নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি অফিসের সূত্রে জানা গেছে, হলুদ চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হলুদ শুধু তরিতরকারী রান্নার উপকরণ নয়, এতে রয়েছে নানা চিকিৎসা-শাস্ত্রীয় গুণাবলী, যা স্বাস্থ্য ও ঔষধি প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ আজিজুল ও মোঃ আশরাফুল ইসলাম সরদার জানান, বৈশাখ বা জৈষ্ঠ মাসে হলুদ বীজ রোপন করা হয় এবং মাঘ মাসে হলুদ উত্তোলন করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে হলুদ উৎপাদনে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ৮০ মনেরও বেশি ফলন আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি মন হলুদ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করলে ৮০ মন হলুদের মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার লাভ পাওয়া সম্ভব। এই কারণে হলুদ এখন কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নওগাঁ কৃষি অফিসার সাবাব ফারহান বলেন, “হলুদ চাষে লাভজনক দিকগুলো দেখেই কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের আশা, ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষক এই ফসলের দিকে মনোযোগ দেবেন।” তিনি আরও বলেন, কৃষি দপ্তর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করছে যাতে তারা উৎপাদন বাড়িয়ে লাভ নিশ্চিত করতে পারেন।
কৃষকরা জানিয়েছেন, হলুদের পাশাপাশি তারা অন্যান্য সহায়ক ফসল যেমন আদা, মরিচ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছও চাষ করছেন। এতে পরিবার ও স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোসহ অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। তারা আশাবাদী, ভালো ফলন পেলে পরিবারের আয়ের পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়তা হবে।
উৎসবমুখর রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন কৃষি প্রদর্শনীতে হলুদের চাষ ও ব্যবহার বিষয়ে কৃষকদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়াও অনেক কৃষক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে হলুদ গুঁড়ো বা প্যাকেটজাত বিক্রির পরিকল্পনা করছেন, যা ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণ ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
নতুন মৌসুমে কৃষকরা আরও বেশি জমিতে হলুদ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন। নওগাঁ কৃষি দপ্তরও এই চাষকে উৎসাহিত করতে উৎপাদনশীল বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। ফলে হলুদ চাষ বর্তমানে বদলগাছী এলাকার কৃষকদের কাছে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক লাভের উৎস নয়, বরং স্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যগত চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
এমআর/সবা























