড়া চেহারার ওই শিশুকন্যার নাম রাখলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। জেঠিমার হয়তো সুপ্ত বাসনা ছিল-একদিন তার ভাতিজি নামকরা নায়িকা হবে। সময়ের পরিক্রমায় ঋতুপর্ণা নামকরা হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু নায়িকা নয়, ফুটবলার! তাছাড়া ঋতুর নিজেরও নায়িকা হওয়ার কোন বাসনা নেই।

বাবার উৎসাহেই ফুটবল জগতে আসা ঋতুর। যখন খেলা শুরু করেন, তখন ঋতুর এলাকার লোকজন তার ফুটবল খেলা নিয়ে নেতিবাচক কথা বলতো। এদিকে অভাব-অনটনের সংসার। তবে কৃষক বাবা মেয়েকে সমর্থন-উৎসাহ দিতেন। মেয়েকে ধার করে খেলতে যাবার যাতায়াত ভাড়া এনে দিতেন অনেক কষ্টে। বাবার স্বপ্ন ছিল, মেয়ে একদিন জাতীয় দলে খেলবে। ঠিকই খেলেছে তার মেয়ে। কিন্তু সেটা তিনি দেখে যেতে পারেননি!

২০১২ সালে ঋতুপর্ণা পড়েন তৃতীয় শ্রেণিতে। বয়স মাত্র ৯। ওই বয়সেই মঘাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে খেলে ফেললেন বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল। সেবার তার স্কুল রানার্সআপ হয়েছিল। এর পরের দু’বছরও খেলেন। ২০১৩ আসরে তার স্কুল হয়েছিল তৃতীয়। ভাল খেলার সুবাদে ২০১৭ সালে জাতীয় অনুর্ধ-১৫ দলে ডাক পান। এরপর অনুর্ধ-১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ দলেও খেলেন। এরপর তো সিনিয়র বা জাতীয় দলেও নিয়মিতই ছড়িয়ে যাচ্ছেন আলো।

ক্যান্সার আক্রান্ত প্রাণপ্রিয় মাকে নিয়ে যে উদ্বেগ প্রতিনিয়ত নিজের মধ্যে বহন করে চলছিলেন ঋতুপর্ণা (এখন ভুটানের লিগে খেলতে সে দেশে অবস্থান করছেন), বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অর্থ সহায়তার সুসমাচারটি নিশ্চয়ই অনেক স্বস্তি দেবে তাকে।

আরকে/সবা

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

ঋতুপর্ণার মায়ের পাশে তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

ভালো মানুষ হওয়ার জন্য বড় কিছু নয়, একটু মানবতাই যথেষ্ট। মানবতা হচ্ছে সেই আলো, যা অন্ধকার পৃথিবীকেও আলোকিত করতে পারে ভালোবাসা আর দয়ার শক্তিতে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘মানবতার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই।’ নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন, ‘মানবতা নিঃস্বের মুখে হাসি ফোটাতে জানে, বিত্তের দরকার হয় না।’

এই কথাগুলোর অবতারণার কারণ বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অপরিহার্য ও তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার জীবনঘাতী ক্যান্সার আক্রান্ত মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেকের নিদের্শনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ গতকাল রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাহাড়ী গ্রাম মগাছড়িতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এবং আমরা বিএনপি পরিবারের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমনের উপস্থিতিতে ঋতুপর্ণার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধি দলটি। এসময় সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রতি তারেকের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন রিজভী। সেই সঙ্গে তিনি তারেকের পক্ষ থেকে ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমার হাতে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য রাজীব জাফর চৌধুরী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন প্রমুখ।

টিভির পর্দায় প্রায়ই দেখা যায় ঋতুপর্ণার হাসিখুশি-উচ্ছ্বল চেহারা। কিন্তু অনেকেই জানে না তার অন্তরে কি গভীর বেদনা লুকিয়ে আছে! ২০১৫ সালে এই ক্যান্সারেই মারা যান ঋতুপর্ণার বাবা বরজ বাঁশি চাকমা, যার অনুপ্রেরণাতেই খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠেন ঋতু। ২০২২ সালে দুঃখজনকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ঋতুপর্ণার প্রাণপ্রিয় ছোট ভাই পাবর্ণ চাকমা। এখানেই শেষ নয়, কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমা-ও (যদিও তাকে এখনও তার রোগের বিষয়টি জানানো হয়নি)! এত দুঃখ, এত উদ্বেগ নিয়েও দিনের পর দিন ঋতুপর্ণা দেশের জন্য খেলে যাচ্ছেন, স্বীয় নৈপুণ্যে প্রজ্জ্বলিত হচ্ছেন, দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে ভুমিকা রাখছেন।

