চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ (পয়োনিষ্কাশন) প্রকল্প বর্তমানে পাঁচটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এগুলো হল-রাস্তা কর্তনে অনুমতির সীমাবদ্ধতা: পাইপলাইন বসাতে নগরীর সড়ক কাটতে হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) থেকে অনুমতি নিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে চসিকের সীমিত অনুমতির কারণে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে।
সরকারি অর্থ বরাদ্দ কম: চলতি অর্থ বছরে সরকার থেকে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৬২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের গতি বাড়াতে আরো ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হলেও তা এখনও প্রক্রিয়াধীন।
নগরীর ঘনবসতি ও সরু রাস্তা: আগ্রাবাদ, মাদারবাড়ি, পাঠানটুলী, গোসাইলডাঙ্গা ও অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাইপলাইন বসানো কঠিন। সরু রাস্তার কারণে যন্ত্রপাতি পরিবহন ও পথচারীদের চলাচলের সুবিধা বিবেচনা করে কাজ করতে হচ্ছে।
বে-টার্মিনালে চ্যানেল নির্মাণে বিলম্ব: হালিশহরে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সংলগ্ন চ্যানেল নির্মাণের দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের। চ্যানেলটি ২০২৭ সালে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও স্যুয়ারেজ প্রকল্প ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কারণে বিলম্ব প্রকল্পের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।
রেলওয়ের ভূমি ব্যবহারে অনুমতির বিলম্ব: প্রকল্পের প্রধান ট্রাঙ্কলাইন স্থাপনের জন্য হালিশহরের বড়পুল চৌচালা সড়কের কিছু অংশ অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে রেল থেকে অনুমতি প্রয়োজন। দীর্ঘ ১১ মাসেও অনুমতি না পাওয়ায় কাজের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্প ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ দুই ভাগে চলছে—পাইপলাইন বসানো ও হালিশহরে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ। মোট ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হবে, যার মধ্যে ১৮১ কিলোমিটার অগভীর। বর্তমানে অগভীর পাইপলাইন বসানো হয়েছে ৯৭ কিলোমিটার। ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে সিভিল কাজের ৮৫% এবং ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের ৪০% সম্পন্ন।
প্রকল্পের অধীনে ২৮ হাজার গৃহে পয়োসংযোগ স্থাপন করা হবে; ইতিমধ্যে ১২ হাজার গৃহে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মোট অগ্রগতি ৬৯%।
ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নগরীর ২০ লাখ মানুষ স্যুয়ারেজ সুবিধার আওতায় আসবে। মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।
ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “পাঁচ চ্যালেঞ্জের কারণে কাজের গতি বাড়ানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, “বর্ষা মৌসুম শেষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৭০টি সড়কে উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ হবে। তাই ওয়াসা ও চসিক যৌথ কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করেছে, যাতে রাস্তা কাটার অনুমতি দ্রুত দেওয়া যায়।”
এমআর/সবা























