০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার ৫ আসনে ১৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, বৈধ ৩০

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এসব সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দলীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, হলফনামায় স্বাক্ষরের ঘাটতি, সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, টিআইএন সনদে অসঙ্গতি, ঋণখেলাপি হওয়াসহ বিভিন্ন আইনগত ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আসনভিত্তিক মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) এ আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রথমে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সহযোগী অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে মোট ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, জামায়াতে ইসলামীর মাজেদুর রহমান, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এলডিপির শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদীর পরমানন্দ দাস ও আমজনতা দলের কাওছর আজম হান্নু।

গাইবান্ধা-২ (সদর) এ আসনে ৮ জনের মধ্যে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বৈধ ঘোষণা করা হয় ৫ জনকে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদীর আহসানুল হক ও জনতার দলের শাহেদুর রহমান।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) এ আসনে দলীয় কাগজপত্র ও সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লবী বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম আওলাদ হোসাইন।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) এ আসনে সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতিয়ারুল রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) এ আসনে দলীয় কাগজপত্রে ত্রুটি ও ঋণখেলাপির অভিযোগে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির ফারুক আলম সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল ওয়ারেছ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের আজিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদীর রাহেলা খাতুন, নাহিদুজ্জামান নিশাদ ও এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩৬ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৬৭৫টি এবং ভোটকক্ষ ৪ হাজার ১০১টি।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

গাইবান্ধার ৫ আসনে ১৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, বৈধ ৩০

আপডেট সময় : ০১:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এসব সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দলীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, হলফনামায় স্বাক্ষরের ঘাটতি, সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, টিআইএন সনদে অসঙ্গতি, ঋণখেলাপি হওয়াসহ বিভিন্ন আইনগত ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আসনভিত্তিক মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) এ আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রথমে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সহযোগী অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে মোট ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, জামায়াতে ইসলামীর মাজেদুর রহমান, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এলডিপির শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদীর পরমানন্দ দাস ও আমজনতা দলের কাওছর আজম হান্নু।

গাইবান্ধা-২ (সদর) এ আসনে ৮ জনের মধ্যে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বৈধ ঘোষণা করা হয় ৫ জনকে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদীর আহসানুল হক ও জনতার দলের শাহেদুর রহমান।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) এ আসনে দলীয় কাগজপত্র ও সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লবী বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম আওলাদ হোসাইন।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) এ আসনে সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতিয়ারুল রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) এ আসনে দলীয় কাগজপত্রে ত্রুটি ও ঋণখেলাপির অভিযোগে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির ফারুক আলম সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল ওয়ারেছ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের আজিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদীর রাহেলা খাতুন, নাহিদুজ্জামান নিশাদ ও এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩৬ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৬৭৫টি এবং ভোটকক্ষ ৪ হাজার ১০১টি।