২১ বছর বয়সী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ঋতুপর্ণা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৩১ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৩টি। কদিন আগেই এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে তিনি গ্রুপ পর্বে অসাধারণ খেলেন এবং ৩টি গোল করে দলকে অপরাজিত গ্রুপসেরা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পাহাড়ীকন্যা ঋতুপর্ণা যখন লাল-সবুজের জার্সিতে খেলে দেশকে এশিয়ার কাতারে নিয়ে যাচ্ছেন, তখনই দেশের এই কৃতী ফুটবলারের মা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অর্থাভাবে করাতে পারছেন না চিকিৎসা! ঋতুর তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ফুটবল থেকে আয় করা অর্থ দিয়ে চলে তার পরিবার। সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেয়া হয় ঋতুদের গ্রামের প্রত্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা হবে, ঋতুকে নতুন ঘর দেয়া হবে। বেকার বোনদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এসব আশ্বাসের কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। মায়ের চিকিৎসা সহায়তাসহ ঋতুর পরিবারের সংকট নিরসনে দেশের মানুষসহ সরকারি সহায়তা চেয়েছিলেন। কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে ব্যতিক্রম তারেক রহমান। মানবতার ও বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ঠিকই পাশে দাঁড়িয়েছেন ঋতু ও তার মায়ের।

লেফট উইঙ্গার পজিশনে খেলা ঋতুকে অনেকেই ‘বাংলাদেশের মেসি’ বললেও ঋতুর পছন্দ মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনা্েডাকে। জেঠিমা নিলোবানু চাকমা বাংলা সিনেমা দেখতে খুব পছন্দ করতেন। ভারতের কোলকাতার নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তার অন্ধভক্ত তিনি। ২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর যখন তার ভাইয়ের একটি ফুটফুটে মেয়ে হলো, তিনি তখন মায়াকাড়া চেহারার ওই শিশুকন্যার নাম রাখলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। জেঠিমার হয়তো সুপ্ত বাসনা ছিল-একদিন তার ভাতিজি নামকরা নায়িকা হবে। সময়ের পরিক্রমায় ঋতুপর্ণা নামকরা হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু নায়িকা নয়, ফুটবলার! তাছাড়া ঋতুর নিজেরও নায়িকা হওয়ার কোন বাসনা নেই।

বাবার উৎসাহেই ফুটবল জগতে আসা ঋতুর। যখন খেলা শুরু করেন, তখন ঋতুর এলাকার লোকজন তার ফুটবল খেলা নিয়ে নেতিবাচক কথা বলতো। এদিকে অভাব-অনটনের সংসার। তবে কৃষক বাবা মেয়েকে সমর্থন-উৎসাহ দিতেন। মেয়েকে ধার করে খেলতে যাবার যাতায়াত ভাড়া এনে দিতেন অনেক কষ্টে। বাবার স্বপ্ন ছিল, মেয়ে একদিন জাতীয় দলে খেলবে। ঠিকই খেলেছে তার মেয়ে। কিন্তু সেটা তিনি দেখে যেতে পারেননি!

২০১২ সালে ঋতুপর্ণা পড়েন তৃতীয় শ্রেণিতে। বয়স মাত্র ৯। ওই বয়সেই মঘাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে খেলে ফেললেন বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল। সেবার তার স্কুল রানার্সআপ হয়েছিল। এর পরের দু’বছরও খেলেন। ২০১৩ আসরে তার স্কুল হয়েছিল তৃতীয়। ভাল খেলার সুবাদে ২০১৭ সালে জাতীয় অনুর্ধ-১৫ দলে ডাক পান। এরপর অনুর্ধ-১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ দলেও খেলেন। এরপর তো সিনিয়র বা জাতীয় দলেও নিয়মিতই ছড়িয়ে যাচ্ছেন আলো।

ক্যান্সার আক্রান্ত প্রাণপ্রিয় মাকে নিয়ে যে উদ্বেগ প্রতিনিয়ত নিজের মধ্যে বহন করে চলছিলেন ঋতুপর্ণা (এখন ভুটানের লিগে খেলতে সে দেশে অবস্থান করছেন), বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অর্থ সহায়তার সুসমাচারটি নিশ্চয়ই অনেক স্বস্তি দেবে তাকে।

আরকে/সবা